যশোরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আদম ব্যাপারী হামিদ গাজি

বিশেষ প্রতিনিধি, timevision24.com

বিদেশে পাঠানোর নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের একটি চক্র বিদেশে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিদেশে পাঠানোর কথা বলে চুক্তির মাধ্যমে প্রতি জনের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও সেই টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে চক্রটি।এ চক্রের প্রধান চরিত্রে রয়েছে যশোর সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের মহিউদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে আবদুল হামিদ গাজী।

সূত্র জানায়, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া হামিদ গাজী স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে দুর্বার গতিতে মানুষ ঠকানো কাজে লিপ্ত রয়েছে। কোন পাওনাদার তার কাছে টাকা চাইতে গেলে তাকে হামলা-মামলা এমনকি হত্যার হুমকি দিয়ে থাকে তার পোষ্য ক্যাডারবাহিনী।

ক্ষমতাশীন দলের পরিচয় বহনকারী স্থানীয় কয়েক নেতার আশীর্বাদ পুষ্ট আব্দুল হামিদ গাজী নিজেকে অনেক ক্ষমতার অধিকারী বলে এলাকায় চাউড় করছে। তার কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এলাকার সচেতন মহল।

সদর উপজেলার ভেকুটিয়ার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কাউছার আলীর ছেলে মো: মিজানুর রহমান জানান, ২০২০ সালে আমাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে তিন কিস্তিতে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। এক বছর পার হয়ে গেল কিন্তু বিদেশ যেতে পারিনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে আমাকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে হামিদ গাজি। ধারদেনা করা টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বর্তমানে আমি খুবই অসহায় জীবন যাপন করছি। এ অবস্থায় আমার মৃত্যু ছাড়া কোন গতি দেখছিনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন যুবক জানায়, হামিদ গাজীর বাড়িতে মাসে অন্তত ২৫ দিন দরবার বসে টাকা পয়সা নিয়ে। কাউকে বুঝিয়ে কাউকে হুমকি-ধামকি ও অনেককে তার পোষ্য বাহিনী দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ থানার ফজলু নামের এক যুবককে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় হামিদ গাজী। টাকা দেয়ার পরে দুই বছর পার হলেও বিদেশে যেতে পারেনি ভুক্তভোগী ফজলু তবে এই টাকা ফেরত দিতে চেয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছে।

 

সিরাজসিঙ্গা গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন গাজীর ছেলে শহিদুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে হামিদ চক্র। স্থানীয় সুত্র থেকে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম কয়েকবছর যাবৎ নিখোঁজ রয়েছে আসলে সে বেঁচে আছে না মারা গেছে এটাই তার পরিবারের লোকজন জানেনা। তবে এসব বিষয়ে মুখ খুলছেন না অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, হামিদ গাজীর সাথে একই এলাকার খোদাবক্স এর ছেলে সাহেব, হোসেন আলীর ছেলে জামালসহ ৫/৬ জনের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে।

তাদের কাজই হলো বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে মানুষের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হামিদ গাজীর মুঠো ফোনটি রিসিভ করেননি একপর্যায়ে তিনি তার মুঠোফোনটি বন্ধ করে দেয়।

 

এ বিষয়ে সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজনীন নাহার বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি তবে কোনো ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে আমি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব। চেয়ারম্যান আরো বলেন, মানুষ যখন টাকা-পয়সার লেনদেন করেন তখন আমরা জানতে পারি না যখন সমস্যা দেখা দেয় তখন জানতে পারি তবে এ ব্যাপারে সকলের  দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন যাতে বিপদে না পরে।

 

সুত্র: দৈনিক যশোর ৬ অক্টোবর ২০২১ ইং।