অপারেশন সার্চলাইট : শাহনাজ পারভীন

অপারেশন সার্চলাইট
শাহনাজ পারভীন

নরকের সব দরজা খুলে গিয়েছিল
অগ্নিশিখা আকাশকে বিদ্ধ করেছিল
অপারেশন সার্চলাইটের সেই কালোরাতে
রক্তের প্রপাত ছুটে গিয়েছিল নিরীহ বাঙালির দরজায়, আঙিনায়।
তারা কী জেনেছিলো সেদিন?
আজ রাতেই অগ্নিবর্ণের শোকার্ত ধুম্রকুণ্ডলি ছেয়ে ফেলবে সমস্ত আকাশ
লকলকে আগুনের জিহ্বা গিলে ফেলবে স্বাধীনতাকামী মানুষের অজস্র প্রাণ,
বিস্তীর্ণ জনপদের সকল সারল্য
সবুজ ধানখেত, সারি সারি মেহগনি, দেবদারু বন!
পূর্ববাংলার ঘরে ঘরে জ্বলবে আগুনের লেলিহান
শিখা

নিস্তব্ধ করে দেবে সংগ্রামে মাথা উঁচু প্রাচ্যের অক্সফোর্ড
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,
রাজারবাগ পুলিশ লাইন, বিস্তীর্ণ ঢাকার খোলা প্রান্তর, রাজপথ এবং অন্দর মহলের সমস্ত গলিপথ সমূহের!

রাত্রের অন্ধকারে ঝাপিয়ে পড়বে নরপিশাচের দল
বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, শিক্ষক, কেরানি, কামার, সাংবাদিক, সংস্কৃতিজন, কুলিন, মুজুর,
নিরস্ত্র মানুষ এবং রমনীর ওপর?

সেই বিভৎস কাল রাতে বিমর্ষ, আতংকিত সময়ের
মেহরুন্নেসা,
ময়না, ফাতেমা, সেফালী, মিসেস টিনিয়েলসন, মিলাদের সাথে নিধনযজ্ঞের টানাপোড়েনে বিক্ষত বাংলাদেশ!

কখনো বাংকারে,
কখনো শকুনের নখরে,
কখনো ব্যাঘ্রের থাবায়,

ছিন্নভিন্ন নারী দেহ লুটেরার দল ভাগাভাগি করে খায়।

ভালোবাসাহীন জীবন পরগাছা যেন
মাটিতে দৃঢ়ভাবে শিকড় গাঁড়া হয় না তাদের।
মর্মান্তিক বেদনায়, যাতনায় দগ্ধ তান্ডবলীলায়
বেঁচে যাওয়া প্রাণে অনিশ্চয়তার পথ।
তবুও দুরন্ত আগুন জ্বেলে দিয়ে ছিল প্রাণে প্রাণে
সিংহের গর্জন, বিজয়ের মন্ত্র, বুকের আশা,
পথচলার নতুন দিগন্ত।

তাই তো নয় মাসের অসম যুদ্ধ ছিনিয়ে আনে
বিজয়ের পতাকা রঙিন।

লেখক: কবি, প্রিন্সিপাল, তালবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজ, যশোর।