ঝিকরগাছার আওয়ামী রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য নক্ষত্রের নাম ওবায়দুর রহমান

টাইম ভিশন 24 ডেস্ক:

ওবাইদুর রহমান ওবা। ঝিকরগাছা আওয়ামী রাজনীতির ঝরে যাওয়া এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে নিহত হওয়ার পর সারা বাংলায় যখন আওয়ামী সমর্থকরা উদ্ভ্রান্ত, পাগল, উন্মাদ, দ্বিকভ্রান্ত, দিশে হারা হয়ে পড়েছিলো। খুনি মোস্তাক-জিয়া যখন আওয়ামী নেতা কর্মী নিধনের প্রত্যয়ে হত্যাজজ্ঞের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দেশের মাটিতে ফিরতে না দেয়ার ষড়যন্ত্রের নীল নকশা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে । যখন মিলিটারি অফেন্সে মেজর জিয়া রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এক নাগাড়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মী সমর্থকদের হামলা মামলা, হত্যা, লুন্ঠন, অঙ্গহানি অকথ্য নির্যাতনের মাধ্যমে বাংলার বুক থেকে আওয়ামী শব্দ তুলে দিতে মরিয়া। যখন খুনি জিয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র অভি নিরুর হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রপথিক ছাত্র সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলা থেকে ছাত্রলীগের নাম মুছে দিতে চেয়েছিলো। এভাবে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেও যখন জিয়াউর রহমান জননেত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা রুখে দিতে পারেনি।
তখন জেনারেল এরশাদ বুঝতে পারে বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনাকে দুর্বল করতে হলে দেশ থেকে ছাত্র রাজনীতি তুলে দিতে হবে। তাই একটুও দেরি না করে খুনি জিয়ার উত্তরসূরী স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ বাংলার বুক থেকে ছাত্র রাজনীতির পাটই চুকিয়ে দেয়ার সাংবিধানিক বৈধতা আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এভাবে যখন সারা বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণে নেমে আসতো বুটের আঘাত আর রাইফেলের গুলি ঠিক তেমনি একটি সময়ে যশোরের ঝিকরগাছার রাজপথ উত্তপ্ত করে যে দু-এক জন তরুণ ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ঝান্ডা উঁচু করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যৌবন বাঁজি রেখে আন্দোলনের অগ্নিবাণ ডেকে
“জয় বাংলা” স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করে স্বৈরাচারের বুকে কাঁপন ধরিয়েছিলো তাদের মধ্যে অনত্যম একটি নক্ষত্রের নাম “ওবাইদুর রহমান ওবা’। যখন বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ, যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একেরপর এক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছুতে সারা বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন তখন যশোরের মফস্বল শহর ঝিকরগাছার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শেখ হাসিনার নির্দেশ মানতে স্বৈরাচার বিরোধী জনমত গঠনে দিনেরপর দিন বাড়ির বাইরে থেকেছেন। তিনি ১৯৮৫ সালে শহীদ মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্ব পান। সংগঠনের পিছনে তখন তিনি আরো বেশি সময় দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে দীর্ঘদিন তিনি এককভাবে ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের দ্বায়িত্ব সামলান। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ছিলো ঈর্ষা জাগানিয়া। চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জনাব এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ওবায়দুর রহমান ওবা আশির দশকে ঝিকরগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের আইডল ছিলেন। তাকে দেখে সে সময় ঝিকরগাছা উপজেলা সদরের কৃষ্ণনগর, কীর্তিপুর ও মোবারাকপুর গ্রামের তরুণ প্রজন্ম শুধু নয় বরং উপজেলা ব্যাপী ব্যাপক হারে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়। তিনি আরো বলেন, সংগঠন করতে গিয়ে জনাব ওবা এরশাদ ও পরবর্তীতে খালেদা জিয়া আমলে এবং ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জামাত বিএনপি জোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে প্রচুর অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। সংগঠনের দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রায় আড়াই যুগ ওবাইদুর রহমান ওবা উপজেলায় নেতৃত্ব দেন। তিনি জনাব “ওবা”কে চিরতরুণ আখ্যা দিয়ে বলেন, যে কারণে ২০১৭ সালের যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসাবে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসাবে একমাত্র ওবাইদুর রহমান ওবা মামু’র নাম প্রস্তাব করেছিলাম। কারণ আমি যানি অসাধারণ সাংগঠনিক এই লোকটি সংগঠন ছাড়া কিছুই বুঝেনা। এই সম্মানের জায়গাটা তারই প্রাপ্য।
শেষ বেলা জনাব ওবাইদুর রহমান ওবা সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মনিরুল ইসলাম মনির ও আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম মেম্বার জনাব আনোয়ার হোসেনকে বেশ মান্যতা করতেন। প্র‍য়াত ” ওবা” তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন সময়ে তার অভিব্যক্তিতে এই দুজনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বয়সে ছোটো এই দুই নেতাকে তিনি যেমন স্নেহ ভালোবাসা দিয়েছেন তেমনি নেতার মান্যতাও দিয়েছেন। যা কেবল একজন আপদমস্তক সাংগঠনিক ব্যাক্তির পক্ষেই সম্ভব।

ঝিকরগাছা আওয়ামী রাজনীতির কিংবদন্তি পুরুষ জনাব রবিউল ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার জনাব ওবায়দুর রহমান ওবা জীবন ভর নেতার মতোই ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। যেমনি নির্যাতন সহ্য করেছেন তেমনি ক্ষমতার মধ্যে গগণে থেকেও কোনো ব্যাংক ব্যালান্স, গাড়ি, বাড়ি, ধন সম্পদ করে রেখে যেতে পারেননি। করে যেতে পারেননি সন্তানের জন্য নিঃছিদ্র ভবিষ্যৎ।

তার আছে শুধু মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। যে স্বপ্ন দেখে বেড়ে ওঠে একজন রাজনীতিবীদ। আর এটাই একজন রাজনীতিবীদের ঐশ্বর্য।
ঝিকরগাছা রাজনীতির আকাশের বিরাট একটা জায়গা জুড়ে ঐশ্বর্য খঁচিত হয়ে নক্ষত্রের ন্যায় জলজল করতে থাকবে ওবাইদুর রহমান ওবা’র নাম।

আজ তার তৃতীয় প্রয়ান দিবস। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি। আমিন।

লেখকঃ শামসুজ্জোহা লোটাস
কলামিস্ট ও সাবেক ছাত্রনেতা
যুগ্ম-আহ্বায়ক, ঝিকরগাছা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।