হাসপাতালে জায়গা নেই,করোনা রোগীর অক্সিজেন চলছে গাছতলায়।

আসাদুজ্জামান শাওনঃ গত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। এছাড়া নতুন করে আরো ২৭৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।

করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালে জায়গা না মেলায় অনেকেই হাসপাতালের বাইরে গাছ তলায়,ভ্যানের উপর অবস্থান করছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ভিতরে জায়গা না থাকায় বাইরে গাছতলায় শুয়ে আছেন রিনা খাতুন (৫৫) নামের এক করোনা উপসর্গের রোগী।চলছে অক্সিজেন।
তার স্বজনরা জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল সোমবার তাকে হাসপাতালের ইয়োলো জোন করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় বাইরে নমুনা সংগ্রহের জন্য রাখা টেবিলের উপর রাখা হয়। আজ সকালে নমুনা সংগ্রহ শুরু হওয়ায় টেবিলের ওপর থেকে নামিয়ে গাছতলায় রাখা হয় রিনাকে। তার বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বারবাগ গ্রামে।
এদিকে আরেক রোগীর স্বজন গোলাপি বেগম জানান, তার শাশুড়িকে এই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় আজ সকাল ৯ টার দিকে। জায়গার অভাবে ওয়ার্ডের বাইরে আর্বজনার ড্রেনের পাশে রাখা হয়েছে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত মেলেনি কোন চিকিৎসাসেবা।
আরেক রোগীর স্বজন বিথিকা ও খোকা জানান, রাত ১০ টার তাদের রোগীকে শ্বাসকষ্ট অবস্থায় ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর থেকেই বাহিরে রোগী রয়েছে। ওয়ার্ড থেকে একটি টেবিল এনে তার ওপর রোগীকে রেখে দেয়া হচ্ছে অক্সিজেন। তার পাশে অটো ভ্যানের ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে এক নারীকে। জ্বর, সর্দি, কাঁশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। জায়গা না পেয়ে ভ্যানে রোগী রয়েছে।
রোগীর স্বজনরা আরও জানান,  সোমবার রাতে রোগী ভর্তির পর থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত কোনো চিকিৎসাসেবা মেলেনি। তবে যাদের খুব বেশি শ্বাসকষ্ট তাদের অক্সিজেন লাগিয়ে দায় শেষ করছেন সেবিকা কর্মচারীরা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, প্রতিদিনই করোনা রেডজোন ও ইয়োলোজোনে রোগী বাড়ছে। শয্যার অভাবে করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীদের  মেঝেতে থেকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছিলো। সোমবার রাত থেকে করোনা রোগীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। ৫০ শয্যার আরও একটি ওয়ার্ড চালু করায় তারা শয্যা পেয়েছে। বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় আইসিইউ ও এইচর ডি ডব্লিউ এর ২০ টিসহ মোট ১৪৬ টি শয্যা রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত করোনা রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন ১৩৬ জন। করোনা রোগীর শয্যা নিয়ে আপাতত চিন্তা কম। কিন্তু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য দুশ্চিন্তা বেড়েছে। করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৯ শয্যার ইয়োলোজোনে রোগী ভর্তি রয়েছে ১১৭ জন। ওয়াডের মধ্যে  ও বারান্দায় জায়গা না থাকায় নতুন রোগী ভর্তি হলে বাধ্য হয়ে খোলা স্থানে রাখতে হয়েছে। বর্ষার মৌসুমে রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের আরএমও কোয়ার্টারে মহিলা আইসোলেশ ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেখানে ১৫ থেকে ২০ রোগী রাখা সম্ভব হবে। আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ আরও জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বর্তমানে প্রতিদিন ৩ হাজার করে তরল অক্সিজেন ব্যয় হচ্ছে।  দুই দিন পর পর হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা সিলিন্ডারে ৬ হাজার লিটার অক্সিজেন ভরতে হচ্ছে। চাহিদা বাড়লেও কষ্ট পেতে হচ্ছে শয্যায় থাকা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের। কিন্ত উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের সিলিন্ডারে অক্সিজেন দিতে হয়। প্রতিদিন দেড় শতাধিক সিলিন্ডার ব্যয় হচ্ছে। প্রতিদিন রোগী বাড়তে থাকায় সিলিন্ডারে অভাবে তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।