যশোরে স্ত্রীর লাঠির আঘাতে কৃষক নিহত

যশোর প্রতিনিধি:
স্ত্রীর লাঠির আঘাতে কৃষক স্বামী মুস্তাকিন হোসেন সুমনের ( ২৮) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার(১৭ মার্চ) বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সুমন ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের মৃত দাউদ হোসেনের ছেলে। পুলিশ ঘাতক স্ত্রী, দুই কন্যা সন্তানের জননী মিনা খাতুনকে (২৬) আটক করেছে। সে একই এলাকার ঘোড়াদহ গ্রামের নিহান শেখের মেয়ে।
নিহতের ভাতিজা ফিরোজ হোসেন জানান, ১৪ মার্চ দুপুরে মিনা খাতুনের ভাই বোন ও মা তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিন বিকালে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনা তার স্বামীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করলে সে পড়ে যায়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বেসরকারি হাসপাতালে পরে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। চিকিৎসক তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ১৬ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এ্যাপালো হাসপাতালে ভর্তি করলে বুধবার বিকালে তার মৃত্যু হয়। বুধবার গভীর রাতে তার মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। ঝিকরগাছা থানার এস আই হেলালুজ্জামান লাশের সিরোতহাল রিপোর্ট করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে সুমনের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ঘাতক মিনা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় মহিলারা তাকে ধরে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয়রা আরো জানান, সুমন হাসপাতালে ভর্তি হলে স্ত্রী, শ্বশুর, শ্বাসুড়ি, সালা, সালি কেউ যোগাযোগ বা খোঁজ খবর নেযনি। এসময সুমনের দেয়া স্বর্ণালংকার ও ঘরে রাখা দামি আসবাবপত্র ও টাকা পয়সা সরিয়ে ফেলেছে। সুমনের মৃত্যুর পর তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন পালিয়েছে এবং সুমনের পরিবারকে মামলা না করার হুমকি দিচ্ছে।
সুমনের প্রতিবেশিরা জানান, সুমন ও তার মা নাসিমাকে ইতোপূর্বে একাধিকবার মিনা মারপিট করেছে। সুমন ও মিনার বড় মেযে লামিশা (৮) মায়ের ফাঁসি দাবি করেছে। ঝিকরগাছা থানার এসআই হেলালুজ্জামান জানান, লাশের সুরোতহাল রিপোর্ট করা হয়েছে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আব্দুর রাজ্জাক স্ত্রীর লাঠির আঘাতে স্বামীর মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। স্ত্রী মিনাকে আটক করা হয়েছে।