ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ স্মরণে মীরসরাইয়ে আলোচনা সভা

মোহাম্মদ মজিবুলহক(জোরারগঞ্জ)মীরসরাই: বাঙালি জাতির ইতিহাসে ৭ই মার্চ এক অবিস্মরণীয় দিন। এইদিন বাঙালি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষন প্রদান করেন। যে ভাষনে অনুপ্রানিত হয়ে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে জাপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেন।

এই ঐতিহাসিক দিনকে স্বরণ করে মীরসরাইয়ের মেহেরুননেছা ফয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ে সীমিত পরিসরে এক আলোচনা সভা বিদ্যালয় শিক্ষক মিলনায়তনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু বটন কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মহিউদ্দিন ওসমানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু অমর কুমার দে, সিনিয়র শিক্ষক জনাব নুরুল কাদের হৌছাইনী, সিনিয়র শিক্ষক সূপর্না রানী দে, মোনাজাত পরিচালনা করেন হেড মাওলনা মোঃ ইলিয়াছ।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ : তাৎপর্য বিশ্লেষণঃ
বাঙালি জাতীয়তাবাদ এদেশের সাধারণ মানুষের নানা গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাগ্রত ঐক্যের এক অভিন্ন জীবমন্ত্র। ব্রিটিশ উপনিবেশের দু’শত বছরের শাসন এবং উনিশ’শ সাতচল্লিশে ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা কলোনিপ্রতিম পূর্ব বাংলার দলিত, দমিত, অধিকার বঞ্চিত মানুষের গণভিত্তিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও মুখ্য চরিত্র করে তোলে। দেশের সার্বিক বাস্তবতা, গণমানুষের চেতনা, প্রগাঢ় আস্থা ও বিশ্বাস, সময়োচিত জনগণের পালস্‌ বোঝার ক্যারিশম্যাটিক গুণই বঙ্গবন্ধুকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়কে আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু কেবল যুগের সৃষ্টি নয়, বাঙালির জাতির পাললিক স্রষ্টা।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ কেবল মুখনিঃসৃত শব্দরাজি নয়, প্রবঞ্চিত বাঙালিজাতির হাজার বছরের চাপা পড়া কষ্টস্বর একসঙ্গে ধ্বনিত হয়েছে। এই ভাষণ পাকিস্তানি অন্যায়, অপশাসনের বিরুদ্ধে বজ্রবৃষ্টির মতো তীব্রভাবে অভিঘাত করেছে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীকে আর বাঙালিকে দিয়েছে পথের দিশা, যুদ্ধে যাওয়ার অমিত সাহসী প্রেরণা। তাই ৭ই মার্চের ভাষণের বহুমাত্রিক তাৎপর্য রয়েছে।