চট্টগ্রাম বন্দরে লাইটার জাহাজ অবহেলিত কেনো ? পরিত্রাণ চান লাইটারেজ শ্রমিকরা

টাইম ভিশন 24
মোহাম্মদ মজিবুলহক, নৌ-পরিবহন প্রতিবেদক: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদার ভ্যাসেল যে পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে সে সকল পণ্যের 80% পণ্যই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে লাইটারেজ জাহাজগুলো, লাইটারেজ জাহাজ বিহীন চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা কোনভাবেই সম্ভব নয় এই বিষয়টি দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।

বাংলাদেশ আভ্যন্তরীন লাইটারেজ ভেসেল এর প্রথম শ্রেণীর মাস্টার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানানঃ লাইটারেজ শিল্পের সম্মানিত মালিক মহোদয়গণ ও নাবিক যারা লাইটারেজ জাহাজ পরিচালনা ও কর্মে নিয়োজিত আছি আমরা তারা উভয়েই নিঃসন্দেহে চট্টগ্রাম বন্দর তথা দেশের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমরা লাইটারেজ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি! চট্টগ্রাম বন্দর কেনো লাইটারেজ জাহাজের জন্য নিরাপদে থাকার স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছেনা। কেন আমাদেরকে প্রতিনিয়ত কোস্টগার্ড ও বন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক হয়রানি হতে হয়? কেন সময় অসময় বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট কতৃক জরিমানা করানো হয় সেই জরিমানা কেনই বা মালিকরা পরিশোধ করেন? বর্তমানে কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষের আচরণ দেখে মনে হয় আমরা চট্টগ্রাম বন্দরে উড়ে এসে জুড়ে বসেছি ! আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর তথা দেশের উন্নয়নের কোন অংশীদারিত্ব আমাদের নেই।

জাহাঙ্গীর মাস্টার আরো জানান, উল্লেখ থাকে’যে বিগত দিনে আমরা অনেকবার বন্দর কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সহ বিভিন্ন পক্ষের সহিত বারবার মিটিং করে বলেছি পত্র মাধ্যমেও বলেছি যে তিনটি সমস্যা সমাধান যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে যদি করা হয় তাহলে বন্দর চ্যানেল যেমন নিরাপদ থাকবে তেমনি আমরা লাইটার জাহাজ নিরাপদে থাকবো।

বন্দর চ্যানেল ও লাইটারেজ জাহাজ নিরাপদের স্বার্থে আপনাদের উক্ত প্রস্তাব কি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন জানতে চাইলে মো: জাহাঙ্গীর হোসেন মুঠোফোনে (০১৭১১-০৩৮৬৮৩) অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেন,এই সকল আলোচনা করার পর দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো লাইটারেজ জাহাজের নিরাপত্তার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ কোনো পক্ষই নিতে পারেননি।

তবে, আমরা লাইটারেজ নাবিক/শ্রমিকরা মাননীয় নৌ-প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় চেয়ারম্যান বিআইডব্লিটিএ, মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় চট্টগ্রাম বন্দর, মাননীয় মেয়র মহোদয় চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোন এর সদয় অবগতির জন্য জানাচ্ছি’যে বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে যদি দেখি তবে চট্টগ্রাম বন্দর বরাবরই বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বন্দর দেশের উন্নয়নে যে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে সেখানে লাইটারেজ জাহাজ সেই উন্নয়নের একটি অংশ। তাই লাইটারেজ জাহাজ ও বন্দর চ্যানেল নিরাপদ রাখতে লাইটারেজ শ্রমিক/নাবিকদের নিম্নোক্ত দাবিগুলো মেনে নেয়ার জন্য আবারও উদাত্ত আহ্বান করছি।

দাবি সমূহ:
* সি বীচ এলাকায় একটি সাম্পান ঘাট নির্মাণ করা।
* লোড জাহাজের ড্রাপ সার্ভে সি বীচ সম্পাদন করা।
* সি বিচ অবস্থানরত সকল লাইটারেজ জাহাজে প্রয়োজনীয় বাঙ্কার সাপ্লাই এর অনুমোদন দেওয়া।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত বিষয়গুলি বিবেচনা পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিলে লাইটারেজ জাহাজগুলো অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত নিরাপদে সি বীচ অবস্থান করতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।