নড়াইলের সাবেক পুলিশ সুপারের সাফল্য মলিন করার হীন চেষ্টা 

নড়াইল থেকে ফিরে, জি এম অভি:
একটি মামলাকে পুঁজি করে নড়াইলের সাবেক জনপ্রিয় পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনকে জড়িয়ে স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছে। সরেজমিন নড়াইল জেলা শহরে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলে এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
এব্যাপারে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু মুঠোফোনে বলেন, নড়াইলের সাবেক পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ছিলেন একজন জনপ্রিয় চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি নড়াইল জেলায় দায়িত্ব পালনকালে আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক কাজ-কর্মেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠনগুলোর আধিপত্য ধ্বংশ করে দেন। স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-শিবিরের অপরাজনীতি নির্মূল করেন। নড়াইল জেলা সদরসহ ৪টি থানা এলাকার আইন শৃংখলা উন্নয়নে দাগি চোর, ডাকাত, খুনি-সন্ত্রাসী দমনে ছিলেন অত্যান্ত কঠোর। অর্থাৎ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের সময়ে নড়াইল জেলায় শান্তির সুবাতাস বইছে। নিলু খান আরও বলেন, প্রায় দেড় বছর আগের একটি কথিত মিথ্যা এসিড নিক্ষেপ মামলাকে পুঁজি করে একটি কুচক্রী মহল পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে। যার কোনো ভিত্তি নেই বলে আমি মনে করি।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক এমপি মাশরাফি ব্নি মোর্তুজার পিতা নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য গোলাম মোর্তজা স্বপন বলেন, জসিম উদ্দিন ছিলেন নড়াইল জেলার একজন জনপ্রিয় নন্দিত পুলিশ সুপার। তাঁর সময়ে নড়াইল জেলার মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছেন। ন্যায়-নীতির সাথে দায়িত্ব পালন করা একজন পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন । তিনি বলেন, একটি এসিড নিক্ষেপ মামলাকে পুঁজি করে সাবেক পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য মহল বিশেষ অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছেন।
নড়াইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের আহবায়ক প্রকৌশলী খসরুল আলম পলাশ বলেন, প্রায় বছর দেড়েক আগে ধারের টাকা লেনদেন নিয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি কথিত এসিড নিক্ষেপ মামলা হয়। এ মামলায় বেশ কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তি আটক হন এবং জেলা হাজত খাটেন। পরবর্তীতে তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমানিত হয়। অথচ নড়াইলের সাবেক পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনকে জড়িয়ে দেড় বছর আগের মিথ্যা মামলাকে পুঁজি করে কতিপয় ব্যক্তি অপতৎপরতা চালাচ্ছে। যার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন নড়াইল জেলায় দায়িত্ব পালনকালে আইন শৃংখলার অভূতপূর্ব উন্নয়নসহ সামাজিক কাজ-কর্মেও ছিলেন অতুলনীয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৭ আগস্ট নড়াইল সদরের বাহির গ্রামে ধারের ৫লাখ ৮০হাজার টাকা লেনদেন নিয়ে দেনাদার পাওনাদারের বিরুদ্ধে কথিত এসিড নিক্ষেপ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৯, তারিখ- ১৮/০৮/২০২০। এ মামলায় ৭জন আসামীর মধ্যে ৩জনকে পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে এমামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার এস.আই সুকান্ত সাহা মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সর্বশেষ মামলাটি সিআইডি এবং একটি মানবাধিকার সংগঠন তদন্ত করেও মিথ্যা প্রমানিত হয়।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবেক পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন নড়াইল জেলায় দায়িত্ব পালনকালে ৮০৪জন সাজাপ্রাপ্ত আসামী আটক করেন। ১হাজার ১শ’ ৩২জন মাদক কারবারি আটক ও বিপুল পরিমান মদ, গাঁজা, হেরোইন ও ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। এছাড়া ২৩টি বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২টি দেশী তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করেন। চাঞ্চল্যকর শিমু হত্যাসহ ৩৭টি খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান কাইজে-ডাঙ্গা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের উদ্যোগে বন্ধ হয়। পুলিশ বাহিনীতে একাধিক পুরস্কার ছাড়াও ভালো কাজ করে আন্তর্জাতিকভাবেও পুরস্কার লাভ করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এব্যাপারে নড়াইলের সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাইম ভিশনকে ২৪ কে বলেন, মামলার বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। পুলিশ সুপার আরো বলেন আমি নড়াইলে থাকাকালীন কি করেছি সেটা আপনারা গণমাধ্যমকর্মীরা জানেন। তিনি আরো বলেন স্বার্থ হাসিলের জন্য মহল বিশেষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।