বন্ধুত্ব (ছোট গল্প)
রুমী 
আমি: ছোট আব্বু (চাচা) তুমিতো সেনাবাহিনীতে আছো । আমার জন্য সেনাবাহিনীতে একটা বনধু খুঁজে দিবে? আমার ভীষণ ইচ্ছে এমন সেনাবাহিনীর একজনের সাথে বন্ধুত্ব হোক। ছোট আব্বু: কেনো আমাকে বন্ধু ভাবতে বুঝি তোমার কষ্ট হচ্ছে? আর এতো বাহিনী থাকতে সেনাবাহিনীর কাউকে কেনো প্রয়োজন তোমার বন্ধু হিসেবে? কি দেখেছো এদের মধ্যে। আমিঃ ধুত তুমিতো আমার ছোট আব্বু । তোমার সাথে কি সব কথা শেয়ার করা যায় নাকি?কারণ সেনাবাহিনীর মানুষ খুব ভালো হয় এজন্য এই বাহিনীর কাউকেই আমার চাই। আমার ছোট আব্বু সেনাবাহিনীর কত্ত ভালো মানুষ ।
ছোট আব্বুঃ আচ্ছা ছুটি শেষ হোক এবার দেখবো আমার মামণির জন্য একটা সেনাবাহিনীর রাজপুত্র। আমিঃ এই আরে কি বলে? “ আমি কি বলেছি বিবাহের পাত্র? যে তুমি খুঁজবে রাজপুত্র।“ হুহ যাও লাগবেনা। ছোট আব্বুঃ আরে রাগ করেনা মা আমার আমি সত্যিই দেখবো।মাই ডিয়ার ছোট আব্বু(চাচা) উম্মমাহ। ছুটি শেষ আসি আমি মামণি নিজের খেয়াল রাখবে। এই শুনছো মেয়েকে দেখে রেখো। আমি আসি। ছোট আম্মু(চাচিঃ আমি পারবোনা। তোমার মেয়ে আমার কতো কথা শোনে।
( পরিচয়ঃ আমি শিউলি । ২য় শ্রেণিতে পড়াকালীন বাবা-মা রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়। আমার ছোট চাচা চাচি আমাকে মানুষ করে। এখন আমি ইন্টারমিডিয়েড প্রথম বর্ষে পড়ি।চাচা আর চাচির কোন সন্তান নেই। আমিই তাদের সব। ) ছোট আব্বুঃ কে যে আসবে এবার আমার রুমের ভাগিদার হতে।অপরিচ্ছন্ন করবে রুম। উফ ভাবলেই বিরক্ত লাগছে। নতুনঃ আমি কি ভেতরে আসতে পারি স্যার? ছোট আব্বুঃ অবশ্যই। আসুন ভেতরে।
নতুনঃ আমি কনক। নতুন চাকরিতে জয়েন। আমাকে এই রুমটাতে থাকতে হবে। আমি কি এই খালি বেডটাতে বসতে পারি? ছোট আব্বুঃ হ্যাঁ বসুন।
নতুনঃ আরে আমাকে কনক বলে ডাকুন । আমি আপনার অনেক জুনিয়র। আপনিতো আমার বাবার বয়সে হবেন। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী। যশোর আমার বাড়ি। আমরা দুই বোন এক ভাই। মা গৃহিনী। এই যা আমি আপনার জিজ্ঞাসা করার আগেই বকবক করেই চলেছি। সরি কিছু মনে করবেন না। একি রুমে থাকবো তাই ভাবলাম আমার সম্পর্কে সব আপনাকে জানিয়ে দিই। ছোট আব্বুঃ মনে মনে এইতো আমার মেয়ের জন্য বন্ধু পেয়েছি। আরে না না কোন সমস্যা নেই। আমার ভালো লাগলো তুমি সহজে আমাকে সব বললে। আমিও যশোরের মানুষ। তুমিও ভালোই হয়েছে। তা তুমি পড়াশোনা করছো কি? কনকঃ জ্বি। আমি এবার ইন্টারমিডিয়েড পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলাম। পড়তে ভালো লাগেনা । আগেই দরখাস্ত করা ছিলো। চাকরিও পেয়েছি। আর পড়বোনা। একটা মেয়ে বন্ধু বানাবো । তার সাথে কথা বলবো। বাবার অত্যাচারে মেয়েদের সাথে ভয়ে কথা বলতে পারতাম না। ইসস জীবনটা বৃথা গেলো। না একটা প্রেমিকা পেলাম না পারলাম একটা মেয়ে বন্ধু। মেয়েরা জানতো আমার বাবা এগুলো পছন্দ করেনা। কারণ একদিন কলেজে আমার ক্লাসরুমে গিয়ে বলে এসেছিলো। আমার ছেলে ভীষণ পাজি কোন মেয়ে ওর চক্করে যেনো পড়োনা। ব্যস গেলো জীবনটা বৃথা হয়ে।আচ্ছা চাচু আমার জন্য একটা মেয়ে বন্ধু খুঁজে দিবেন ? ছোট আব্বুঃ হাহাহাহাহাহাহাহহাহা। খুব মজার মানুষ তুমি। আমি টেনশনে ছিলাম কে না কে আসবে আমার রুমে। আমার মেয়েও তোমার মতো।তার ও আবদার সেনাবাহিনীতে আছে এমন একজন ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করবে। কি মজার ব্যাপার আমিও পেয়ে গেলাম তোমাকে। কারণ তুমিও একি দলের মানে আমার মেয়ের মতো। কনকঃ ইয়ে মানে না আর কি যদি কিছু মনে না করেন তো, আমি আপনার মেয়ের মোবাইল নাম্বারটা পেতে পারি? ছোট আব্বুঃ ০১৯——–১। কনকঃ ওহ চাচা ধন্যবাদ। উম্মাহ। ছোট আব্বুঃ এতো দেখি পুরাই আমার পাগলী মেয়ের মতো। কনকঃ ডিনার শেষ। চাচাও রুমে নেই এখন একটু কল দেই। উফ ধরছেনা । এতো এক্সাইটেড হচ্ছি কেনো ?
এই সেই নাম্বার থেকে কল রিসিভ করি। উহুউহু । হ্যালো, কে বলছেন? আমিঃ মানে কি? আপনি দুবার কল দিয়েছেন। আমি ডিনারে ছিলাম এসে দেখলাম দুবার কল তাই ব্যাক।কনকঃ দুবার কল দেখলেন অপরিচিত নাম্বার তাও ব্যাক করলেন। এ কেমন কথা? আমিঃ আমি ভাবলাম পরিচিত মানে আমাকে নিশ্চয় চেনে । নইলে দুবার কেনো কল দিয়েছ? কনকঃ হুহ তাও ঠিক। আমি কনক। আপনার নামটা কি যেনো ? আমিঃ আমি শিউলি। আপনি আমার নাম জানতে চাইলেন কেনো? আমাকে চেনেন নাম জানেন না? কনকঃ জ্বি আপনার সম্পর্কে একটু জেনেছি। নাম জানা হয়নি। আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি।আমিঃ মানে আপনি আপনি ও আল্লাহ ছোট আম্মু কি কান্ড শুনে যাও। ছোট আব্বু আমার জন্য বন্ধু খুঁজে পেয়েছে। কিছু মনে করবেন না। আপনি সত্যিই সেনাবাহিনীতে আছেন? কনকঃ সত্যিই আমি সেনাবাহিনীতে আছি। আমিঃ Ok done. Now we are friend. কনকঃ Ok done. শিউলি কেমন আছো তুমি? তুমি কি পড়ো? আমিঃ ভালো আছি কনক। আমি ইন্টারমিডিয়েড ফার্স্ট ইয়ার এর ছাত্রী।