ভারতের পশ্চিমবঙ্গে  বিনা চিকিৎসায় মীরসরাইয়ের নাবিক আফসারের মৃত্যু

মো:মজিবুলহক: বাংলাদেশী এজেন্ট মেসার্স সায়েরা শিপিং এর আওতায় পরিচালিত বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকল লাইনে চলাচলকারী বশির উদ্দিন কোম্পানির জাহাজ এম, ভি আবুল হাসনাত এর বাবুর্চি (মীরসরাই নিবাসী) আফসার হোসেন পেটের পিড়ায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গে (বজবজ বন্দর) বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন।

কলকাতা অবস্থানরত বাংলাদেশী 🇧🇩 পতাকাবাহী নৌ-যানের মাস্টার/ড্রাইভারণ মেসেঞ্জার হোয়্যাটসপে আমাদের অবগত করেনঃ যদিও সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন তবুও আমরা এম, ভি আবুল হাসনাত জাহাজের মাস্টার/ড্রাইভার এর সাথে সেল ফোন এবং সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি।

আবুল হাসনাত জাহাজের মাস্টার আমাদের প্রাথমিক অবস্থায় জানান, আমার লোক দুইদিন ধরে পেটের পিড়ায় ভুগে অবশেষে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে আমি কোম্পানি বাংলাদেশী এজেন্ট ভারতীয় এজেন্ট সবার সাথে যোগাযোগ করেও আমার লোককে চিকিৎসা সেবা দিতে পারিনি, আর এখানে ল্যান্ডিং পাস না থাকায় কূলে উঠানামা বন্ধ হওয়ায় নিজেরাও হাসপাতাল/ডাক্তার এর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি আমরা অসহায়ত্বে দিনাতিপাত করছি।

সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাবিকরা টাইম ভিশন২৪’কে জানানঃ আমরা ভারতীয় এজেন্ট (ত্রিপদী-রাজিব) বাংলাদেশী নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সাথে সার্বক্ষনিকভাবে যোগাযোগ করে আসছি, ভারতীয় এজেন্ট দেখতেছি-দেখতেছি বলেই অবশেষে প্রশাসনের লোক এসে দীর্ঘ (১৬ঘন্টা) প্রতিক্ষার পর লাশ থানা হেফাজতে নিয়ে যায়

বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল চৌধুরী আশিকুল আলম পোটল এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,গতকালের এই ঘটনায় ভারত বাংলাদেশ উভয় দেশের সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা জড়িত হয়েছেন, আমি তাদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছি আর সেখানে অবস্থারনত সকল নাবিকদের উদ্দ্যেশে বলেনঃ আপনারা আমাকে ঐ স্থানের সত্য ঘঠনাগুলোর সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন যাতে আমি তদন্ত করে প্রতিকার চাইতে পারি।

সর্বশেষ খবর জানা যায়, চট্টগ্রাম এর মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানাধীন ১নং করের হাট নিবাসী মৃত নাবিক আফসার হোসের লাশ আজ পোস্টমর্টেম এর পর বাংলাদেশে পাঠানোর পক্রিয়ায় আসবে।

ভারতগামী নাবিকের অসুস্থতার কারন হিসেবে সেখানে অবস্থিত বাংলাদেশী নাবিকরা জানান,বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রাকৃতিক তারতম্যের ব্যবধান অনেক বেশি এক্ষেত্রে ভারতে আসার পর নাবিকের প্রাথমিক কিছু চিকিৎসার দরকার হয় ভারতে আসার পর নাবিক টানা ২০/৩০ দিন পর্যন্ত জাহাজের সীমিত জায়গায় আবদ্ধ হয়ে থাকতে হয়, ফলে বসে বসে থাকতে থাকতে একজন সুস্থ্য ব্যক্তিও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেখানে নিজেদের বাজার করার সুযোগ নেই, ভারতে লোকজন যে বাজার করে দেয় তাহা খুবই নিম্নমানের সস্তা কম দামী বাজার। নাবিকরা তাদের পছন্দসই কোন খাবার সংগ্রহ করতে পারেন। ভারতগামী নাবিকরা প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে,

ল্যান্ডিং পাস না থাকার কারনে সময়মত নিজের চিকিৎসা ও ঔষধ সংগ্রহ করতে পারছেনা ভারতগামী নাবিক তাদের দৈনন্দিন নিত্য প্রয়োজনিয় পুষ্টিকর খাদ্য সংগ্রহ করতে পারেনা, বাধ্য হয়ে এজেন্ট যা দেয় তা খেতে হয়। এতে কিছু অসাধু লোক অতিরিক্ত মুনাফার জন্য নষ্টও অপ্রয়োজনীয় বাজার সরবরাহ করে পাঠায়, চিকিৎসা ছাড়া অনুমানের উপর ঔষধ সরবরাহ করা হয়! এজেন্টকে একাধিক ফোন করলে পরে আন্দাজের উপর চিকিৎসা বহির্ভূত ঔষধ পাঠানো হয়। যাহা সেবন করে নাবিক আরো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হয়।

প্রটোকল লাইনটিতে চলাচলকারী সকল নাবিকদের প্রাণের দাবি তারা বলেনঃ আমরা চাইনা আমাদের আর কোনো ভাই বিনা চিকিৎসায় মারা যাক, উপরোল্লিখিত সকল সমস্যা নিরসনকল্পে ভারত বাংলাদেশ এজেন্ট এবং মালিক সমিতির উদ্দেশ্য করে বলেন; দ্রুত এসব সমস্যার ফায়সালা করুন অনথ্যায় আমরা মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে আর ভারত আসবোনা- যেকোনো মুহুর্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল লাইন বন্ধের ডাক আসবে।