যশোরে ইসিজি বিভাগের প্রায় অর্ধকোটি টাকা অডিট আপত্তির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ইসিজি বিভাগে প্রায় অর্ধকোটি টাকা অডিট আপত্তি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কতর্ব্যরত দিপক রায়ের বিরুদ্ধে এ আপত্তি ধরা পড়ে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ইসিজি বিভাগের সাবেক ইনচার্জ দিপক রায় জানান, হাসপাতালের ইসিজি শাখায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে বিভাগের মেশিন নষ্ট থাকায় কোন পরীক্ষা হয়নি। ফলে সেই সময় ইসিজি পেপার স্টোরে জমা দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু সে সময় হাসপাতালের স্টোরে দায়িত্বে থাকা রতন কুমার সরকার রেজিষ্টারে এন্টি করেননি। ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ টাকা অডিট আপত্তি উথাপিত হয়েছে। তদন্ত বোর্ড তদন্ত করলে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি আরও জানান,এটা তেমন কোন সমস্যা নয় বিষয়টি সুপার স্যার নিস্পত্তি করেছে দিয়েছেন। এদিকে ইসিজি বিভাগের টাকা লোপাটের ঘটনায় হাসপাতাল জুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। জানাগেছে, মন্ত্রলালয় থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছালে চার’সদস্যের একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করেছেন হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান। যার স্মারক নং- ২৫০শঃ বিঃ জেঃ হাস/ যশোর/ শা-০৫/২০২২/৪৯৭৮/৮। মঙ্গলবার তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বরাবর জমা দেওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বৃদ্ধি করেছেন বোর্ড কর্মকর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের সদস্য মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু। তদন্ত বোর্ডের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অডিটে হাসপাতালের ইসিজি শাখায় ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ টাকা অডিট আপত্তি উথ্থাপিত হয়েছে। যার ফলে নিরীক্ষায় আপত্তিকৃত ইসিজি পেপার সংগ্রহ, ব্যবহার, ও মজুদ সম্পর্কিত বিষয়ে তদন্ত করার জন্য মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমানকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু, হাসপাতালে জুনিয়ার কার্ডিওলজি ডা. তৌহিদুল ইসলাম ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. দিপাঞ্জন সাহাকে। সদস্যরা সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট বিভাগে উপস্থিত হয়ে তদন্ত পূর্বক ১৫ মার্চের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন হাসপাতাল প্রসাশনের কাছে জমা পড়েনি। এব্যাপারে বোর্ডর সদস্য মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইমদাদুল হক রাজু জানান, তদন্ত বোর্ডের কোন চিঠি হাতে না পাওয়ার কারনে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সময় পরবর্তীতে জানানো হবে। এ ব্যাপারে বোর্ডের সদস্য সচিব ডা. দিপাঞ্জন সাহা বলেন, তদন্ত বোর্ড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। কাজ সমাপ্তি হলে বিষয়টি জানানো হবে। অন্যদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দিপক রায় বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।