যশোরের কচুয়ায় বিধবার জমি ক্রয়ে ব্যার্থ মহিদ দফাদার কর্তৃক দেড় শতাধিক কলাগাছ উৎপাটন।।

রাসেল মাহমুদ, নিজস্ব প্রতিনিধিঃবেঁচে থাকার শেষ সম্বল ২০ শতক আবাদি জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় কাল হয়ে দাড়ালো বিধবা সুফিয়া বেগম (৫০) এর। সে যশোর সদর উপজেলার ঘাটকুল কচুয়া গ্রামের মৃত ছমীর মিস্ত্রীর (বিধবা) কন্যা। প্রায় ৩৫ বছর স্বামী হারা সুফিয়া বেগম এক কন্যা মেয়ে নিয়ে বাপের ভিটেই বসবাস শুরু করে। স্বামী ও পুত্রসন্তান না থাকায় উপর্যন বলতে সুফিয়ার বাবার দেয়া একখন্ড আবাদি জমি’ই সম্বল।

মুলতঃ চাষিদের কাছে বাৎসরিক ফসল ও অর্থ চুক্তিতে বর্গা/লিজ দেয়ায় সুফিয়ার জীবন জীবিকার একমাত্র উৎস। জানাযায়, গত বছর তিন ধরে জমিটি বাৎসরিক চুক্তিতে নিয়ে চাষাবাদ করে আসছেন ঘাটকুল কচুয়া গ্রামের আহম্মদ দফাদারের ছেলে মহিদ দফাদার। কিন্তু জমিটা মহিদ নেওয়ার পর থেকে ফসলের ভাগা বা সে মতে কোনো অর্থকড়ি না দিয়ে টালবাহা আসছিলো। তিন বছর ধরে জমিতে উৎপাদিত ফসল বা অর্থ না দেয়ায় সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয়।

বারবার তাগিদ দেয়া শর্তেও কোনো কাজ না হওয়ায়। নিরুপায় ও বাধ্য হয়ে এবছর থেকে এলাকার মৃত ওমর আলী খানের ছেলে নাজিম খানের কাছে নগদ অর্থে পাঁচ বছরের জন্য লিজ প্রদান করে সংসারের খোরাক জুগিয়েছি।

সম্প্রতি নিয়ম অনুযায়ী নাজিম খান লিজকৃত (১৮ শতক) জমিতে উন্নত জাতের দেড় শতাধিক কলার গাছ রোপণের মধ্যদিয়ে চাষাবাদ শুরু করে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মহিদ জমিতে লাগানো দেড় শত কলার গাছ উপড়ে ফেলে দেয়।

সরেজমিনে যেয়ে দেখাযায়, করুন এই দৃশ্য। বর্গা চাষি নাজিম খান বলেন এবারই আমি সুফিয়া বু’র কাছ থেকে তার ১৮ শতক জমি ২০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছি। সেই জমিতে বেশকিছু দিন হলো দেড়’শ কলার গাছ লাগিয়েছি।

প্রতিদিনের ন্যায় মঙ্গলবার সকালে জমিতে চাষকৃত গাছের পরিচর্যা করতে যেয়ে দেখি সর্বনাশা কান্ড! একটা গাছও দাড়িয়ে নেই! সব গুলো গাছই মাটির সাথে মিশানো।

জীবন্ত গাছ গুলো উপড়ে মাঠেই ফেলে রাখা হয়েছে। ধার দেনা করে এচাষে করেছিলাম। আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার সাথে কিসের শত্রুতা। এই ক্ষতি পুঁষিয়ে ওঠার মত কোনো উপায় নেই আমার। আমি এর বিচার চাই।

এনিয়ে জমির মালিক বিধবা সুফিয়া বেগম বলেন আমি ৩৫ বছর ধরে বাপের ভিটেই রয়েছি। সংসারে কোনো ছেলে সন্তান নেই। বাপের দেয়া সামান্য জমিতে সংসার চলে।

এবছর মহিদের কাছ থেকে জমিটি নিয়ে নিয়েছি। গত তিন বছর ধরে মহিদ দফাদার আমার জমিটি বর্গা নিয়ে কোনো ফসলাদী ভাগ না দিয়ে ছলাকলা করে আসছিলো।

জমির লিজ বাবদ ফসল বা টাকা চাইলে অবান্তর কথাবার্তা বলে। উল্টো তার কাছে জমিটি বিক্রি করে দেওয়া জন্য জোরাজুরি করা শুরু করে।

সুফিয়া আরও বলেন আমি আমার জীবিকার একমাত্র উৎস’টি বেহাত করতে চায় না। তাই এবছর থেকে মহিদকে না দিয়ে, নাজিমের কাছে ৫ বছরের জন্য লিজ দিয়ে দিয়েছি। একারনে রাগের বশবর্তি হয়ে মহিদ দফাদার সব কলা গাছ উপড়ে ক্ষতি সাধন করেছে। আমি এই জুলুমে সুবিচার চেয়ে প্রশাসনের হস্তোক্ষেপ কামনা করছি। এব্যাপারে সুফিয়া বেগম পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।