সিঙ্গল মাদার : মহুয়া বিশ্বাস সরকার

সিঙ্গল মাদার
মহুয়া বিশ্বাস সরকার

প্রেম হল একটা অনুভূতির ঐশ্বরিক ভাব…
দুটি আলাদা আলাদা প্রাণির এক সুন্দর অনুভব …
তার সঙ্গে জড়িয়ে ভালোবাসা –
একে অন্যের কাছে আসা..।
সকাল থেকে দুটি বুলবুলি পাখি…
কত যে কথা তাদের….
বোধ হয় ঘর বাঁধার আশা ওদের….

সেই প্রেমই একদিন ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল মেয়েটিকে..
ভালোবাসা জেগেছিল তার বুকে….
লক্ষ লক্ষ প্রদিপ জ্বলে উঠেছিল অন্তরে…
শিহরণ জেগেছিল তার প্রতিটি রোমকূপে….
স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন কলেজে পড়া….
চেনা পৃথিবী ছেড়ে যেন অনাস্বাদিত আনন্দে আত্মহারা…
তৃতীয় বর্ষ শেষ সামনে কলেজের ফাইনাল পরীক্ষা –
লাজুক মেয়েটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিল
সকলের প্রিয় অনন্যা ..।

আসলো বসন্ত –
উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছিল কলেজপাড়া….
সেদিন খুব রং মেখেছিল মেয়েটি…
সে রঙ তার শরীরে যতনা লেগেছিল…
অন্তরে লেগেছিল শতকোটি….
কলেজের ব্যালকনিতে ঠোঁটে ঠোঁটে মিশেছিল সেই রং…
চঞ্চল তাদের নবযৌবন…।

আসলো মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথি –
সেদিন ছিল কলেজে বাগদেবীর আরাধনা…
প্রাক্তন , ওরা পেয়েছে নিমন্ত্রন…
সবাই সেজেছিল মনের মতন..
মায়ের শাড়ির মধ্য থেকে মিষ্টি নরম
সবুজ শাড়িটা সে পড়েছিল ….
মাথায় দিয়েছিল একগোছা জুঁইয়ের মালা….
বিশ্বাসে অনুরাগে ভেসে গিয়েছিল তার ভালোবাসার ভেলা…
সমুদ্রের মাঝ দরিয়ায় ঢেউ উথাল পাতাল করে দিয়েছিল
তার জীবন…..
বাড়ি ফিরতে রাত হয়েছিল সেদিন…সেদিনের সেই ভালোবাসাটাকে অনুভব করেছিল মাস চারেক পরে….
সেদিনের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা কেউ দেয়নি…!
বোকা মেয়েটি যত্ন করে আঁচলে বেঁধেছিল তার সেই ভালোবাসা…. আর অন্যজন..? তার বুকপকেটে ছিল না ভালোবাসার ছিটেফোঁটা …!নিমেষে অস্বীকার করতে সময় নেয়নি একফোঁটা… সেদিন আঁচল থেকে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়েছিল সিক্ত মাটিতে ..
এরপর..? অনেক অনেক চোরা স্রোত বয়ে গিয়েছে…ভিজে যেত তার একলা নির্জন রাত…
চলে যেতে হয়েছিল তাকে অজ্ঞাত বাসে….তার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদ ভেঙে পড়েছিল এক নিমিষে… ।

সেদিন ক্ষণিকের জন্য দেখেছিল সে তার ন মাস দশ দিনে তিলে গড়ে তোলা জীবনের স্পন্দনটিকে….
সকলের অগোচরে চলে যেতে হয়েছিল তাকে অনাথ আশ্রমে…

তার কুমারি মা আজ স্বাবলম্বী….
তোয়াক্কা করেনা সে সমাজের যত হম্বিতম্বি… ।
সন্তান তার মায়ের পরিচয়েই বড় হয়..
চাই না তার বাবার‌ পরিচয়…
সাহসিনী মা তার
গর্বিত মা তার
সমাজের সিঙ্গল মাদার…