অর্পণ পর্ব (১১) : কাঞ্চন চক্রবর্তী

অর্পণ পর্ব (১১)
কাঞ্চন চক্রবর্তী

কেন? নাকি ঐ মাহিনায় তোমার পোশাইতেছে না? এর থেকে বেশি আমি দিতে পারিবো না, দশ হাজার টাকার কথা শুনিয়া অর্পণের মস্তক একেবারে ঘুরিয়া যাইবার উপক্রম হইয়া গেল, এতো অর্থ কোনদিন সে একবার চর্মচক্ষুতে দেখে নাই, কি বলিবে তাহা সে বুঝিতে পারিতেছে না, পাচ হাজার টাকাও লাগিবে না তাহার পড়াশোনায়, আর যদি পাঁচ হাজার অর্থও লাগিয়া যায় তবুও পাঁচ হাজার অর্থ উদ্বৃত্য হইবে, বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে কিছুটা হইলেও সাহায্য করা যাইবে, “ও আমি বুঝিতে পারিয়াছি ঐ মাহিনায় তোমার পোশাইবে না তাই তুমি আমার স-মুখে দাড়াইয়া বলিতে না পারার কারণে চুপ করিয়া রহিয়াছো, ঠিক আছে আমি অন্য পূরহিতের ব্যবস্থা করিব” “না-না কাকাবাবু আমি এমন বাক্য বলিতে চাহি নাই, আমি সম্মতি জ্ঞ্যাপন করিতেছি, আমার কোন প্রকার আপত্তি নাই, আমি রাজি, তবুও আমাকে কি কি কর্ম সম্পাদন করিতে হইবে তাহা যদি ঠিকঠাক

পর্ব (১২) অর্পণ
বুঝাইয়া দেন তাহা হইলে বোধকরি আমার কর্তব্য কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করিতে সুবিধা হইবে,” “প্রাতে উঠিয়া প্রাকৃতিক কর্ম সম্পন্ন করিয়া স্নানাদি শেষে শুদ্ধ বসন পরিধান করিয়া সমস্ত গৃহে গঙ্গাঁজল ছিটাইতে হইবে, ততপর গবিন্দ পূজা সম্পন্ন হইলে গীতা পাঠ করিতে হইবে, এহোকর্ম প্রাতে ও সন্ধ্যাকালিন দুই সময়ে সম্পন্ন করিতে হইবে,ইহার ব্যাতিক্রম হইলে চাকুরী হইতে বহিস্কার করা হইবে কথাটা মনে রাখিলে তোমার মঙ্গল, আশাকরি বুঝিতে সক্ষম হইয়াছো,” “আগ্গে হ্যা বুঝিয়াছি,” “তাহা হইলে আজ হইতে নিজ কর্মে মনোনিবেশ করো” ” অর্পণ মস্তক নিন্মে দোলাইয়া হ্যা সূচক অর্থ প্রকাশ করিলো, নিশিথ বাবুর কন্যা বয়সে কত আর হইবে? আনুমানিক পনের/ষোল হইতে পারে,সবে মাত্র মেট্রিক পরীক্ষা সম্পপন্ন করিয়াছে,লেখাপড়ায় একদম বাজে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করে না, চার চারটা গৃহ শিক্ষক থাকা সত্তেও টানিয়া টুনিয়া পাশ মার্ক আসে, তাহাতে তার পিতার সব সময় চিন্তা লাগিয়া থাকে, চারজন টিউটরের মাসিক মাহিনা বাবদ আট হাজার আর হাত খরচ কুড়ি হইতে ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করিতে হয়, সারাদিন হৈ হুল্লড় নাচ গান পার্টি লংড্রাইভ চড়ুঁইভাতি ডিক্সে যাওয়া আসাতো রহিয়াছেই, একটু বকাঝকা করিলেই শিবের তান্ডব নৃত্য শুরু করিয়া দিয়া থাকে, তাই নিশিথবাবু তেমন কিছু বলেন না, কারণ হইতেছে সেই শিশু অবস্থায় রেখার মাতৃ বিয়োগ ঘটিয়াছে, অর্ধ বয়সে তিনটি সন্তানের সমুখে পুনরায় আর বিবাহ কর্ম সম্পন্ন করেন নাই,তাহাতে সমাজের নিকট মান এবং মর্যাদা বাড়িয়াছে বৈ কমে নাই,আয়ার নিকটে কন্যাকে বড় করার দায়ীত্ব দিয়া ব্যবসার সমস্ত কর্ম সম্পাদন করিতেন, তাহার কারণে কন্যাটি শাষন বারণ কোনটাই করা হয় নাই,তাই এখন তার কোনটাই করা সম্ভব নহে, যা হোক মূল বাক্যে ফিরিয়া আসি, দ্বী-তলা হইতে উর্গকণ্ঠে চিৎকার করিতে-করিতে বলিলো ” ভোলাদা এই ভোলাদা তোমাকে যে কর্ম করিতে

পর্ব (১৩) অর্পণ
মাসিক মাহিনা বাবদ আট হাজার আর হাত খরচ কুড়ি হইতে ত্রিশ হাজার টাকা প্রদান করিতে হয়, সারাদিন হৈ হুল্লড় নাচ গান পার্টি লংড্রাইভ চড়ুঁইভাতি ডিক্সে যাওয়া আসাতো রহিয়াছেই, একটু বকাঝকা করিলেই শিবের তান্ডব নৃত্য শুরু করিয়া দিয়া থাকে, তাই নিশিথবাবু তেমন কিছু বলেন না, কারণ হইতেছে সেই শিশু অবস্থায় রেখার মাতৃ বিয়োগ ঘটিয়াছে, অর্ধ বয়সে তিনটি সন্তানের সমুখে পুনরায় আর বিবাহ কর্ম সম্পন্ন করেন নাই,তাহাতে সমাজের নিকট মান এবং মর্যাদা বাড়িয়াছে বৈ কমে নাই,আয়ার নিকটে কন্যাকে বড় করার দায়ীত্ব দিয়া ব্যবসার সমস্ত কর্ম সম্পাদন করিতেন, তাহার কারণে কন্যাটি শাষন বারণ কোনটাই করা হয় নাই,তাই এখন তার কোনটাই করা সম্ভব নহে, যা হোক মূল বাক্যে ফিরিয়া আসি, দ্বী-তলা হইতে উর্গকণ্ঠে চিৎকার করিতে-করিতে বলিলো ” ভোলাদা এই ভোলাদা তোমাকে যে কর্ম করিতে
চলিবে- – – –