অর্পণ (০৬) :কাঞ্চন চক্রবর্তী

অর্পণ (০৬)
কাঞ্চন চক্রবর্তী 

দাদা, এই ঠিকানাটা কোথায় যদি একটু দয়া করিয়া বলিয়া দিতেন তাহলে বড় উপকার হইতো, পথচারি ঠিকানাটা পড়িয়া সে গৃহটি দেখাইয়া দিল,এবং সেই গৃহের সমুখে আসিয়া সে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করিতে গিয়া প্রথমে বাধা প্রাপ্ত হইলো,বিশাল বড় অট্টালিকা প্রধান ফটকে দন্ডায়মান সিকুরিটি গার্ড তাহাকে জিজ্ঞাসা করিল “কোনহে তুম, তোম কাহাজারাহু? তোমহারা নাম কিয়া? কিয়া চাহিয়ে?” অর্পণ গায়ের পুত্র কোনদিন কোলকাতা শহরে আসেনাই, তাছাড়া বাংলা ছাড়া হিন্দী ভাষা সে ভালভাবে রপ্ত করিতে পারে নাই বা পারে না, সামান্য ইংরেজি বলিতে পারে, সে মিশ্রিত ভাষায় বলিলো “এটাকু নিতাই বাবুকা মাকান হ্যায় মানে গৃহ?” ” সিকুরিটি গাড বলিলো “জরুর নিশিথ বাবুকা মাকান হ্যায় তো তোম কিয়া করেগা?” “আমি উনার সাত দেখা করেগা। মেরা নাম অর্পণ হ্যায় হাম দুর্গাপুরমে আসেগা, “ও ঠিক হ্যা তোম বৈঠ হামপাতা লাগায়গা,” সিকুরিটি ওয়াকি টকি তুলে ফোন করলো ও অন্য প্রান্ত থেকে ফোনটি রিসিভ করলো ম্যাম এক আদমি বলরাহিহে হাম দুর্গাপুরমে আয়েথা হ্যা-হ্যা জরুর ফোনটি রেখে দিয়ে বলিল “বড়া সাব অন্দরমে নেহিহে” কি আর করিবে নিশিথ বাবু গৃহে ফিরিয়া আসা অবদি অপেক্ষা করা ছাড়া আর তাহার আর কোন উপায় আছে বলিয়া মনে হয় না, ক্ষদা তৃষ্ণায় শরীরটা আর যেন চলে না, দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামিয়া আশার উপক্রম হইয়াছে এমন সময় একটি বিলাশ বহুল যন্ত্রচালিত যান সদর দরোজার সমুখে হাজির হইলো, হাজির হওয়া মাত্র সিকুরিটি দৌঁড়াইয়া আসিয়া যন্ত্রযানের দুয়ার খুলিয়া দিল এবং বড় করিয়া সেলাম ঠুকিলো, সাথে সাথে অর্পণ প্রনাম করিল যেমন ভাবে কোন দেবতালয়ে দেবী বা দেবতাকে প্রনাম করিয়া থাকে “থাক-থাক করো কি-করো কি? কে তুমি’ “আগ্গে আমি অর্পণ,তা কাহাকে করতে চাও?” “মানে, না মানে আমি বলতে

পর্ব (০৭)
চাহিয়াছো তুমি অর্পণ? তুমি কাহাকে অর্পণ করিতে চাও?” নিশিথবাবু বরাবরই একটু ঠাট্টা মসকারা করতে পছন্দ করিয়া থাকেন, “আগ্গে আমার নাম অর্পণ চক্রবর্তী পিতার নাম নিতাই চক্রবর্তী গ্রাম দুর্গাপুর,” “তুমি বলিলে? আমার বাল্য বন্ধু নিতাই চক্রবর্তীর পুত্র?” সাথে-সাথে অর্পণকে বক্ষে জড়াইয়া ধরিয়া সে কি আনন্দ, চল-চল গৃহের ভিতরে চলো,” অর্পণকে সাথে লইয়া গৃহের ভিতরে প্রবেশ করিয়া ড্রইং রুমে বসিতে বলিল “তুমি এখানে বসো, বেসিং এ ফ্রেস হও আমি চা দিতে বলিতেছি, আমি পরির্বতন করিয়া আসিতেছি,রেখা, রেখা ড্রইং রুমে আমাদের দু’জনের জলখাবার দাও,” “যাই বাবা,” পাশের কক্ষ হইতে উত্তর আসিল,রেখা কোলকাতার ধনাঢ্য নিশিথ বাবুর দুই পুত্র আর এক কন্যা, পুত্রদ্বয় উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হইয়া বিলেতে বড় পদে চাকুরী করে, বিশেষ কোন প্রয়োজনে ব্যাতিত বা কোন অকেশানে ব্যাতিত স্ব দেশের ভূমিতে পদ রাখে না, কন্যাটি সকলের কনিষ্ঠ, সর্ব সময় নৃত্য সংগীত,বন্ধু বান্ধব,নাইট পাটি,ডিস্কে তার আনাগোনা,নিশিথ বাবু তাকে আদরে-আদরে একেবার বাঁদর তৈরী করিয়া ফেলিয়াছেন, যাকে বলে কডলেস মানকি, উচ্চস্বরে বাক্য বিনিময় করিয়া থাকে, যখন যাহা বলিবে তখন তাহাই করিতে হইবে, তাহা না হইলে গৃহটাকে একেবারে ভাঙ্গিয়া চুরমার করিয়া সব কিছু নষ্ট করিয়া ফেলে, পোশাক পরিচ্ছদ যাহা পরিধান করিয়া থাকে তাহা মুখে বলিতে আমি লজ্জা পাইবো, তার পোশাকের কথা আর নাইবা বলিলাম, তবে এতোটুকু বলিতে পারি সে সিনেমার নায়িকার থেকেও ছোট-ছোট বসন পরিধান করিয়া থাকে,মনে হয় এখন গ্রিশ্মকাল চলিতেছে,তাই এমন বসন পরিধান করিয়াছে,নারী দেহটাকে অর্ধনগ্ন করিয়া বাহিরে অন্য নরকে প্রদর্শন করাকে যদি হাই সোসাইটি বলিয়া থাকেন তাহলে আমি তাহাকে ঘৃণা করিবো ছাড়া, স্বাগত জানাইবো না, যাক রেখার বসনের ব্যখ্যা আর নাইবা প্রকাশ করিলাম, তবে এসব রমণীরা এক সময় নিজের ভুল বুঝিতে পারে, আর।
চলবে- – –