খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো

হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার শেষে বাসায় ভালো আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনটি পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো এসেছে। চিকিৎসকের ভাষায়- ভয়ের কিছু নেই। মেডিকেল বোর্ডের যে শঙ্কা ছিল তার আভাস পাওয়া যায়নি স্বাস্থ্য পরীক্ষায়। দেহে খনিজের কিছুটা অসমতা দেখা দিয়েছিল। ডি হাইড্রেশেন বা শরীরে পানি শূন্যতা ছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক সময়ের আলোকে জানান, মূলত একাধিক কারণে বিএনপি চেয়ারপারসনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমত অনেকদিন ধরে থরো চেকআপ হয় না। দুর্বলতা বেড়ে গিয়েছিল। সিরোসিস নিয়ে বোর্ডের ভয় কাজ করছিল। তবে পরীক্ষায় ভয়ের কিছু লক্ষণ পাওয়া যায়নি। চেস্টের একটি টেস্ট করা হয়েছে। যেখানে খারাপ কোন উপাদান পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ইলেক্ট্ররাইল ইমব্যালেন্স হওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় উপাদান দিয়ে তা কাটিয়ে ওঠা হয়েছে। বর্তমানে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে। হিমোগ্লোবিন দশ এর ওপরে আছে। দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য খাবরে প্রোটিন বাড়ানো হয়েছে। অসুস্থতায় রোজা আপাতত রাখতে পারবেন না। হাসপাতালে থাকলে যেভাবে নিয়ম মেনে সব ওষুধ সেবন করেন, বাসায় তার কিছুটা ব্যত্যয় হয়। তাই এসবে জোর দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গুলশানের ফিরোজায় খালেদা জিযার বাসায় তোর ভাইবোন ও ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রায়ই যাওয়া আসা করেন। খালেদা জিয়ার জন্য পছন্দের খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। আর দলের পক্ষে শুধুমাত্র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেখা করার সুযোগ পান।

বুধবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে স্বাস্থ্যের নিয়মিত চেকআপ করান বিএনপি চেয়ারপারসন। বিকেলে গিয়ে সন্ধ্যায় তিনি ফের বাসায় ফিরে আসেন। এর আগে কয়েক দফায় খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও এবার তার প্রয়োজন পড়েনি।

এভারকেয়ার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে একটি মেডিকেল বোর্ড বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, দাঁত, চোখের সমস্যাসহ শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন।

জেল থেকে বাড়ি ফেরার এক বছর পর গত বছরের এপ্রিলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপির এই নেত্রী। ৫১ দিন পর বাড়ি ফেরার পর একই বছরের ১২ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত আবার তিনি একই হাসপাতালে যান। এরপর ১৩ নভেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮১ দিন হাসপাতালে থাকেন বিএনপি প্রধান। সে সময় তার দলের পক্ষ থেকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে নানা কর্মসূচি পালন করে। দাবি করা হয়, দেশের বাইরে না নিলে তাদের নেত্রীকে বাঁচানো যাবে না। কারণ তার যে রোগ, তার চিকিৎসা দেশে নেই।