“নজরুল সওগত” –এম এ কাসেম অমিয়

“নজরুল সওগত”
-এম এ কাসেম অমিয়

যে সূর্য্য উদিত হয়েছিলে বর্ধমান চুরুলিয়ায়
১১ জ্যৈষ্ঠের রুদ্র তাপে মধুরসের সিঞ্চনে
অস্তাচলে চলিলে তুমি এই বাংলায় ঢাকায়
নিঃসীম নিরাবতায় নিদারুণ মৌনতায়!

সোনার চামচ পাওনি তুমি চির-দুঃখীজন
দুখুমিয়া তুমি লেটোর দলে করেছ গান!
মধুর সুরে মসজিদ মিনারে ফুকারে আজান
বিমোহিত করেছ সে সুরে সকল মানব প্রাণ।

জীবন তেমার সুখময় ছিল না পিতার অবর্তমানে
ওস্তাদজির দায়িত্ব নিয়েছিলে সেই শিশুবেলায়!
আমপারা’র পাঠ দিতে মসজিদের মক্তবে!
রুটির দোকানেও কাজ নিয়েছিলে হেন অবেলায়।

দয়াবান পুলিশের সহায়তায় দরিরামপুর স্কুলে ভর্তি হলে
দশম শ্রেণীতে গিয়ে পাঠ চুকলে চিরকালে।
যুদ্ধের দামামা শুনে রইলে না ঘরে বসে
ছুটে গিয়ে সৈনিক বেশে পল্টনে যোগ দিলে।

তুমি ছিলে প্রেমের কবি গানের বুলবুল
বিদ্রোহী তুমি অগ্নিবীণায় দেশপ্রেমে মশগুল!
“একহাতে বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য’!
উদয় করতে চেয়েছিলে তুমি স্বাধীনতার সূর্য্য!

পরাভয় মাননি তুমি হাসিমুখে পরেছ শৃঙ্খল!
শৃঙ্খল পরেই সে শৃঙ্খল করেছ বিকল!
স্বাধীনচেতা তুমি ছিলে দেশপ্রেমের প্রতিভূ
স্বাধীন হবার মন্ত্র জপেছ অনর্গল!

মানবপ্রেমে উজ্জীবিত ছিলে সাম্যের কবি
জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ মাননি;
হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খৃষ্টান সকলে মানুষ
এ অমিয় বাণী হৃদয় থেকে ভোলনি!

“বিষাদ নূপুর” : এম এ কাসেম অমিয়

তুমি মানব দরদী ছিলে মানবতার কবি
কুলি-মজুরের দুঃখে কেঁদেছ সেতো ভুলিনি;
তুমি শিশুদের কবি শিশুদের এঁকেছ ছবি
“খুকি ও কাঠবিড়ালি” রচেছ অমর কবিতাখানি।

তুমি তারুণ্যের ছিলে যৌবনের কবি
তারুণ্যকে ভালবেসে গেয়েছ যৌবনের
গান; কঙ্কালসার যুবকের করেছ হেলা
যৌবনদীপ্ত বৃদ্ধকেই করেছ পূজনীয়।

তুমি সকলের ছিলে সকল মানুষের কবি
তুমি ছিলে সকল দেশের,জাতির,বিশ্বের।।
————————————
২৫-০৫-২১।৫১৩-২, নাজির শংকরপুর, যশের।