বেনাপোল প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে    শুল্ক গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি:বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে ভারত-বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চাঁদাবাজির স্টাইলে ঘুষ বাণিজ্য শুরু করেছেন কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দার সদস্য মনির হোসেন।

যাত্রীরা বলছেন, পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ব্যাগেজ রুলের নিয়মের প্রতি বুড়ি আঙ্গুলি দেখিয়ে টাকা দাবী করে মনির হোসেন। কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সামান্য মালামাল আটকিয়ে ৫শ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। আর কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার মালামাল সিজার করে দেন। শুল্ক গোয়েন্দার উপর মহল ভাগ পাওয়ায় দাপটের সাথে মনির ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী স্বপন হালদার বলেন, তারা দেড় মাস পরে বাংলাদেশে আসেন। এসময় ইমিগ্রেশনে ব্যাগ রেখে পাসপোর্ট সিল করাতে যান। পরে ফিরে এসে দেখেন ব্যাগ নেই। পরে জানতে পারেন তার ব্যাগ কাস্টমসে তল্লাশীর আগে শুল্ক গোয়েন্দার মনির হোসেন ব্যাগ নিয়ে গেছে। পরে তারা মনির হোসেন কাছে গেলে ব্যাগে থাকা সামান্য কেনা-কাটার জন্য ২ হাজার টাকা দাবী করে। পরে ৫শ টাকা ঘুষ দিয়ে রক্ষা পায়।

যাত্রী গোপাল পোদ্দার বলেন, তিনি ভারত থেকে ফেরার সময় সাথে বাচ্ছাদের খাদ্যদ্রবসহ ব্যবহারের কিছু কেনা-কাটা ছিল। কাস্টমস দেখে ছেড়ে দিলেও প্যাছেঞ্জার টার্মিনালে কোন কথা না বলে শুল্ক গোয়েন্দা সদস্য পরিচয়ে মনির নামে এক ব্যাক্তি ব্যাগ কেড়ে নেই।

কাস্টমস ঘোষণা অনুযায়ী স্থলপথে একজন যাত্রী ভারত থেকে ফেরার সময় সাথে ৪শত মার্কিন ডলার মুল্যের বিভিন্ন ধরনের পণ্য শুল্ক মুক্ত সুবিধায় আনতে পারবেন। এ সুবিধা বছরে তিন পাবেন যাত্রী। তবে কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা এ নিয়মের কোন তোয়াক্কা না করেই ভয়ভিতি দেখিয়ে যাত্রীদেও কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। ফলে যাত্রীদের যেমন হয়রানি আর অর্থদন্ড গুনতে হচ্ছে ।

বেনাপোল কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দার সহকারী কমিশনার মাসুদ করিম জানান, যাত্রীর কাছ থেকে এমন কোন অভিযোগ তিনি পায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষ্যে অভিযুক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।