২৭ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান শেষে ঝাঁপা বাঁওড় থেকে কলেজছাত্র শোয়েবের মরদেহ উদ্ধার

নজরুল ইসলাম,মনিরামপুর: রাজগঞ্জের ঝাঁপা বাঁওড়ে নিখোঁজ কলেজছাত্র আল ফারাহ শোয়েবের মরদেহ দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অবশেষে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে ডুবুরি দল।
শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার সময় বাঁওড়ের যেখানে ঝাঁপ দিয়েছিলো, ঠিক সেখান থেকেই খুলনা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সদস্য হুমায়ন কবির ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেছে।
নিখোঁজ শোয়েব যশোর সরকারি সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। সে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার শাহিন হোসেনের ছেলে। তার বাবা ঈগল পরিবহনের সুপারভাইজার।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আব্দুল আজিজ। তিনি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আব্দুল আজিজ বলেন, দ্বিতীয় দিনে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে শোয়েব হাসানের মরদেহটি বাঁওড়ের তলদেশ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে প্রথমে বৃহস্পতিবার দুপুর একটা থেকে শোয়েবকে উদ্ধারে স্থানীয়দের সাথে পানিতে নামেন মণিরামপুর ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সদস্যরা। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে ডুবুরিরা কাজে অংশ নেন। কোনো খোঁজ না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে দেয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে যশোরের একটি কোচিং সেন্টার থেকে ১৮ জনের একদল কলেজের শিক্ষার্থী রাজগঞ্জ বাজার-সংলগ্ন ঝাঁপা বাঁওড়ের পশ্চিম পাড়ে পিকনিকে আসে। এরপর তারা সবাই জেলা প্রশাসক ভাসমান সেতুর তীর হতে নৌকায় চড়ে বাঁওড় ভ্রমণে বের হয়। নৌকাটি রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছে পৌঁছুলে শোয়েব, তন্ময় ও রিফাত- তিন বন্ধু নৌকা থেকে পানিতে লাফিয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে তন্ময় ও রিফাত তীরে উঠলেও নিখোঁজ হয় শোয়েব।