না ফোটা কলির গল্প (১৯) : কাঞ্চন চক্রবর্তী

না ফোটা কলির গল্প (১৯)
কাঞ্চন চক্রবর্তী

নেওয়াটা তনুর ঠিক হয়নি,আর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সারা জীবন ভুলের মাশুল প্রতিটা প্রহরে তাকেই গুনতে হবে, মাকাল ফলের উপরের চমক দেখে যেমন ভিতরের বিচার করা যায়না, তেমনি মানুষে উপরের রূপ দেখে কখনও ভিতরের বিচার করা করা সম্ভব নয়,গিরগিটি যেমন তার নিজ প্রয়োজনে রং বদলায় মানুষও তেমনি নিজ প্রয়োজনে তার রং বদলায়, তবে সমাজের সবাই যে রং বদলায় তেমনটা কিন্তু নয়,এমন ভাবে আরো তিনটি দিন অতি বাহিত হয়ে গেল তারিকের কোন খোঁজ পাওয়া গেল না,দশতম দিনে হোটেল ম্যানেজার নিজে তনুর রূমে এসে বললো ম্যাম আপনি যদি এখন আমাদের সমস্ত বিল মিটিয়ে না দেন তাহলে আমরা বাধ্য হব পুলিশের সাহায্য নিতে, বলুন এখন আপনি কি করবেন? তনু নিজেকে একটু শক্তভাবে বললো আপনাদের বিল কত হয়েছে? সব মিলিয়ে সতের হাজার টাকা, আপনাদের কোন চিন্তা নেই, নিজের আঙ্গুলের একটা আংটি খুলে দিয়ে বললো এটা রাখুন এটা হিরের এটা বিক্রি করলে ঢের বেশি পেয়ে যাবেন, আর আমি আজই চলে যাচ্ছি, ম্যানেজার ওকে ম্যাম আমি তাহলে আসছি বলে চলে গেল, তনু নিজের কিছু পোশাক ছিল সেটা নিয়ে হেটেল থেকে বিদায় নিল। তনু হোটেল থেকে বিদায় নিয়ে একটি লাইট পোষ্টের নিচে গিয়ে বসলো, কি করবে কোথায় যাবে সে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা,একবার ভাবলো তার নিকটতম এক বান্ধবীরকে ফোন করবে, কিন্তু এতোক্ষনে আমার কুকর্মের কথা সবাই জেনে গেছে, সে যদি আমাকে প্রশ্ন করে তাহলে এসব কথা আমি তাকে

না ফোটা কলির গল্প (২০)
কি করে বলবো? নাকি বাবাকে ফোন করবো? কিন্তু কোন মুখ নিয়ে তার সামনে দাড়াবো?তার সামনে দাড়ানোর মুখতো আমি রাখিনি, অতএব, রাতটুকু এখানে কাটিয়ে দিব নাকি কোন বন্ধুকে ফোন করে তার বাড়িতে যাবো, এটা ভেবে চিন্তায় ভেঙে পড়লো, রাত তখন এগারোটা, হঠাৎ দশ বারো জনের একদল ছিনতাই কারির চোখে পড়লো, অনেকক্ষন যাবৎ তাকে বসে থাকতে দেখে ওরা সবাই একসাথে তনুর সামনে এসে দাড়ালো, ওরা তনুকে দেখে সবার মাথাটা যেন ঘুরতে লাগলো, কালক্ষেপন না করে সবাই মিলে তনুকে উঠিয়ে নিয়ে চলে গেল। তনু যে চিৎকার করবে এমন অবস্থা তার ছিল না, মনে হল যেন স্ব-ইচ্ছায় তাদের সাথে যাচ্ছে,তনুকে তাদের ডেরায় আটকে রেখে একের পর একজন করে ধর্ষণ করতে লাগলো, ঘন্টা দুয়েক পর তনুর জ্ঞান হারিয়ে ফেললো তার পর সে আর কিছুই জানেনা তিনদিন তিনরাত অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রইলো তবুও ধর্ষণ চলতে থাকলো একাধারে,তনুকে রক্তার্থ অবস্থায় মৃত্যু ভেবে রাতের আঁধারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পাশে রেখে প্রস্থান করলো সকলে, কারন একটাই,লাশ যদি কেউ দেখে ফেলে তাহলে সবাইকে জেলে যেতে হতে পারে সেই ভয়ে তারা এমন কাজটি করেছে, স্থানীয় কিছু লোকজন লাশ পড়ে আছে দেখে ডাক্তার ও পুলিশকে খবর দেওয়া হল,চিকিৎসার প্রায় পাঁচদিন পর তনুর জ্ঞান ফিরে এলো, কিন্তু কথা বলার অবস্থায় সে ছিলনা,পুলিশ বার-বার তাগাদা দেয়া সস্তরেও সে কিছুই বলতে পারলোনা,তার জঠর এমন ভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যে সে আর কোনদিন মা হতে পারবেনা,

চলবে- – – –