অর্পণ (০৫) : কাঞ্চন চক্রবর্তী

অর্পণ (০৫)
কাঞ্চন চক্রবর্তী

তিল-তিল করিয়া জমানো কিছু খুরচা পয়সা, পিতা পুত্রকে রেলযন্ত্র যানে তুলিয়া দিয়া যতদুর অক্ষিদয়ের দৃষ্টি যায় ততদুর পিতা রেলযন্ত্র যানের পানে চাহিয়া রইলেন, আর হস্ত নাড়াইয়া পুত্রকে বিদায় জানাইলেন। কোলকাতার শিয়ালদহ রেল ইষ্টেশনে গাড়ি থামিলে অর্পণ তাহার সাথে থাকা সমস্ত জিনিস পত্র লইয়া রেলযন্ত্রযানের কামরা হইতে নামিয়া কোনদিকে যাইবে তাহা সে বুঝিতে সক্ষম হইলো না, কেমন যেন সব কিছু গুলাইয়া যাইতেছে, লক্ষ লক্ষ নরনারীর ঢল যেখানে কাহাকেও জিজ্ঞাসা করিবে এমন কাহাকেও পাইলো না, অবশেষে টহল পুলিশের সহযোগিতায় সল্টলেকে যাইবার উপায় পাইলো, কোলকাতার সল্টলেকে অভিজাত শ্রেনীর নরগন বসবাস করিয়া থাকে সেখানে কোন প্রকার দরিদ্র শ্রেনীর নর বসবাস করে না, এখানে ভূমির যে পরিমান মূল্য তাতে করিয়া নিন্ম মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত নরের পক্ষে গৃহভূমি ক্রয় করা একেবারে অসাদ্ধ্য সাধন করিবার মত, সারি-সারি ইট পাথরের গৃহ, আর গৃহ পাঁচ থেকে দশ বা কুড়িতলা তাহার ও বেশি হইবে ইহাতে কোন প্রকার সন্ধেহ নাই, সারাটি দিবস হাটিয়া-হাটিয়া নিশিথবাবুর বাড়ির সন্ধ্যান করতে করতে অর্পণ একেবারে ক্লান্ত হইয়া গিয়াছে, উদরের মাঝে ক্ষুদার জ্বালায় জ্বলিয়া যাইতেছে, তবু দু’টি অর্থ খরচা করিয়া কিছু ক্রয় করিয়া ভোজন করিবে এমন অবস্থা তাহার নাই, কারণ একেই তো বিশ্ববিদ্যা লয়ে ভর্তি হইতে খরচপাতি কেমন লাগিবে তাহার কোন হিসাব জানা নাই, তাই সে চিত্তে স্থির করিলো যে অগত্য চাপ কলের জল পান করিয়া এই বেলাটুকু কাটাইয়া দিবে,সব দিকে চাপ কল খুঁজিতে লাগিল কিন্তু বড় শহরে চাপকল পাওয়া অসাদ্ধ কর্ম,অবশেষে পৌর সভার সাপ্লায়ের জল নরগন লাইন দিয়া লইতে দেখিয়া সে সেখান হইতে কিছুটা জল গ্রহন করিল, হাত ও মুখম ন্ডলে কিছুটা জল ছিটাইয়া দিল এবং কিছুটা পান করিয়া সস্তির নিঃশ্বাস ফেলিল,তাহার পর কিছুটা মার্গ পদব্রজের পর একজন ভদ্রলোক কে সুধাইলো