যশোর জেনারেল হাসপাতালের সাইকেল গ্যারেজ ২০ বছর একজনের দখলে

যশোর জেনারেল হাসপাতালের সাইকেল গ্যারেজ ২০ বছর ধরে একজনের দখলে - জি এম অভি

আনজুয়ারার খুটির জোর কোথায়? 

জি এম আভি: যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সাইকেল গ্যারেজের বরাদ্ধ পেয়েছেন আঞ্জুয়ারা বেগম, যা সম্পুর্ন অবৈধ প্রক্রিয়ায়। অদৃশ্য ক্ষমতার দাপটে জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জেনারেল হাসপাতাল সাইকেল গ্যারেজের বরাদ্দ পেয়েছেন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী আঞ্জুয়ারা বেগম। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল দুই বছরের অতিরিক্ত কাউকে সাইকেল গ্যারেজ ইজারা প্রদান করা যাবে না। অথচ ২০ বছরের বেশী সময় ধরে গ্যারেজটি ক্ষমতার দাপটে ভোগ করছেন আঞ্জুয়ারা বেগম। তিনি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে বরাবরই বীরদর্পে চালিয়েছেন বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি। সর্বশেষ পহেলা জুন ২০২১ তারিখে সাইকেল গ্যারেজটিও পুনরায় তার কব্জায় চলে আসে। এ ঘটনায় হাসপাতাল জুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়। এদিকে জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাইকেল গ্যারেজটি বরাদ্ধ পাওয়ার জন্য গত ২৪ এপ্রিল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বরাবর আবেদন করেন মো: মালেক, কামরুজ্জামান, ইকবাল হোসেন, মুসফিকুর রহমান, আশানুর রহমান, কৃষ্নদেব, ছরোয়ার, প্রভাত, খাইরুল ও মোশাররফ হোসেন মুসা। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাইকেল গ্যারেজের বরাদ্ধ পাওয়ার কথা নতুন আবেদন কারীদের কেউ। কিন্তু অনিয়ম যেখানে নিয়মে পরিনত সেখানে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোই স্বাভাবিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, যশোর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্রাচার্য্য ও হাসপাতালের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা: মো: আখতারুজ্জামান বিশেষ করে ওনাদের দিকেই আমরা তাকিয়ে ছিলাম যে এবার হয়তো সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী হবে। তবে দু:খের বিষয় এবারও সম্পুর্ন অবৈধ পন্থায় সাইকেল গ্যারেজটি বরাদ্ধ দেয়া হলো। চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী সমিতির সহ সভাপতি আ: মালেক বলেন, সাইকেল গ্যারেজ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে সম্পুর্ন অবৈধ ভাবে। আমি এর প্রতিবাদ করেছি তাই সমিতি থেকে আমাকে বহিষ্কার করার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী জানায়, আঞ্জুয়ারা বেগমের হাত অনেক লম্বা, তার বিরুদ্ধে কিছু বললে বহিরাগত লোকজন এসে আমাদের হেনস্থা করার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, মাসিক মাসোহারার বিনিময় স্থানীয় কতিপয় বখাটে যুবকদের হাতে রেখে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে আঞ্জুয়ারা বেগম। গ্যারেজ আবেদনকারী মোশাররফ হোসেন মুসা জানায়, আঞ্জুয়ারার ভালো জ্যাক আছে তাই বার বার সে পায় আমাদের জ্যাক নাই তাই পাইনা। আবেদনকারীর দুইজন পত্রিকায় নাম না দেয়ার শর্তে জানায়, এবিষয় মুখ খোলা ঝুঁকিপুর্ন। আমাদের চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের যোগসাজসে মোটা অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে গ্যারেজ নিয়ে। হাসপাতালের কর্মচারী মো: মোকলেছ জানায়, কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারন সম্পাদক নুর ইসলাম আঞ্জুর কাছ থেকে মাসিক সিস্টেমে এগুলো করেছেন। চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী সমিতির সহ সভাপতি আ: মালেক অভিযোগ করে বলেন, সাইকেল গ্যারেজ আমাদের নামে বরাদ্দ দিতে হবে না, তবে ২০ বছর ধরে একজন বরাদ্দ পাবে সেটা ঠিক না। আমরা চাই সঠিক প্রক্রিয়ায় একজন পেয়ে যাক। হাসপাতালের রেকর্ড কিপার ও হাসপাতাল মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার মো: মুরাদ হোসেন এবিষয় কথা বলতে অস্বিকৃতি জানিয়ে বলেন, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারির কাছে শোনেন তারা সব জানেন। জানতে চাইলে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার ওবাইদুল ইসলাম বলেন, এ প্রসঙ্গে আমি কিছুই বলবো না । আমাদের আরএমও স্যার ভালো বলতে পারবেন। যশোর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সমাজ সেবক এস এম জাহাঙ্গির হোসেন দৈনিক যশোরকে বলেন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি একটি সুষ্ঠু সমাধান দিয়েছিলেন যে প্রতি দুই বছর পর পর নতুন কোন কর্মচারীকে সাইকেল গ্যারেজটি বরাদ্দ দেয়া হবে। কিন্তু কি কারণে এমনটা হলো সেটা বলতে পারবোনা আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা হবে।
জানতে চাইলে জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা উপ-কমিটির সভাপতি ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: আরিফ আহমেদ দৈনিক যশোরকে জানান, চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারী সমিতির সভাপতি সেক্রেটারি নিজেরা একটি রেজুলেশন তৈরি করে গ্যারেজটি বরাদ্দ দিয়েছে। এ বিষয়টি পরবর্তী মিটিংয়ে সভাপতিকে আমরা জানাবো। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: মো: আখতারুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের সাইকেল গ্যারেজ নিয়ে এরকম ঘটনা ঘটেছে আমি শুনেছি, আমি কেবল যোগদান করেছি আমার জয়েন্টের পুর্বে গ্যারেজের বিষয় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তারপরেও বিষয়টি আমি ক্ষতিয়ে দেখবো। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও যশোর জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্বপন ভট্টাচার্য্য দৈনিক যশোরকে বলেন, আমি বলেছিলাম দুই বছর পরপর পর্যায়ক্রমে চতুর্থ শ্রেনী কর্মচারীদের মধ্যে গ্যারেজটি বরাদ্ধ দেয়া হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, বিষটি জেনেশুনে দেখি তারপরে ব্যবস্থা নেয়া হবে।