৬৯২ ভূমিহীন দরিদ্র পরিবার পাচ্ছে বাড়ি

ডেস্ক: রাজশাহী জেলায় ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারের মাঝে জমিসহ ৬৯২টি বাড়ি বিতরণ করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সরকার এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজশাহী জেলায় এই প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ৯টি উপজেলায় ভূমিহীন দরিদ্র পরিবারের মাঝে এই বাড়িগুলো বিতরণ করা হবে। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণের অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সংশ্লিষ্ট দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে বাড়িগুলো হস্তান্তর করবেন।

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, খাসজমির প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় এই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। ২ শতক জায়গার ওপর সরকারি ভাবে নির্মিত প্রতিটি বাড়িতে থাকছে দুইটি ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি বাথরুম এবং একটি করে টয়লেট। ইটের দেয়াল এবং টিনের চালা দিয়ে নির্মিত এই বাড়িগুলোতে থাকছে স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ। প্রতিটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

বাড়িগুলো নির্মাণে সার্বিক তদারকি করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানরা। ঠিকাদাদের মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণের কাজ না করিয়ে স্থানীয় প্রশসনের তদারকিতে ও ব্যবস্থাপনায় এই বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।

রাজশাহীতে নির্মাণাধীন ৬৯২টি বাড়ির মধ্যে পবা উপজেলায় দেয়া হবে ৪৭টি, মোহনপুরে ১৬টি, দুর্গাপুরে ৩২টি, পুঠিয়ায় ৫৪টি, বাঘায় ১৬টি, চারঘাটে ১৫টি, বাগমারায় ১৭৫টি, তানোরে ৫৭টি এবং গোদাগাড়ীতে ২৮০টি বাড়ি দেওয়া হবে।

৯টি উপজেলার মধ্যে বাঘা, চারঘাট ও মোহনপুর উপজেলায় তুলনামূলক কম সংখ্যক বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন রেজা জানান, সরকার জমিসহ বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে। উপজেলায় খাসজমির প্রাপ্যতার ওপর ভিত্তি করে বাড়িগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঘায় খাস জমি পরিমাণ কম ছিলো। যে কারণে এখানে চাইলেও বেশি বাড়ি করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও আরো জানান, তিনি নিজে উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়াম্যনদেরকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন কাজের তদারকি করছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও নিয়মিত কাজের তদারকি করছেন।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, ইতোমধ্যে ঘরগুলো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রায় ৫০টি ঘরে টিন বসানো হয়েছে। এছাড়া কিছু ঘরে টিন বসানো ও রংয়ের কাজ বাকি আছে। আশা করি দ্রুত ঘরগুলোর কাজ শেষ করতে পারবো। চলতি মাসের ১৫ জানুয়ারির মধ্যেই বরাদ্দকৃত ঘরগুলোর কাজ শেষ হবে।

রাজশাহী জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ত্রাণ এবং পুনর্বাসন বিভাগের পরিচালক আমিনুল হক জানান, বাড়িগুলোর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন শুধু টিন লাগানো বা রংয়ের কাজ বাকি আছে। সামান্য যে কাজ বাকি আছে তাও শেষ পর্যায়ে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগামী ২০ জানুয়ারি এই বাড়িগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপকারভোগী পরিবারগুলোর মাঝে হস্তান্তর করবেন।

পিএনএস