অর্পণ উপন্যাস(০২) :কাঞ্চন চক্রবর্তী

অর্পণ উপন্যাস(০২)
কাঞ্চন চক্রবর্তী

হবো তুমি কি এ বিষয়ে নিশ্চিত? না বাবা এ সব কিছুর আমি নিশ্চিত না, তবে একটা ব্যবস্থা ঠিকই হইয়া যাইবে, তুমি কোন চিন্তা করিও না, যদিও পিতাকে সান্তনা দিয়ে চুপ রাখার একটি প্রয়াশ মাত্র, কিন্তু কোলকাতায় জীবনে কোন দিন যাওয়া হয়নাই কাহারো সাথে চেনাজানা নাই কি করিবে, ভর্তির ফিসই বা কত, থাকিবার জন্য বাসস্থানই বা কে জোগাড় করিয়া দিবে কি ভাবে কি করিবে মস্তকে চিন্তায় যেন তাহার মস্কক ঘুরিয়া যাইতেছে, তাহার উপর যদি পাঠশালার পুস্তক ক্রয় করা সহ শহরের বিশ্ববিদ্যালয় বলিয়া কথা, ওখানে কতনা ধনী ব্যাক্তির সন্তানেরা বিদ্যালাভ করিতে আসিবে তাহাদের সহিত তাল মিলাইয়া চলাটা এতো সহজ হবে কি? উফ্ মস্তকটা একদম গুলাইয়া যাইতেছে, অর্পণ মনে মনে একটা ভাবনা এলো সে কোলকাতায় গিয়া যখন পাঠ দান বন্ধ থাকিবে বা অবসর সয়মটা কাজে লাগাইয়া অর্থ উর্পাজন করিবে কিন্তু কি কর্ম করিবে তাহা সে ভাবিতে লাগিল, হটাৎ তার মস্তকে একটা বুদ্ধি আসিল, হয় সে ঠ্যালাগাড়ি চালাইবে অথবা কুলির কর্ম কবিবে তাহা না হইলে তার বিদ্যাভ্যাস বন্ধ হইয়া যাইবে, গৃহ হইতে একটি কানাকড়িও নেওয়া চলিবে না কারণ তাহার পিতার অর্থ যোগান দেওয়ার তেমন সমর্থ তাহার পিতার নাই, একেই নুন আনিতে পান্তা ফুরায় তাহার উপর পিতার রুগ্ন শরীর ঠিক মত ঔষধ খাইতে পারেনা, মাতার মুখে পানে চাওয়া যায় না, অভাবের সংসারে যা হয় আরকি, যাহোক অর্পণ রাতের আহার সম্পন্ন করিয়া নানা চিন্তার বোঝা মস্তকে রাখিয়া নিদ্রায় যাইবার জন্য শয়ন করিল,কিন্তু নিদ্রাদেবি তাহার চর্মচক্ষুতে ভর করিল না,এপাস ওপাস করিতে লাগিল এক সময় ঠিকই

পর্ব (০৩)
নিদ্রাদেবী চর্মচক্ষুতে ভর করিলো, মাতাদেবী প্রাতে বিছানা ত্যাগ করিয়া হিন্দু গৃহের নিয়ম অনুযায়ী আঙ্গিনায় গোবর ছড়া দিয়া থালা বাসন পরিস্কার কর্ম সম্পন্য করিল, পুত্রকে ছাড়িয়া একটি রাত্রি ও তাহারা নিদ্রা যাপন করেন নাই,তাই মাতাদেবী চিত্তে ডুকরে-ডুকরে কাঁদতেছেন পুত্র তাহার কোথায় কেমন করিয়া চলিবে, অর্থবিত্ত থাকিলে না হয় কথা ছিল না, বাসস্থান এবং আহার কেমন করিয়া যোগাড় করিবে,তাহার উপর পাঠশালার পুস্তক, মাহিনা যাতায়াতের জন্য হাত খরচা কি ভাবে সে যোগাড় করিবে তাহা মাত্র রাধা মাধবই জানেন, এমন হাজার ও চিন্তা তাহার মস্তকে আঘাত করিতে লাগিলো, এমন সময়ে পিতা নিতাইচরণ বিছানা ত্যাগ করিয়া বলিলেন” খোকা বিছানা ত্যাগ কর, নিশি প্রভাত হইয়া গিয়াছে স্নান করিয়া এসো জল খাবার খাইবে” “অর্পণ দ্রুত বিছানা ত্যাগ করিয়া ছুটিলো প্রকৃতির ডাকে ছাড়া দেবার জন্য,সেখান হইতে ফিরিয়া স্নান শেষ করিয়া নিজ কক্ষে প্রবেশ করিলে মাতা কহিলেন” আয় বাবা জল খাবার আহার করিয়া লও”জল খাবার বলিতে প্রাতে এক মুঠো মুড়ি আর একঘটি জল এবং এক পিয়ালা চা,এর থেকে বেশি নিতাইচরণের ক্ষমতা নাই,এমন সময়ে ডাকহরকরা চিৎকার করিয়া বলিল “চিঠি আছে চিঠি” ডাকহরকরার কণ্ঠের আওয়াজ শুনিয়া অর্পণ দ্রুত গিয়া বলিলো “কার চিঠিগো” “অর্পণ চক্রবর্তী নামে সরকারী চিঠি আছে এখানে একটা দস্তখত করুন” অর্পণ দস্তখত করিয়া চিঠিটি হস্তগত করিয়া খুলিয়া পাঠ করিয়া আনন্দে চিৎকার করিয়া বলিলো “পিতা মাতা আমি কোলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করিবার সুযোগ পাইয়াছি” অর্পণের চিৎকার শুনিয়া নিতাই

অর্পণ পর্ব (০৪)
বাবু বলিলেন “আচ্ছা খোকা কোলকাতার গিয়া কোথায় কি করিবে কিছু ঠিক করিয়াছো?” “পিতা তুমি ও সব কিছু চিন্তা করিও না, একটা কিছু ব্যবস্থা হইয়া যাইবে” “দেখ তুমি যা ভাল বুঝিবে তাহাই করিবে” “হ্যা পিতা আমি আগামী কল্য কোলকাতায় যাইতে চাই” “কালই যাইতে হইবে?” একমাত্র পুত্র সন্তানকে ছাড়িয়া থাকিতে হইবে তাই বৃদ্ধ বয়সে চিত্তে কেমন জানি ব্যাকুল হইয়া উঠিল, কোনদিন তো এমন হয় নাই তাই, অর্পণ নিজ বসন গুলি যাহা কিছু আছে তাহা আবার ময়লা সেগুলোকে একটু পরিস্কার পরিছন্ন করা প্রয়োজন, পরিধান করিবার উপযোগি করিয়া তুলিতে হইবে তাহার কোন বিকল্প নাই, অর্পণ যা-যা লইবার তা সে ঠিকঠাক গুছাইয়া একটি থলির মাঝে প্রবেশ করিয়াছে,এবার রওনার হইবার পালা, পরদিন প্রাতে আট ঘটিকায় রেল যন্ত্রযান ছাড়িবার কম পক্ষে দশ মিনিট পূর্বে যথাস্থানে আসিয়া উপস্থিত হইতে হইবে, তাহার পূর্ব হইতে রেলযন্ত্রযানের টিকেট টা সে ক্রয় করিয়া রাখিয়াছে, যাহাতে কোন রকম অ-সুবিধার স্বমুক্ষে হইতে না হয়,পরদিন প্রাতে চা মুড়ি জলযোগ করিয়া কেলকাতার উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হইবে সমস্ত প্রস্তুতি পর্ব সুসম্পন্য করিয়া রাখিয়াছে অর্পণ,পরদিন প্রাতে পিতা ও মাতাকে প্রণাম করিয়া মস্তক উঁচু করিতেই গর্ভধারিণী জননী কাঁদিয়া উঠিলেন, পিতা তাকে সান্তনা দেয়ার জন্য স্ত্রীকে বলিলেন “ইহাতে কাঁদিবার কি প্রয়োজন রহিয়াছে? তোমার সন্তান তো যুদ্ধে যাইতেছে, যেমন তেমন যুদ্ধ নহে একেবারে বাস্তব জীবন যুদ্ধ, এমন সময় কাঁদা কি ঠিক?” “পিতা আমার বিলম্ব হইতেছে, এমন সময়ে পিতা কিছু খুরচা পয়সা আর একটি পত্র হাতে তুলিয়া দিয়া বলিলেন, “আমার নিকটে আর কিছুই অবশিষ্ট নাই, আর এই পত্রটি আমার বাল্যকালের বন্ধু নিশিথ চক্রবর্তীরকে দিয়া বলিবে পিতা আপনাকে নমঃস্কার জানাইয়াছেন, বাকি বাক্য পত্রে লেখা রহিয়াছে,তিনি তোমাকে কোন না কোন ব্যাবস্থা করিয়া দিবেন বলিয়া আমি আশা করি,আর শোন ঠিকানাটা খামের উপর লেখা রহিয়াছে,” অশ্রসিক্ত নয়নে মাতা বলিলেন “এটা রাখ বাবা, সময়ে তোমার কাজে আসিবে,” মাটির পাত্রে

চলিবে- – – – –