পৃথিবীর সকল নারীরা থাকুক নিরাপদ

এমন এক সময় আসবে মানুষের মধ্যে নারী পুরুষ বলে কোন বৈষম্য থাকবেনা। কোন একসময় ছিলো ও না। পুরুষতান্ত্রিক মন মানসিকতায় আস্তে আস্তে সৃষ্টি হয়েছে বৈষম্য, একে অপরের চিন্তাধারার দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য, নিয়মনীতির বেড়াজালে আবদ্ধ করেছে নারীদের। এই শৃঙ্খল থেকে বেড়িয়ে এসে এখন ক্রমে ক্রমে শিক্ষিত হয়ে ঘরে ও বাহিরে একে একে তারা প্রতিভা ও উন্নয়নের স্বাক্ষর রাখতেছে সমাজ সংসার ও দেশের জন্য। এখন সব সেক্টরে নারীর ক্ষমতায়ন নারীর অংশগ্রহণ বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ চোখে পড়ার মতন। একসময় রাস্ট্রীয় বা সামাজিক ভাবে নারী পুরুষের কোন পার্থক্য থাকবে না। নারী দিবস বলতে ও কোন দিবস থাকবে না। প্রগতি শীল মানুষেরা অপেক্ষায় আছে সেই দিনের।
একজন নারী একজন মা, একজন মেয়ে, একজন স্ত্রী একজন বোন, যেই স্তরেরই হউক না কেন, যে কোন স্তরের একজন পুরুষের থেকে বেশী সহনশীল, শৃঙ্খল ও মায়াবতী। মায়ার টানে অনেক মেয়েরা একটা ভালোবাসা একটা সংসার ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে, তাইতো কে যেন বলেছিল মায়াবতীর কোন পুরুষ বাচক শব্দ নেই, সত্যিই তাই।।
প্রতিটা বাবার রাজকন্যা হয়ে থাকা মেয়েটি স্বামীর সংসারে হয়তো রানী হয়ে থাকতে না পারলেও পরম মমতায় সংসার কে আগলে রাখতে শেষ চেষ্টা করে যান।
আমি ঘৃনা করি ঐ সব বিজ্ঞ ব্যাক্তিদের যারা যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেন যে, নারীদের থ্রী ফোর পর্যন্ত পড়ালেখা যথেষ্ট, যে সব অন্ধ লোকেরা বলে নারীর কাজ হলো বাচ্চা পয়দা করা আর পতিসেবা করা, এমন অযৌক্তিক অবৈজ্ঞানিক কথার সাথে যারা চিল্লাইয়া সমর্থন দেন উভয়ে অন্ধমূর্খ্য। যারা বলে মেয়েদের বুদ্ধি কম তাদের থিউরি ভুল। খালি শিক্ষিত হলেই বিবেকবান মানুষ হওয়া যায় না,
একটা দেশের নারী পুরুষের সম্মেলিত প্রচেষ্ঠা ও সম পার্টিসিপেন্ট ছাড়া কখনোই উন্নতি হতে পারে না।
আমি বিস্মিত হই যখন দেখি একটা একটা শিক্ষিত পরিবারের বাচ্চা মেয়েকে শিখাচ্ছে তুমি অপরের সম্পত্তি, তুমি অপরের জন্য তৈরী হও। তোমার নিজস্বতা বলতে কিছু নাই, তুমি মানুষ না তুমি নারী!
একদিন সমাজের পরিবর্তন আসবে। আমি আশা করি তখন কোন মেয়ে ধর্ষণের শিকার হবেনা বা হলে নারীর পোশাক কে দায়ী না করে, আঙুল থাকবে প্রকৃত অপরাধীর দিকে। তখন মানুষের চোখে পড়বে ও বিবেক বুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে শিখবে যে, মেয়েশিশু, বৃদ্ধা বা কিশোর ছেলে বলৎকার হওয়ার পিছনে তার পোশাক নয় কিছু অপদার্থ বিকৃতমনা পুরুষের চরিত্র ও চিন্তাধারা দায়ী। যা বর্তমানে কতিপয় শিক্ষিতদের চোখেও পড়েনা!!
আমি স্বপ্ন দেখি এক সময় কন্যা শিশু জন্ম দেওয়ার জন্য নারীকে নির্যাতনের শিকার হতে হবেনা!
বংশের বাতি রক্ষার অজুহাতে পুত্র সন্তানের আশায় ছেলেকে দ্বিতীয় বিয়ে করাবে না!
স্বপ্নদেখি যৌতুকের বলির শিকার হবেনা কেউ। ইপ্টেজিং মুক্ত ভাবে মেয়েরা অবাধে চলাফেরা করতে পারবে! একে অপরেকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি হবে ভালোবাসার, সন্মানের, কামনার নয়! নারীর ও পুরুষের সাংসারিক কাজের কোন ক্লাসিফিকেশন থাকবেনা।
নারীদের রাষ্ট্রিয় সামাজিক ও পারিবারিক সম অধিকার থাকবে সুপ্রতিষ্ঠিত। থাকবেনা লিঙ্গ বেধে নানান রেক্সটিকশান। নিয়মনীতি সবার জন্য থাকবে এক ও অভিন্ন।
ইতিহাসে অনেক নারী সংগ্রাম করে পুরুষশাসিত সমাজের প্রতিবন্ধকতা ছিন্ন করে নারী অধিকার কে করেছেন প্রতিষ্ঠিত, এই অধিকার কে সমুন্নত রেখে আগে বাড়িয়ে নেওয়ার দ্বায়িত্ব বর্তমান প্রগতীশীল সকল নারী-পুরুষের।
নারী দিবসে, সকল নারীদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা!!
পৃথিবীর সকল নারীরা থাকুক নিরাপদ!!

লেখক: সারোয়ার বেনু