না ফোটা কলির গল্প (২৪) : কাঞ্চন চক্রবর্তী

না ফোটা কলির গল্প (২৪)
কাঞ্চন চক্রবর্তী

কপালে সইলো না তাই আজ আমি এখানে” “তা মা,তোমারও কি এমনই অবস্থা?” “হ্যা মা, আমার অবস্থা ঠিক আপনার মত” “এতোক্ষন আমি আমার কথা বলে চলেছি,অন্য একদিন নাহয় তোমার কথা শুনবো, এখন তুমি খাওয়া দাওয়া করে বিশ্রাম নাও কাল থেকে তোমার কাজ শুরু হবে” তনু এখন পতিতা বৃত্তির সনদ পেয়ে গেছে, সে এখন দেশের নাম করা পতিতা সমাজের রাঘব বোয়ালেরা তার কাছে আসে তনুর দেহ সওদা করতে,আলমা থেকে শুরু করে পয়সা ওয়ালা মুচি ম্যাথর সবশ্রেণীর
মানুষ তনুর দেহের পাগল। পুরুষ শাষিত সমাজ ব্যবস্থায় এমন হাজার ও তনুর এমন অবস্থা,ভালবাসা শব্দের অর্থ হল বিশ্বাস, যেখানে বিশ্বাস জন্ম নেয় না সেখানে ভালবাসা হয় না,আর ভালবাসার মাঝে যদি স্বার্থের টানাপড়েন থাকে সেই ভালবাসায় জন্ম নেয় স্বার্থ, ভালবাসা আর দৈহিক সম্পর্ক এক জিনিস নয়,ভালবাসতে হলে দৈহিক মিলনের কথা চিন্তা না করে ভাল বাসলে মিলন যদি নাও হয় তবে তাদের প্রেম চির অমর হয়ে থাকে, আমি ঢালাও ভাবে বলছি না যে,সব পুরুষ মানুষ খারাপ,তবে কিছু পুরুষ মানুষ আছে তারা ভালবাসা বলতে দৈহিক মিলন কে বোঝে, আর এমন পুরুষ মানুষের সংখ্যাও সমাজে কম নয়,তবে এক হাতে তালি বাজেনা,যেমন পুরুষদের দোষ আছে,তেমন মেয়েদের দোষ কম নয়,মেয়েরা অল্পতে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা,পুরুষ মানুষ হল চোরের মত,সুযোগ পেলেই সে চুরি করবেই,কিন্তু বাড়ির মালিককে তার নিরাপত্তার কথাটাও ভেবে ঘরে তালা লাগিয়ে রাখতে হবে, মালিক যেমন বাড়ি পাহারা দেয় তার নিরাপত্তার জন্য, তেমনি চোরও মালিকের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি করে তবে দুয়ার খোলা রেখে পাহারা দেবার কোন মানে নেই, অতিতে প্রেম করতো বিশ্ব প্রেমিকেরা তাদের প্রেম আজও স্বর্ণ অক্ষরে লেখা আছে, যেমন লাইলী মজনু, শিরি ফরহাদ রাঁধা কৃষ্ণ,ইউছুব জুলেখা, রজকিনী চন্ডিদাস, তাদের প্রেম ছিল পবিত্র, আর বর্তমান সমাজের প্রেম মানেই নষ্ট প্রেম, কি বলেন পাঠক বৃন্দ কথাটা কি ঠিক বললাম? প্রশ্ন রইলো আপনাদের কাছে।
যবনিকা।