তবুও গর্বিত আমি একজন নাবিক

মোহাম্মদ মজিবুলহক: বাড়ির পাশে ফেণী নদী পাড়ি দিতে ভয় পাওয়া ছেলেটা আজ সাগর পাড়ি দিই! জুন-জুলাই মাসের ক্ষ্যাপা বঙ্গোপসাগরের ১০-১৫ফুট উচু-উচু উত্তাল তরঙ্গগুলো যখন জাহাজের গায়ে আঘাত করে তখন ভয় হলেও চিৎকার করে না কেঁদে মনকে স্থির রাখতে চেষ্টা করি কারনঃ আমি যে নাবিক নামের মালা গলে পড়েছি ভয় পেলে চলবেনা! নাবিকদের হতে হয় দুঃসাহসিক, সাগর হয়তো অনেকেই দেখে কিন্তু সাগরের গর্জন ও হুংকার অনেকে দেখিনি। আমরা নাবিকরা দেখেছি সাগর কিভাবে তার রুপ বদলায়। আমরা (ভাসমান কারাগারের কয়েদিরা) নাবিকরা তবুও স্বপ্ন বুনে যাই প্রতিনিয়ত যদিও আমাদের স্বপ্ন পূরণ হবার নয়! আমরা নাবিকদের সকল স্বপ্ন বিলীন হয়ে যায় উত্তাল তরঙ্গের ভাঁজে ভাঁজে। তবুও আমি গর্ববোধ করি নাবিক হতে পেরে কারনঃ নাবিকদের শ্রমে ঘামেই দেশের অর্থনীতি চাকা গতিশীল। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে দেশের সব সেক্টর বন্ধ থাকলেও বন্ধ হয়না দেশের সর্ব বৃহত্তম শিল্প নৌ-সেক্টর, এই সেক্টর বন্ধ রাখা যাবেনা কারনঃ দেশের ৮০% পণ্য পরিবাহিত হয় নৌ-পথে, এই সেক্টর এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখলেই অর্থনীতির গতিশীল চাকা হয়ে পড়বে অগতিক দেশে দেখা দিবে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট, এর পরেও আমরা নাবিকরা মালিক/সরকারের কাছে অবহেলিত শোষিত নির্যাতিত এবংকি ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। হয়তো তারা আমাদের ভেবে থাকে আমরা জলচর! না জলচর ভাববেননা আমরা জলচর না! আমরা দেশ মাতৃকার গর্বিত সন্তান, আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক এবং হোক হেদায়েত নসিব।