খোকার শৈশব : এম এ কাসেম অমিয়

খোকার শৈশব
এম এ কাসেম অমিয়

বাতাস থেকে তখনো যায়নি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বারুদের গন্ধ!
১৩২৬ সালের ৭ আশ্বিন, প্রলয়ঙ্করী ঘুর্ণিঝড়ে এই জনপদ হয় লন্ড-ভন্ড।

খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন তখন তুঙ্গে,
শোর উঠেছিল বৃটিশ, তোমরা এদেশ ছাড়, স্থান হবে না এ বঙ্গে।

এমনি উত্তাল সময় শতবর্ষ পূর্বে ১৭ মার্চ ১৯২০ মোতাবেক ১৩২৬ এর ৩রা চৈত্র।
ফরিদপুর গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নে
দক্ষিণে উত্তাল মধুমতি, উত্তর-পূর্বে খরস্রোতা বাদিয়ার নদী,
পশ্চিমে খাল বেষ্টিত অজ দ্বীপগ্রাম টুঙ্গিপাড়ার সম্ভ্রান্ত শেখ পরিবারে
পিতা শেখ লুৎফর রহমানের ঔরসে ও মাতা ছায়রা খাতুনের গর্ভ থেকে
শুক্রবার বাদ মাগরিব জন্ম নিয়েছিলে তুমি ফুটফুটে এক খোকা।
যেন চাঁদের আলোর বাণ ডেকেছিল, জোনাকির আলো থোকা থোকা।

তুমি ছিলে বংশের প্রথম পুত্র, নাম দিল শেখ মুজিবুর রহমান,
পরিবার জুড়ে আনন্দের বন্যা, খুশীর জোয়ারে ডাকল যেন বান।

সকলের আদর যত্নে মানুষ হলে, খেলাধূলায় বা সাঁতারে ছিলে পারদর্শী
সেই শৈশব থেকেই নেতৃত্ব দিতে, সিদ্ধান্ত নিতে ছিলে দূরদর্শী।

হৈ হুল্লোড়ে মেতে থাকতে, দিলদরিয়া মানুষ ছিলে, ছিলে বন্ধুবৎসল
অন্যের দুঃখে ব্যথিত হতে, মনটা ছিল বড় সরল।

দরিদ্র বন্ধুর ছেড়া লুঙ্গি দেখে, তোমার নতুন লুঙ্গি পরিয়ে দিয়ে
বন্ধুর হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা নিলে তুমি বাগিয়ে।

ঘাড়ের চাদর পরে তুমি বাড়ি ফিরে গিয়ে,
বাড়ির সকলকে দিয়েছিলে তাক লাগিয়ে।
পিতার গোলার ধান গরীব প্রতিবেশীদের বিলিয়ে
সেই কিশোর বেলায় দরদী মনের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলে।

স্কুল জীবনেই ছাত্রনেতা, বিশাল কৃষিমেলার হয়েছিলে স্বেচ্ছাসেবকের প্রধান।
খোকা বলে ডাকত সবাই, পেয়েছিলে মিঞা ভাইয়ের সম্মান।

তারপরও তোমার জীবন কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল আজন্ম বিপদসঙ্কুল
যখন তুমি মাতার গর্ভে তিনমাস, প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে উড়ে ডোবা পুকুরে পড়ে তাঁর প্রাণ হয়েছিল সংশয়।
ধার নিয়ে আটকে রাখা গ্রামোফোন রেকর্ড উদ্ধারে গেলে
সিনেমা কোম্পানির ম্যানেজার বাবু অনৈতিক কেস দিয়ে পাঠিয়ে দেয় জেলে।
এই তোমার প্রথম কারা বরণ, এই কথাটি মোদের রাখা চাই স্মরণ।
ম্যাট্রিকুলেশন পরিক্ষার বছর বেরী বেরী রোগে হয়েছিলে আক্রান্ত;
সেই রোগে মরণাপন্ন হয়ে দুইবছর হয়েছিল অতিক্রান্ত।

বন্ধু তোমার সাইদুর রহমানের বই থেকে তথ্য করলাম সন্নিবেশ,
আগামীতে আরও লিখব আশা রেখে লেখা আজ করলাম শেষ।