ঝিকরগাছা(যশোর) অফিস : যশোরের ঝিকরগাছায় এবারের শীতমৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ সবজি উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে উপজেলার গদখালী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের বারবাকপুর গ্রামব্যাপি সবজি আবাদ চোঁখে পড়ার মত। বাঁধাকপি ও ফুলকপির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এবার ৩শ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি ও ২০/২৫ হেক্টর জমিতে ফুলকপির চাষ হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়া ও কাঙ্খিত বাজারদর পাওয়ায় উৎপাদক কৃষকেরা তাই দারুণ খুশি। প্রতিকেজি বাঁধাকপি বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে ২০/২৫টাকা। পক্ষকাল আগেও বাজারে কপির খুচরা মূল্য ছিলো প্রতিকেজি ৩০/৩৫টাকা। আগাম বাজারজাত করতে পেরে কৃষকেরা লাভের টাকা ঘরে তুলেছেন।
সরেজমিন সবজিপল্লী বারবাকপুর-মধুখালী বিস্তৃর্ণ সবজি ক্ষেতের মাঠে গিয়ে দেখা যায় একের পর এক বাঁধাকপির ক্ষেত। কৃষাণেরা ক্ষেত থেকে বাঁধা ও ফুলকপি তুলতে দারুণ কর্মব্যস্ত। যেন কথা বলার ফুসরত নেই তাদের ! তবে সবার চোঁখে মুখে তৃপ্তির হাসি। কৃষকরা জানিয়েছেন, প্রতিবিঘা জমিতে বীজতলা তৈরি, চারারোপণ, সার, সেচ, কীটনাশক ও পরিচর্যা ইত্যাদি বাবদ খরচ দাঁড়ায় ২০/২৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত কপি প্রতিবিঘায় ৬০/৮০ মন হিসাবে কৃষকের নীট মুনাফা অর্জন করেন ৫০/৬০হাজার টাকা। কথা হয়, ব্রুকলি সবজি চাষে সাড়া ফেলে দেওয়া বারবাকপুর গ্রামের আলী হোসেন জানান, তিনি ৬বিঘা জমিতে ফুলকপি ও ৪বিঘা জমিতে বাঁধাকপির চাষ করেছেন। এবছরও দেড়বিঘা জমিতে ব্রুকলি সবজি চাষের জন্য বীজতলা প্রস্তুত করেছেন।
উদ্যেমী তরুণকৃষক আসলাম খানের সাথে। তিনি জানান, এবছর নিজের তিন বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির আবাদ করেছেন। প্রতিবিঘায় বাঁধাকপি উৎপাদন হয়েছে ৬০/৬৫মন। ফুলকপি ৪০/৪৫মন। কৃষক আব্দুল গফুর, আলাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, আলী নেওয়াজ বাবলু ও সোয়ারাব হোসেন জানিয়েছেন, তারা ১৫/২০বিঘা করে কপির আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। তারা বাজারদর পেয়েছেন প্রতিমন বাঁধাকপি ৮শ থেকে ১হাজার টাকা ও প্রতিমন ফুলকপি ১৭/১৮শ টাকা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গদখালী ইউনিয়নের বোধখানা ব্লকের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আইয়ুব হোসেন জানান, পরিকল্পিত চাষাবাদে তার ব্লকের কৃষকেরা প্রতিবারের মত এবারও সাফল্য অর্জন করেছেন। আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ায় চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন কৃষকেরা। তিনি জানান, চুঁইঝাল ও সজনে আবাদে তার ব্লকের কৃষকদের মাঝে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।