নিস্যন্দী কাল : সুরাইয়া চৌধুরী

নিস্যন্দী কাল
সুরাইয়া চৌধুরী

বিবাগী বৃক্ষটা একদিন ফিরে এসে
পাহাড়ের চূড়ায় বসে একাকী ছড়ায় সুর
গহীনের ভালবাসা স্বপ্ন নিয়ে।
কেউ কেউ হেঁটে যায় চুপিসারে
কুয়াশার ঘন ছায়া শরীরে মেখে
কেউবা নামায় ঝাঁপি অগোচরে
লোকালয়ে লক্ষিন্দরের লোহার ঘরে
রেখে যায় বিষ পাপ বায়ুর গোপনে।

শেষ রাতে চাঁদটা নেমে আসে সন্তর্পণে অবিকল পূর্ণিমার চাঁদের ছলে।
ভুঁইফোঁড় গাছেরা উছলে উঠে
মন বুঝে মহানন্দে বিলিয়ে যায়
জ্যোৎস্নার মহুয়া সরাব।
শুভ্রতার কাশবন প্রেম বিভ্রম ছড়ায়
শারদ উৎসব ভেবে নক্ষত্ররা নাচে।
মেঘের অন্তিম শয্যায় শুয়ে বৃদ্ধ
আকাশ শুধু থরো থরো কাঁপে।

শুদ্ধতার মন মাটি আসেনা ফিরে
বিবাগী বৃক্ষটা তাই ফের ফিরে যায়
কাদা জল পায়ে মেখে গহীন বনে। ডাহুক ডাহুকির ঘরে ডানা ফেলে দিয়ে
পরিযায়ী পাখিরা ও উড়ে চলে যায়
এই মাটি এই জল আমার তো নয়।