না ফোঁটা কলির গল্প,পর্ব -২, ৩ ,৪, ৫ : কাঞ্চন চক্রবর্তী

টাইম ভিশন 24
না ফোঁটা কলির গল্প,পর্ব -২, ৩ ,৪, ৫
কাঞ্চন চক্রবর্তী

বন্ধু বান্ধবীদের সাথে হৈ হুল্লুড় করে অর্থ জলের মত দু’হাতে খরচা করে জীবন কাটিয়েছে, অভাব বলে কিছু নেই যখন যা চেয়েছে তাই পেয়েছে তনু,লেখাপড়া অত্যান্ত ভাল মেধাবী ও বটে,প্রথম শ্রেণী থেকে এন্টার পর্যন্ত্য কোন শ্রেনীতে সে কম নাম্বার পাইনি তার জন্য শ্রেণী শিক্ষকগন তাকে একটু স্নেহের চোখে দেখতো, গোড়া থেকে বিজ্ঞান নিয়ে পড়া শোনা করার সুবাদে সে এবার মেডিকেলে পড়ার সুয়োগ পেয়েছে, মনের স্বপ্ন তার পূরণ হতে চলেছে,তার মনের ইচ্ছা সে বড় ডাক্তার হয়ে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে, তার বাবা মানে জাকির মাহাম্মুদের ও একোই স্বপ্ন, যেমন তার রূপ তেমন তার সুঠাম দেহ গায়ের রং কাঁচা হলুদের মত,উচ্চতা প্রায় ছয় ফিটের মত হবে,চোখ দু’টি যেন নাটরের বনলতা সেনের মত,নাসিকা যেন কৃষ্ণের হাতের বাঁশি, আর বক্ষ যেন হিমালয়ের চুড়া,আবাল বৃদ্ধ সবাই তার রূপের প্রশংসায় পঞ্চমুখ,অনেকেই মনে-মনে কাছে পাওয়ার বাসনা পোষণ করে, আপনারাই বলুন গাছে বেল পাঁকলে তাতে কাকের কি? হিন্দুধর্মে বেলকে শিব ঠাকুরের প্রশাদ বলা হয় কিন্তু সারা জনম সাধনা করলেও কাক শিবের প্রসাদ মানে বেলকে খাদ্য হিসাবে গ্রহন করতে পারেনা, কারণ কাকের সে ক্ষমতা নেই,কবি বলেছেন গাছে বেল পাঁকিলে তাতে কাকের কি,তাকে কাছে পাওয়া তো দুরে থাক তার সাথে কথা বলতেও সাহস কম মানুষ পায়,আর তাকে জীবন সঙ্গীনি হিসাবে পেতে হাজার মানুষের ভিড় লেগে আছে,কিন্তু মুখ

না ফোঁটা কলির গল্প-৩
ফুটে বলার সাহস কেউ পায়না, তার কারণ হিসাবে দেখা যায় তার বাবার যে পরিমান অর্থ আর বিত্তের প্রভাব তাতে তাদের সমতুল্য ক’জনই বা আছে! এতো গেল কাহিনীর নায়িকার গল্প, এবার দেখা যাক কাহিনীর অপর প্রান্তে কে কে আছে। সটকাটে কে না ধনি হতে চায়, সবাই সটকাটে ধনি হওয়ার স্বপ্ন মনে-মনে পোষণ করে থাকে কেহ পারে আবার কেহ পরেনা,কেহ আবার সটকাটে ধনি হতে গিয়ে তলিয়ে যায় কালের অতল গহ্বরে, সেখান থেকে কেউ ফিরে আসতে পারে আবার কেহ ফিরে আসেনা, যাক ওসব কথা কাহিনীর মূল ঘটনায় ফিরে আসি,নাম তারিক জন্ম বস্তির কোন অজানা গলিতে, মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে ছেলেকে নিয়ে জীবন যাপন করে, বাড়ির মালিকের দয়াতে হাই স্কুল পর্যন্ত্য লেখাপড়া করেছে, তবে লেখাপড়া কম জানলে কি হবে কথার মাঝে-মাঝে কিছু ইংরেজী ভাষা রপ্ত করেছে, তার সাথে কথা বললে মনে হবেনা যে সে লেখাপড়া কম জানে, পিতৃ পরিচয় কি সে তা জানেনা অনেক বার তার মায়ের কাছ থেকে তার পিতৃ পরিচয় জানার চেষ্টা সে করেছে কিন্তু তার মা তাকে বুঝিয়েছে যে তার জন্মের পর তাকে রেখে অন্য কোন মেয়েকে বিবাহ করে অন্যত্র চলে গেছে, সে এখন কোথায় আছে কি ভাবে আছে সে তা জানেনা, সেই ঘৃনা থেকে তার নামটি পর্যন্ত্য জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন টুকু সে মনে করেনি, হয়তো কোন ধনি ব্যাক্তির আন্দের ফসল,ভয়ে সে মুখ খোলেনি, আর মুখ খুললেই হয়তো জীবন নাশ হবার সম্ভাবনা আছে,

না ফোঁটা কলির গল্প-৪
সেজন্য ছেলেকে নিয়ে একা রয়েছে,
তারিক বস্তির ঘরে জন্ম হলেও বাংলা চলচিত্রের শাকিব খানের মত দেখতে যে কোন মেয়ে তাকে দেখলে প্রেমে পড়ে যাবে তাতে ভুলের কোন সম্ভাবনা নেই, মাঝে-মাঝে ছিন্তাই চুরি করে কিছু হাত খরচ করে থাকে, তবে শরীরের পোশাক দেখে মনে হবে যেন কোটি পতির সন্তান, দামী পারফিউম দামী জুতা ও চোখে সানগ্লাস সব সময়ে ক্লিন সেভ করে চলে,তার একটা বড় মাপের দল আছে, সে দেলের সাহায্যে সমাজের বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ সম্পন্য করে থাকে,কিন্তু তাতে তো বড়লোক বা ধনি হওয়া যায়না, তাই সে অনেক দিন যাবৎ একটা মাষ্টার প্লান তৈরী করেছে, কিন্তু ব্যাট আর বল এক করতে পারছেনা,সে মনে করে, চেষ্টার অসাদ্ধ কোন কাজ নেই,তাই সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অনেক খোঁজ খবর নিয়ে তনুকে সে বেছে নিল, যদি তার টার্গেট ফ্লাফ হয় তাহলে তাকে আর পায় কে, তাই সে অনেক কষ্টে তনুর মেবাইল নাম্বারটা যোগাড় করে তাকে একটা ফোন করলো,ফোনে রিংটন বাজলো অপর প্রান্ত থেকে হ্যালো কে বলছেন প্লিজ! সব কিছু জেনে শুনে না জানার ভান করে উত্তরে বললে আমি তারিকুল হাসান, চৌধুরী গ্রপ অব ইন্ডাষ্টিজের কর্ণধর, আপনি কি জনাব জাকির মাহাম্মুদের পি এস ? না আমি ওনার মেয়ে,ও তাহলে আপনি মিস্ তনুলতা মাহাম্মুদ বলছেন? জী কিন্তু আপনি আমার নাম জানলেন কি ভাবে? বড়-বড় ব্যবসায়ীরা বড় ব্যবসায়ীদের খোঁজ খবর না রাইলে কি চলে? তাছাড়া আপনার নাম অনেকবার শুনেছি, কার কাছ থেকে শুনলেন?

না ফোঁটা কলির গল্প-৫
সেটা জানা কি খুব জরুরী? না তবুও, যাক বাদ দেন তো আপনার সাথে কথা বলে নিজেকে বড় ধন্য মনে হোল আপনার মুল্যবান সময়ে কে নষ্ট করলাম আপনি কিছু মনে নেবেন না প্লিজ,আরে না-না কিছু মনে নেব কেন? আপনি ব্যবসায়ী মানুষ তাছাড়া চৌধরী গ্রুপের অনেক নাম বাবার মুখে শুনেছি, লাখো শোকরিয়া, কেন শোকরিয়ার কি হলো? না মানে আপনার মত হবু ডাক্তার যে এতো খোঁজ খবর রাখে সেটা জানা ছিলনা,আমি হবু ডাক্তার সেটাও আপনি জানেন? আমি অনেক কিছুই জানি ম্যাডাম, ঠিক আছে আমার একটা জরুরী মিটিং আছে আজ রাখছি পরে একদিন চা খাওয়ার মাঝে জমিয়ে আড্ডা দেওয়া যাবে, পরে নাহয় জানাবো, ওকে আল্লাহ হাফেজ আসসালাম ওয়ালাইকুম, ওয়ালাইকুম আসসালাম।তনু জীবনে যত ছেলের সাথে কথোপ কথন হয়েছে তার মাঝে এমন সুন্দর ভাবে কথোপকথোন কাহারো সাথে হয়নি, সেজন্য তনুর মনে কোথায় যেন একটা দাগ কেটে গেল, বড় ব্যবসায়ি নম্র সুন্দর ব্যবহার আবার ধার্মিক ও মনে হয়, আপনাদের জানিয়ে রাখি তারিক জীবনে অনেক অপরাধ করেছে কিন্তু কোনদিন সে পুলিশের হাতে ধরা পড়েনি,এমনকি পুলিশের খাতায় তার নাম ওঠেনি যাকে বলে পাঁকা খেলুয়াড়। তারিকের অপরাধ জগতের সদস্য সংখ্যা এগারো জন, তবে তারিককে দলের অন্য সদস্যরা তাকে গুরু হিসাবে সম্মান করে, কারন বাকি সদস্যরা কেহই লেখাপড়া জানেনা, তারিক যথা সামান্য লেখাপড়া জানে তারপর ইংরেজীতে বাক্য বিনিময় করতে পারার কারনে সবাই জানে যে সে

চলবে- – – –