আন্তঃবিভাগীয় গবেষণাকে গুরুত্ব দিতে হবে: যবিপ্রবি উপাচার্য

ফার্মেসী বিভাগের সংবর্ধনা ও নবীন বরণ
টাইমভিশন,যশোর: আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার প্রতি গুরুত্বারোপ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অনেক বিশ্ব মানের গবেষণাগার রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন বিভাগ যৌথ গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবনের সুযোগ রয়েছে। কারণ একার পক্ষে ফলপ্রসু কিছু করা সম্ভব হয় না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের গ্যালারিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ আয়োজিত সংবর্ধনা ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্বের পড়াশোনা ও গবেষণা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, আন্তঃবিভাগের মধ্যে এটি না হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এতে ভালো অবদান রাখতে পারেন না। যবিপ্রবিতে ফার্মেসী বিভাগ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ রয়েছে। আপনারা যদি একজন আরেক জনের সাথে যৌথ গবেষণা করতে পারেন, তাহলে দেশ ও জাতির জন্য অনেক অবদান রাখতে পারবেন। বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত জরুরি।

যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ঔষধসামগ্রী রপ্তানি করে বাংলাদেশ এখন অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। আমেরিকার বাজারেও আমাদের দেশীয় কোম্পানির ঔষধ ঢুকেছে। তবে বায়োকেমিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ফার্মাসিস্ট মিলে নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। সবার সমন্বয়ে কাজ করতে হবে, এখন একা কোনো কিছু করা প্রায় অসম্ভব।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহ আলম বলেন, কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার পর সেখান থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা তৈরি করতে অনেকে পেশাদার কিছু ডিগ্রি নেন। বিদেশে অনেকে ডাক্তারি বা ফার্মেসী থেকে পাশ করার পরও এমবিএ ডিগ্রি নেন। এতে তাঁরা পেশার জায়গায় ভালো সুবিধা পাচ্ছেন। বৈশি^ক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে হলে ইন্টার-ডিসিপ্লিনের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।

একুশে পদক-২০২২ প্রাপ্ত হওয়ায় অনুষ্ঠানে যবিপ্রবি উপাচার্যকে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। একইসঙ্গে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

যবিপ্রবির ফার্মেসী বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কিশোর মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল মজিদ, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব, ডিবিএল ফামাসিটিক্যালস লিমিডেটের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ কামরুল আলম, ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দেবেন্দ্রনাথ রায়, ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী আফিকুর রহমান অয়ন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আশরাফুজ্জামান জাহিদ, ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, ফারহানা ইসলাম, কিশোর সরকার, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, শাহীন সরকার, নাজমুল হাসান জিলানী, ইমরান হোসেনসহ বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থী মাহজাবিননেসা টুম্পা ও তাহমিম জামান মিশু। সন্ধ্যায় বিভাগটির আয়োজনে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এর আগে বিভাগটির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।