জাতীয় কবিতা মঞ্চ আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে  কবি কাজী নজরুলের  ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

আরব আমিরাতে প্রতিনিধি: সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির অভিজাত হোটেল সুইস গার্ডেন হল রুমে গত ২৫ শে মে ২০২২ ইং ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯বঙ্গাব্দ সন্ধ্যায় কবির স্মৃতি স্মরণে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনী ও সাহিত্যে অবদান সম্পর্কে আলোচনা,রক্তের বর্ণমালা বইয়ের মোড়ক উম্মোচন,কবিতা আবৃত্তি ও আলোচনা সভা।

এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট কবি, কলামিস্ট ও গীতিকার মুহাম্মদ মুসা অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ, সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা লেখক ব্যাংকার মোহাম্মদ জাফর উদ্দিন ভূঁইয়া প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন জাতীয় কবিতা মঞ্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি মানবতার কবি ফখরুল ইসলাম খান সি আই পি।

প্রধান বক্তা শেখ খলিফা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজ এর অধ্যাপক আবু তাহের বিশেষ অতিথি, জনতা ব্যাংক লিমিটেড আবুধাবি শাখার ম্যানেজার মোখলেসুর রহমান, বাংলাদেশ সমিতির যুগ্ন সম্পাদক প্রকৌশলী আশিষ বড়ুয়া যশোর সমিতির সম্মানিত সভাপতি বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি আবুধাবি সহ সভাপতি আব্দুস সামাদ, বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবির গণসংযোগ কর্মকর্তা কবি ও লেখক মু ফরহাদ হুসাইন বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা র সহসভাপতি সরোয়ার আজম, এস্কান্দার, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি মির্জা মোহাম্মদ আলী, কবি সরোয়ার রানা, ইমরান হোসাইন,আক্তার হোসেন পারভেজ, মুজিবুল হক, আল আমিন জয়,বাবু দীপক চন্দ্র দাস,এনামুল হাসান,দীপক রানা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের সূচনা পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা ইমরান হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কবি ও ছড়াকার মির্জা মোহাম্মদ আলী, সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর অতিথিবৃন্দ জন্মদিনে কবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কবির জীবন,সাহিত্যে অবদান এর ওপর আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশিষ্ট শিল্পপতি মানবতার কবি ফকরুল ইসলাম খান বলেন “কবি নজরুল তার প্রত্যয়ী ও বলিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে এদেশের মানুষকে মুক্তিসংগ্রামে অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করেছিলেন। তার গান ও কবিতা সব সময় যে কোনো স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সত্য ও ন্যায়ের পথে তার অবিচল অভিব্যক্তি আমাদের অনুপ্রেরণা যোগায় সত্য ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে” বক্তাগণ আরো বলেন ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ কবি কাজী নজরুল ইসলামের এ গানটি প্রতিবছর রমজানের শেষ দিন রেডিও-টিভিতে বেজে ওঠে। এ গান দিয়ে ঈদের খুশির বারতা প্রচার করা হয়।

এরকম আরও বহু কালজয়ী গান ও কবিতার স্রষ্টা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেম, দ্রোহ আর সাম্যের কবি বাংলায় সর্বোচ্চসংখ্যক তিন সহস্রাধিক গানের স্রষ্টা। নিজস্ব ধারার সঙ্গীত রচনা করেছেন তিনি। প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্ভাসিত কবি মানুষের সংকীর্ণতা, দীনতা, মূঢ়তা ও নীচতাকে মনেপ্রাণে ঘৃণা করেছেন। শোষিত মানুষের মুক্তির প্রথম বার্তাবাহক কবি নজরুলের লেখা কবিতা-গান এদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ। তিনি কবিতা, গান ও উপন্যাসে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অনন্ত প্রেরণার উৎস নজরুল কোমল আর কঠিনে মেশানো এক অপূর্ব ব্যক্তিত্ব। প্রেমে পূর্ণ, বেদনায় নীল। আবার প্রতিবাদে ঊর্মিমাতাল। সভাপতি কবি ও কলামিস্ট মুহাম্মদ মুসা বলেন “আজ ১১ জ্যেষ্ঠ কবির ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। এ দিনটিতে আমরা প্রবাস থেকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় কবিকে স্মরণ করছি। সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, রাষ্ট্রীয় অনাচার-বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অগ্নিকণ্ঠ হয়ে তিনি লিখে গেছেন অসংখ্য কবিতা, গল্প, উপন্যাস, গান।

শতবর্ষ পেরিয়েও বর্তমান বাংলাদেশ ও বিশ্বপ্রেক্ষাপটে নজরুল সমান প্রাসঙ্গিক।তার অমর সৃষ্টিতে সবসময় বাংলাদেশ উজ্জ্বল। তাই তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি, বাংলার জাগরণ, মুক্তি ও স্বাধীনতার কবি। বাঙালির অনিঃশেষ এক প্রেরণার উৎস নজরুল-চেতনা” অনুষ্ঠান সাফল্যমন্ডিত করার জন্য কবি লেখক সাহিত্যিক সাংবাদিক শুভাকাঙ্ক্ষী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ববর্গের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ জানিয়ে বক্তব্য শেষে কবি নজরুল এর আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। আগত অতিথিবৃন্দের সম্মানার্থে নৈশভোজ এর পর অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা হয়।