অর্পণ(৮ ) : কাঞ্চন চক্রবর্তী

অর্পণ(৮ )
কাঞ্চন চক্রবর্তী

পারিলেই ভাল, রেখা একটি ট্রেতে করিয়া কিছু ফলমূল, বিস্কুট আর চা লইয়া হাজির হইলো, সাথে-সাথে অর্পণ উঠিয়া দাড়াইয়া দু’টি হস্ত একত্রে করিয়া তাকে নমঃস্কার জানাইলো, রেখা তাহার দিকে বাঁকা চক্ষুতে চাহিয়া রীতিমত হতবাক হইয়া কিছুক্ষন নিরাবতা পালন করিল, কারণ অর্পণের পরিধিয় সাদা রঙের ধুতি আর গায়ে ফতুয়া টাইপের ধুলাই না করা একটি পোশাক বেশ পূরাণো, চুলগুলি উসকো ফুসকো,সারাদিন আহার কার্য সম্পন্য হয়নাই, ক্লান্তি ভরা দুটি অক্ষি, জল খাবারের পাত্রটি জোরছে রাখিয়া বলিল “কে এ কোথা হইতে যোগাড় করিয়াছো?” সে উচ্চস্বরে বলিলো “আ্যনসার মি” বাক্যগুলি রেখা তার পিতার উদ্দ্যেশে বলিলো,একটু নিরব থাকিয়া, “মাতা এসব কি বলিতেছো? অর্পণ আমার বাল্য কালের খেলার সাথী নিতাইচরণ চক্রবর্তীর পুত্র শুধু তাই নহে, আজ আমি বড় ব্যবসায়ী হইয়াছি তাহার জীবনের অনেক খানি অবদান রহিয়াছে, আজ যদি নিতাই আমাকে সেই সময় সাহায্য না করিত
চলবে- – – – –

অর্পণ (০৯)
তাহা হইলে হয়তো আমার এই খানে পৌছাইতে অনেকটা দেরি হইয়া যাইতো, অথবা ব্যবসার যাত্রা মার্গে বড় রকমের ধাক্ষা খাইয়া মার্গে বসিবার উপক্রম হইতো,যদি বলি আমার ল্যান্ড প্রোপাটির অর্ধেক দাবিদার নিতাই তাও হয়তো ভুল হইবে না, আশাকরি বুঝিতে সক্ষম হইয়াছো” রেখা অগ্নি মুর্তি ধারণ করিয়া নিজ স্থান প্রস্থান করিল,”ওর বাক্যে তুমি চিত্তে কিছু আনিও না, ও ওরকমই বলিতে পারো, একটু ডানপিটে স্বভাবের” ” না-না আমি কিছু চিত্তে আনি নাই,” রেখার অগ্নি মুর্তি দেখিয়া অর্পণের হস্ত মুখো মন্ডল ধুইবার বাক্য ভুলিয়া গিয়াছে, সে বেসিংয়ে হস্ত মুখমন্ডল ধৌত করিয়া কেদারায় মেরুদন্ড টাকে হেলান দিয়া বসিল, প্রচন্ড ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় পেট একেবারে জ্বলিয়া পুড়িয়া যাইতেছে, গো-গ্রাসে সমস্ত জল খাবার সাবাড় করিয়া ফেলিল, চায়ে চুমুক দেওয়া মাত্র নিশিথবাবু জিজ্ঞাসা করিলো “এবার বলো তোমার পিতা-মাতা কেমন আছে?” ” তাহারা কুশলেই রহিয়াছে কাকা বাবু আপনার জন্য একটা পত্র আছে