বোধন : রীতা ধর

বোধন
রীতা ধর

বিষদগ্ধ নীলাম্বরে ছেয়েছে আকাশ,স্তব্ধ মহাশূন্যের বাতাস
দুর্জয় দাহে অবিরত জ্বলছে গ্রহ নক্ষত্র ,
অহরহ উল্কা বৃষ্টি।
দিকে দিকে লালসার লেলিহান তাপে বিপদের বার্তা।
নীরবে নিভৃতে ভয়ে ভয়ে পরমাদ গুনছে নক্ষত্ররাশি।
নিথর নিস্তব্ধ ত্রিভুবন যেন মহা প্রলয়ের অশনি সংকেত।

ব্রহ্মা বরে মহা বলীয়ান মহিষাসুরের দুর্জয় তাণ্ডব, অশুভ অট্টহাসিতে ঝরে পড়ছে উল্কাপিণ্ড, লণ্ডভণ্ড হলো ত্রিভুবন।
দেবতারা হলেন স্বর্গচ্যুত, সম্ভ্রমহারার আর্তনাদে অস্থির ধরনী,
উদ্ধত খড়্গ হাতে অশুভ শক্তির ঔদ্ধত্য হাসি,কপালে তার রক্ততিলক,চোখে ধ্বংসের দাবানল,আক্রোশ আর
আগুন যেন ফুল্কির মতো গড়িয়ে পরছে কপাল বেয়ে, রক্তযজ্ঞের আয়োজনে, থরথর কাঁপছে স্বর্গ মর্ত্য পাতাল।

মহামায়া, মহাশক্তির আরাধনায় মগ্ন হলেন দেব ঋষি।
আকাশে অমাবস্যার ঘন ঘোর অন্ধকার,তার মধ্যে এক অপূর্ব জ্যোতি থেকে বিচ্ছুরিত হতে লাগলো আগুনের ফুলকি ,,,
ভূলোক দ্যুলোক ভেদ করে প্রকাণ্ড রণ হুঙ্কারে ধেয়ে আসছে এক খানা উদ্ধত খড়গ। হাওয়ায় ভাসছে উগ্রকেশ,বিজলির মতো জ্বলছে চোখ। পাহাড় সমান বজ্রনাদে সৃষ্টি রক্ষায় জাগ্রত হলেন রণ চণ্ডিকা।
ঘন ঘন শঙ্খধ্বনি হতে লাগলো ।

শুরু হলো সমুদ্রের গর্জন আর সিংহের হুঙ্কার সম প্রকম্পিত খণ্ড যুদ্ধ, সূর্যের মতো অনল আর প্রচণ্ড ক্রোধে জ্বলে উঠলো আকাশ, সন্ত্রস্ত স্বর্গ , মর্ত্য ,পাতাল।
রক্তের স্রোতে মিলিয়ে গেল অশুভ শক্তির কর্কশ হাসি।
মহাশক্তির জয়ে আকাশে ভেসে আসে আরাধনা গান।
অসুর মর্দিনী, দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গারূপে আবির্ভূতা হলেন মর্ত্যে, মায়ের আগমনে ; আনন্দে বেজে উঠলো উৎসবের ঢাক, শিউলির গন্ধ আকাশে বাতাসে।
আনন্দের আলোক ধারায়, মন্দিরে মন্দিরে মায়ের স্তোত্রপাঠ,,, ।

“যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥
যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা।
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥