যশোরের বড় বাজারে সাংবাদিকের ক্যামেরা দেখলেই ব্যাবসায়ীরা পকেট থেকে বের করে মাস্ক

যশোর প্রতিনিধিঃযশোরের মার্কেট গুলোতে ঈদ উপলক্ষে ক্রমশ ক্রেতাদের ভিড় বেড়েই চলছে। স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা নেই ক্রেতা বা বিক্রেতাদের মধ্যে।

সরকার কাপড় ব্যাবসায়ীদের কথা চিন্তা করে যখন মার্কেট শপিং মল রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রেখে ঈদের কেনাবেচা করার অনুমতি দিয়েছে ঠিক সেই সময়েই কঠোর ভাবে স্বাস্থ্যবিধী মানবে বলে অঙ্গিকার করেছিলো এই মার্কেট ও শপিং মল কতৃপক্ষ ও ব্যাবসায়ীরা।

কিন্তু শপিং মল ও মার্কেট খোলার ২-৩ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল এখন যে চিত্র টি দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে লকডাউন এবং সাস্থ্যবিধী নিয়ে পেছনে যে সকল নির্দেশনা বা বিধি নিষেধে জারি করা হয়েছিলো তা কেবল কল্পনা। এমনটাই মনে করছে সচেতন মহল।

যশোরের প্রানকেন্দ্র দড়াটানা মোড় সংলগ্ন বড় বাজার, কাপুড়িয়া পট্টিতেই বেশি সংখ্যাক মানুষ কেনাকাটা করতে আসেন। আর এই বড় বাজারের মার্কেটগুলোতে যে সকল দৃশ্য দেখা যাচ্ছে তা এই করোনা পরিস্থিতির জন্য চরম হুমকিসরুপ। সামনে ঈদ কে কেন্দ্র করে সকলে কেনাকাটা করতে ব্যাস্ত যেমন তেমনি যশোরে প্রতিদিন করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় অর্ধশত বা তার উর্ধে। মাস্ক সকলের কাছেই আছে তবে নেই সঠিক ব্যাবহার। মাস্ক কারো কানে ঝুলছে, কারো পকেটে, কারো থুতনিতে, কারো আবার বাচ্চার কাছে দিয়ে রাখছে খেলা করার জন্য।
আবার অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধী মানতে ব্যাবসায়ীদের উদাসীনতা দেখে আরও দীগুন উদাসীনতা দেখাচ্ছে ক্রেতারা। মার্কেটের অলিগলিতে ৩ ফুট তো দূরে থাক নেই দাড়ানোর জন্য ৩ ইঞ্চি জায়গা। গায়ে গায়ে ঘেসাঘেসি করেই মহা আনন্দে চলছে ঈদের কেনাকাটা। আর এই আনন্দে ক্রেতা এবং বিক্রেতারা উভয়েই “করোনা বলে যে কিছু আছে দেশে” তা যেন তারা ভুলেই গেছে। লকডাউনে মার্কেট ও শপিল মল খোলার অনুমতি দিলেও শহরের কোন প্রান্তে বাকি নেই দোকানপাট বা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখতে। ফলে নামে লকডাউন বলে দাবী করেন জনগন।

আবার কয়েকটি দোকান বরাবর লক্ষ্য করে ক্যামেরা অন করলেই ব্যাবসায়ীদের দেখা যায় পকেটে থাকা মাস্ক নিয়ে সাথে সাথে মুখে দিতে। কাছে গিয়ে জিগ্যাসা করলে বলেন, আমরা ব্যাবসায়ীরা কঠোর ভাবে স্বাস্থ্যবিধী মানছি কিন্তু ক্রেতারা মানছে না। আবার অন্যদিকে ক্রেতারা বলেন, আমরা যখন একটি পরিবার একটি দোকানে ঢুকি কেনাকাটা করার উদ্যেশে তখন সেখানে আমরা বের হওয়া না পর্যন্ত অন্য কোন কাস্টমার ঢুকানো ঠিক না। কিন্তু সেখানে দেখা যায় একটি দোকানে সর্বোচ্চ ৩/৪ জন ক্রেতা থাকার পরিবর্তে ১০-১২ জন ক্রেতা ভিড় করছে। এটা তো আর আমরা (ক্রেতাদের) দেখার বিষয় না। এটা তো মার্কেট কতৃপক্ষ বা দোকান মালিক খেয়াল করবে।

যশোরের দড়াটানা মোড় থেকে শুরু করে কাঠেরপুল পর্যন্ত সড়কটিও যানজটে মাঝে মধ্যে আটকে থাকছে। ফলে চলাচলের ক্ষেত্রেও দেখা মিলছে না তিন ফুট দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধীর।
দড়াটানা মোড় এলাকায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যদের দেখা গেলেও তাদের এ বিষয়ে কোন কঠোর ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। কেন স্বাস্থ্যবিধী মানতে বাধ্য করা হচ্ছে না এমন প্রশ্ন বার বার থেকে যাচ্ছে সাধারণ সচেতন জনগনের কাছে।