অর্পণ পর্ব (১০) : কাঞ্চন চক্রবর্তী

অর্পণ পর্ব (১০)
কাঞ্চন চক্রবর্তী

নিশিথবাবু অর্পণের হস্ত হইতে পত্রটি লইয়া খুলিয়া দৃষ্টিগোচর করিলো, পত্রে হুবহু এমনই লেখা রহিয়াছে “বন্ধু নিশীত,সর্ব প্রথমে নমঃস্কার রহিলো, আমার একমাত্র পুত্রকে তোমার নিকট পাঠাইলাম উচ্চশিক্ষা গ্রহনের জন্য, তাহার শিক্ষা গ্রহনে যেন ত্রুটি না হয়, তাহাকে রোজগারের ব্যবস্থ্যা তুমি অবশ্যই করিয়া দিবে যাহাতে তাহার বিদ্যা শিক্ষার কোন প্রকার বিগ্ন না ঘটে, জীবনের শেষ ইচ্ছাটুকু পূরণ করিবে, মনের মানুষ কলিযুগে বা এ জামানায় পাওয়া বড় দুস্কর, পুত্র টাকে সাহায্য করা একান্ত ভাবে প্রয়োজন, কিন্তু সে দয়ার দান কোন ভাবেই গ্রহন করিবে না।” পত্রপাঠ সমাপ্ত করিয়া নিশিথবাবু কৌশলে বলিলো, “দেখবাপু, আমাদের পূজাপার্বণ করিবার জন্য একজন পূরোহিতের প্রয়োজন, একজন পূরোহিতকে বলিয়াছিলাম সে মাসিক মাহিনা বাবদ কুড়ি হাজার অর্থ দাবী করিয়া বসিল, আমি দশ হাজার অর্থ প্রদান করতে চাহিয়াছিলাম তাহাতে তাহার পোশাইলো না,তাই তাহাকে পূরোহিত হিসাবে নিয়োগ দিতে পারিলাম না,তুমি যদি আমার গৃহ পূজার কর্ম করিতে চাও, তাহা হইলে করিতে পারো,থাকা ও আহারের ব্যবস্থা আমি নিজেই করিবো,গৃহে দু’বেলা পূজার জন্য মাসে দুই থেকে তিন হাজার টাকার বেশি এই বাজারে হবার কথা নয়,” তবুও তাহাকে ঐ অর্থ মাহিনা হিসাবে দিলে সে বিদ্যাভাস করিতে পারিবে না, তাই নিশিথবাবু এই বুদ্ধি মনে-মনে সাজাইলেন “কিছু বলিতেছো না,

চলিবে- – – –