যশোরের ঝিকরগাছায় অকালে ঝরলো জাবি ছাত্রের প্রাণ

আবুলকালামআজাদ,ঝিকরগাছা(যশোর)থেকে: ইচ্ছা ছিল বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। সেই লক্ষ্যে সাফল্যের সঙ্গে একের পর এক গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। চান্স পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের। পড়ছিলেন দেশের অন্যতম সেরা এ বিদ্যাপীঠের ‘সরকার ও রাজনীতি’ বিভাগের তৃতীয় বর্ষে। হঠাৎ থমকে দিল হৃদরোগ।

আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কলাগাছি গ্রামের মেহেদী হাসান। তিনি ওই গ্রামের আবু শামের ছেলে। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে বাড়ি থেকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান মেহেদী।

অকালে ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক বাবা-মা। এলাকার মেহেদীর সমবয়সী ছেলেকে জড়িয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তাদের কান্নায় আকাশ-বাতাস যেনো ভারি হয়ে উঠেছে। বাবা-মায়ের আর্তনাদে চোখের পানি ঠেকাতে পারেনি সেখানে উপস্থিত কেউই। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে।

মেহেদীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন যাবৎ মেহেদীর হার্টে সমস্যা ছিল। চিকিৎসক তার হার্টে রিং বসানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু করোনার কারণে তা করার সুযোগ হয়নি। আজ সকালে হাসাপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হৃদরোগে মেহেদীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

কলাগাছি গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক মনি জানান, মৃত্যুর আগে মেহেদী জানিয়েছিলেন, বড় হয়ে বিসিএস পাশ করে অ্যাডমিন ক্যাডার হতে চান। অসহায় ও দুর্বল মানুষের পাশে থেকে দেশ সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। কিন্তু সব স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।

তিনি বলেন, ‌‘দূর সম্পর্কের ভাগ্নে হলেও আপন মামার মতো সম্মান করতো মেহেদী। এইচএসসির পর কোচিং করিয়েছি ঢাকায় নিজের বাসায় রেখে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার শেষের দিকে। মেধাবী ছাত্র ছিলো ও ছাত্রলীগ করতো। গ্রামবাসী এক রত্ন হারালো।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মেহেদী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (২০১৮-১৯ সেশন) শিক্ষার্থী। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন তিনি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ঝিকরগাছার কলাগাছি গ্রামের নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা বলেন, ‘মেহেদীর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। যেকোনো মৃত্যুই বেদনাদায়ক। এতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ গভীরভাবে শোকাহত।’

এদিকে মেহেদীর অকাল এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘মেহেদী হাসানের অকাল প্রয়াণ তার পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তার পরিবারের একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল। তার প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শোকাহত।’