সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা

সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা
শুনশান নীরবতায় চৈত্রের খা খা দুপুর। মাটি ফাটা রোদ। পাখপাখালিও কোন শব্দ করছে না। এই তাতানো গরমে মামদো ভূতেরও ঘুম আসছে না। ভূতগিন্নি শন্নাকালিও ছানাপোনাদের নিয়ে হাপিসতাপিস করছে। ভূতেদের দিনে ঘুম না হলে রাতে কাজ করবে কিভাবে? গতরাতে ভালো খাবার যোগাড় হয়নি, ছানা-পোনা গুলো আধপেটা খেয়ে আছে, তাই ঘুমের মধ্যেও ঘ্যানঘ্যান করছে। খাবার যোগাড় করাই এখন বিস্তর ঝামেলা! মরার মানুষেরা এমন কোন জায়গা রাখছে না যেখানে ছানাপানা নিয়ে একটু হাত-পা ছড়িয়ে থাকা যায়। বাঁশবন উজাড়, বড় বড় গাছ গুলো কেটে ফেলছে, খাল-বিল, ডোবা-নালা ভরাট করে সব ওরা দখল করে নিচ্ছে। এই ঝোপঝাড়ে ঘাপটি মেরে, কোনায় কানায় আর কত থাকা যায়! ধুর ঘেন্না ধরে গেল এই ভূতজীবনে।
হ্যাঁগা ও গিন্নি, বলছি ঐ খাদ্য খাবার কি শুকনো পচা কিছু আছে নাকি? পেটে যে চামচিকে ডাকতিছে। ঘুম আসতিছে না!
কিঁ? মরার মিনষে,গেঁড়ি-গেণ্ডিগেরই পেট ভরাতি পাল্লাম না, আর ধুমসো বুড়ো কয় ঘুম আসতিছে না। পাল্লি যাও কিছু যোগাড় করে আনো দিকি!
মামদো পাশগড়া দিয়ে চুপ হয়ে গেল, কি আর করা, পুরষেভূত বউ ছানা-পোনার যদি ঠিকমতো খাওয়াতে না পারে তো মানসম্মান থাকার কথা না।
হঠাৎই শন্নাকালি মামদোরে হেলা দিয়ে চাপাস্বরে বলে উঠলো, হ্যাঁগা গন্ধ পাচ্ছো? একদম তাজা মাছের গন্ধ? মামদো ধড়মড়িয়ে উঠে কই? কই? বলে চোখ রগড়াতে লাগলো। ঐ রাস্তার দিক থেকে গন্ধটা আসছে, চলো যেয়ে দেখি।
কিন্তু এত রোদে কি ঠাওর করতে পারবো?
আ-মলো চলোই তো! ঐ দেখো একটা ভ্যানগাড়ি আসছে, ওটার থেকেই মাছের গন্ধ আসছে। একটা কালো কাপড় জড়ানো ঘোমটা পরা বউ বসে আছে, ওর কাছেই মাছের হাড়ি। একা বসে আছে, একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে হাঁড়িটা নিয়ে এসো।
ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেব! মামদো আমতাআমতা করে। শন্নাকালি রেগে ওঠে, থাক তোমার কিছু করতে হবে না। তোমার মুরোদ আমার জানা আছে।ছেলেপুলেদের কথা তো তোমাকে ভাবতে হয় না! আমি ভ্যানে একটা লাত্থি মারবো, ভ্যান ভেঙে পড়বে তুমি মাছের হাড়ি নিয়ে চলে এসো।
কথা মতো সেই কাজ,ভ্যান ভেঙে পড়লো রাস্তায়, বউটা ছিটকে পড়লো একদিকে, চালক আরেক দিকে। মাছের হাঁড়ি হাওয়া। শন্নাকালি ঘুমন্ত ছেলেপুলেদের তুলে মুখে মাছ ঠুসতে লাগলো, মামদোকেও চারটে দিল। আর ওদিকে ভ্যানওয়ালা আর মাছওয়ালা বউটার রাস্তায় রক্তারক্তি কাণ্ড। ভূতের মাইর বলে কথা!
ভরদুপুরে মাছ নিয়ে শুনশান পথে বের হলে এমন তো হবেই, এ আর নতুন কি!
(একদম সত্যি ঘটনা অবলম্বনে লেখা)

মাহমুদা রিনি