শিক্ষা ক্যাডার হতে চেয়েছিলেন লোহাগড়ার ওসি….. আবু হেনা মিলন

আবুল কালাম আজাদ,টাইম ভিশন 24
হতে চেয়েছিলেন শিক্ষা ক্যাডার। শিক্ষক হয়ে মানুষ গড়ার কারিগর কিংবা শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দেশ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে থেমে থাকেননি। মানবিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন পুলিশবাহিনীতে।

আবু হেনা মিলন/ টাইম ভিশন

বলছি শেখ আবু হেনা মিলনের কথা। তিনি সম্প্রতি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন নড়াইলের লোহাগড়া থানায়।
একজন মানবিক পুলিশ অফিসার হিসেবে পূর্বে সব কর্মস্থল এলাকায় খ্যাতি রয়েছে আবু হেনা মিলনের। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের স্কুলশিক্ষক মৃত শেখ আবুল হোসেন ও মৃত আফিয়া বেগম দম্পতির ঘর আলো করে জন্মগ্রহন করেন মিলন। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

আরো সংবাদ পড়ুন-সংবাদপত্র পরিবেশক স্বপন চক্রবর্তীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
১৯৯৬ সালে কাদাকাটি আরার মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশাশুনি, সাতক্ষীরা থেকে বিজ্ঞান শাখায় এসএসসিতে স্টার মার্কস পেয়ে উত্তীর্ণ হন আবু হেনা মিলন। ১৯৯৮ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ হতে এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগে ১ম শ্রেণি, ২০০৫ সালে বিএসসি অনার্স (প্রাণীবিদ্যা) ১ম শ্রেণি, ২০০৬ সালে বিএল কলেজ থেকে এমএসসি (কীটতত্ব) ১ম শ্রেণি পেয়ে পড়ালেখা শেষ করেন তিনি।
২০০৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আউটসাইট ক্যাডেট হিসেবে পুলিশবাহিনীতে যোগদান করেন। একবছর পুলিশ একাডেমি সারদাতে মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ২০০৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর যশোরের কোতোয়ালি থানায় যোগদান করেন। এরপর ২০১০ সালে কেশবপুর থানা, ২০১০ হতে ২০১২ সাল পর্যন্ত শার্শা থানায় এসআই হিসেবে কমরর্ত ছিলেন। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাগুরা সদর থানায় এসআই হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৭ সালের ৩০ মে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে যশোররে ডিএসবিতে যোগদান করেন আবু হেনা। ২০১৯ সাল থেকে এক বছরের বেশি সময় জেলার ঝিকরগাছা থানায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবং ২০২০ সাল যশোরের কোতোয়ালি মডেল থানায় পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ২০২১ সালের ৮ জুন নড়াইলের লোহাগড়া থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন।
এসআই হিসেবে শার্শা থানা এবং মাগুরা সদর থানায় কমর্রত থাকাকালে গুরুত্বপূর্ণ মামলা তদন্ত এবং ক্লুলেস মামলা উদঘাটন করার জন্য একাধিকবার পুরষ্কারে ভূষিত হন মিলন। ঝিকরগাছা থানায় ডাকাতি মামলা উদঘাটনের জন্য পুরষ্কৃত হন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ওসি আবু হেনা মিলন বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে চাকুরি করার। কিন্তু পুলিশের এসআই পদের সার্কুলারে আবেদন করে পরীক্ষা দিয়ে টিকে যাওয়ায় এ চাকুরিতেই থেকে গেলাম। বাধ্যবাধকতা থাকার পরও মানুষের কল্যাণে নিজেকে সপে দিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করতে সর্বপ্রথম ইচ্ছাশক্তি থাকা বাঞ্চনীয়।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের পুলিশবাহিনীর অনেক সদস্যই আছেন যারা মানবকল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি আমার বাবার অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
আবু হেনা মিলন ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক। ছেলে শেখ আবু লাবিব (৭), কন্যা শেখ ওয়াসিজা হেনা (১)।