একফোঁটা অশ্রু দিও : ডা: গোলাম রহমান ব্রাইট

একফোঁটা অশ্রু দিও
ডা: গোলাম রহমান ব্রাইট

কতটা ব্যস্ততায় সেদিন শুনতে চাইনি জীবনের সম্মোহনী গান

কলমের আঁচড়ে বুঝেছিল সেটা কুটিল উচ্চারণ নাকি ধারালো বাণ।

স্বতঃস্ফূর্ত কামনায় উন্মোচিত হয়ে রূদ্ধশ্বাসে চলেছি কতটা পথ

চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বন্ধুর পথে আচমকা ভেঙেছে সেই মনোরথ।

নগ্নতার বীভৎস ছবি আর পৈশাচিক যজ্ঞের ইতিবৃত্তে বিকৃত মন

বর্বরতার সীমা ছিঁড়ে ওঁৎ পেতে বসে থাকে পথে হায়েনারা সর্বক্ষণ।

প্রতিটি প্রহরে উৎসারিত হৃদয়ের উত্তাপে কেটে যায় দিন কেটে যায় বেলা

দুরন্ত ক্ষরায় রঙিন আবেগ ভস্মীভূত হতেই ডুবে যায় ভেলা।

ভরা যৌবনের তুখোড় স্রোতে অবনমিত মাস্তুল বাতাসে করে খেলা

আচমকা তুফানে একি শিহরণ ! ভুলেও কি করেছি তোমায় কভু হেলা ?

রোদন ছিন্ন করা সুরে মলিন হলে বাঁশি যাবে কি তারে ছুঁড়ে ফেলা!

উদাস দুপুরের সমাগত ক্ষুধার তাড়না সামলানো, সেটাই হলো বড় ঠেলা।

মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে পরিযায়ী পাখি ছেড়েছে সুখের নীড়

কুয়াশায় আবিষ্ট শিশির ঝরার শব্দে দু’চোখে কত কল্পনার ভীড়।

কত কষ্ট জমায়েত হয় মনের জানালায় সেতো মেনে নিতেই হয়

বহু প্রেষণায় কাঠ-খড় পুড়িয়ে টিকে থাকতে নিতান্তই ভয়।

অন্নের সংস্থান করেছি কিছুটা হোক না নগন্য তবুও তো দামী

নূন্যতম বাঁচার অবলম্বনে আশ্বস্ত হলাম কতটুকু তুষ্ট হবে তুমি জানি না আমি।

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তোমাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে চলেছি অন্তহীণ

এক চিলতে হাসি দেখার আশায় কত পরিশ্রমে মত্ত একদিন সবই বলবো দ্বিধাহীন।

লক্ষের প্রান্তে পৌঁছুতে যত ত্যাগ আছে করবো তবু চাইনা হারতে আমি

চাকুরী ঠিকই একটা পাবোই দেখবে,আমার কাছে তুমি যে ভীষণ দামী!

যদি ছিটকে পড়ি কিংবা পার্থিব জগত ছাড়ি দেখে নিও

তোমার হৃদয় আকাশে উজ্জ্বল তারার ন্যায় সম্মোহন ছড়াবো একফোঁটা অশ্রু দিও !

মরে গিয়েও ঐ মনের মনিকোঠায় থাকতে চাই যেনো অনুভবেও তোমাকে পাই

তোমার ঐ বিগলিত চিত্তের মায়াবী স্পর্শে মধুর উৎকর্ষে তবুও বেঁচে থাকতে চাই।