গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য

ওবাইদুল ইসলাম অভি : শহরের সুযোগ সুবিধা গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের এই অঙ্গিকার সফল করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গ্রামীণ সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী রাখতে বছরব্যাপী সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেছে।

সোনার বাংলা গড়তে সবার আগে প্রয়োজন গ্রামবাংলার উন্নয়ন। আর রাস্তাঘাট উন্নয়ন ছাড়া গ্রামবাংলার উন্নয়ন কখনও সম্ভব না। গতকাল যশোর-রাজগঞ্জ সড়ক সংস্কার কাজের উদ্বোধন করে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য এসব কথা বলেন।

‘মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার সড়ক হবে সংস্কার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যশোর এলজিইডি বছরব্যাপী জেলার গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষনে ১৩৩৫ জন দুস্থ মহিলা শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। মন্ত্রী তাদের কাজ তদারকি করেন এবং এসমস্ত শ্রমিকদের সাথে আলাপ করে তাদের সুযোগ সুবিধার খোঁজ খবর নেন।

তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ উন্নয়নের ছোয়া চাই। আর আমাদের দায়িত্ব তাদের কাছে উন্নয়নের ধারা পৌঁছে দেওয়া। মন্ত্রী এসময় এলাকার উন্নয়নে সব ধরনের কর্মকান্ড সম্পন্ন করতে রোহিতা ইউনিয়নবাসির সহযোগীতা কামনা করেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়তে; কিন্তু তাঁর সে স্বপ্ন সফল হয়নি। ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে তাঁকে হত্যা করা হয়। তাঁর কন্যা প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার হাল ধরেছেন।

বাংলার চেহারা আজ পাল্টে গেছে। আমরা উন্নয়নের মহাসড়কে চলছি। আমাদের এ চলা আর কেউ রুখতে পারবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চান গ্রাম বাংলার মানুষ শহরের সমস্ত সুযোগ যেন পায়। প্রধানমন্ত্রীর এ চাওয়াকে সফল করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এই উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মনিরামপুর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও বিগত সময়ে উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগেনি। একের পর এক জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু মনিরামপুর অবহেলিতই থেকে গেছে। উপজেলার মধ্যে এমন এমন সড়কছিল যাতে বছরের কোন সময়ই কাঁদা শুকাতো না । আজ মনিরমপুর উন্নয়নের জোয়াড়ে ভাসছে। এরই মধ্যে ১৮টি সড়ক সম্পন্ন হয়েছে , ১৪টির কাজ চলমান।

হাতে নেওয়া হয়েছে আরো ৪২ কোটি টাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজ। উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হয়েছে। তৈরী করা হবে বৈদ্যুতিক রিজার্ভ ব্যাংকের। যেখানে প্রয়োজনী বিদ্যুত রিজার্ভ থাকবে।

প্রয়োজনে উপজেলাব্যাপী অটোমেটিক বিদ্যুত ছাপ্লাই দেওয়া হবে। উপজেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ চলছে। এরই মধ্যে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তিন চার তলা বিল্ডিং করা হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মাঝে উন্নয়নের বিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে এসব বিল্ডিং করা হয়েছে।

প্রক্রিয়াধীন আছে মিল্কভিটা ফ্যাক্টরী তৈরীর কাজ । মিল্কভিটা তৈরী হলে উপজেলার অনেক বেকার যুবক কর্মসংস্থান পাবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম আনিছুজ্জামান বলেন, সড়ক তৈরীর পর যদি নিয়মিত সংস্কার করা হয় তাহলে দীর্ঘদিন সেটা চলাচলের উপযোগী থাকবে। যশোর এলজিইডি তাদের তৈরী সড়কগুলো নিয়িমিত রক্ষাবেক্ষন করে বিধায় আমাদের সড়কের মান সবসময় চলাচল উপযোগী থাকে। তিনি বলেন, যশোর এলজিইডির নিয়োগপ্রাপ্ত দু:স্থ মহিলা শ্রমিক সারাবছর গ্রামীণ সড়কগুলো রক্ষাবেক্ষন করছে। এদের কাজ রাস্তার দু’পাশ পরিছন্ন করা, সড়কে ছোট গর্তের সৃষ্টি হলে অফিসকে অবহিত করা এছাড়া সড়কের কালভার্ট তদারকি করা। আর এই সমস্ত শ্রমিকদের তদারকি করতে কিছু সুপারভাইজার কাজ করছে। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর এলজিইডির সিনিয়র প্রকৌশলী শীবশংকর সাহা, সদর উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হুদা, মনিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী ছানাউল হক, রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের বিশ্বাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোহিতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি রায়হান মাস্টার।