পর্ব (৩৫)
ছলনাময়ী নারী
কাঞ্চন চক্রবর্তী
ভুল পথে হাটতে থাকে তখন সে নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়ে ফেল, বোঝেনা ভাল মন্দের ব্যবধান,আর যদি কেহ ভাল মন্দের ব্যবধান বুঝতেই পারতো তাহলে সে জীবনে কোন দিন ভুল পথে হাটতোনা, হাটার আগে জেনে বুঝে হাটতো, মানব জীবনে কাউকে বিশ্বাস করার আগে তাকে জানতে হবে যে, সে কতটা বিশ্বাসি, সংসার জীবনে অনেকে এমন ভাবে অভিনয় করে যে, তার অভিনয় দেখে মানুষের বাস্তব বলে মনে হয়, মেলাতেই পারেনা যে, সে অভিনয় দেখছে, অভিনয় বাস্তবের মত হয়, কিন্ত কিছুটা ব্যবধান থাকে, আর এই ব্যবধান যে বুঝতে পারেনা সে সংসাস জীবনে হেরে যায়, এটাই হল বাস্তবতা। আবার একটা ফোন এলো, সেটাও ছিল রূবির, রমিজ ফোনটা রিসিভ করতেই রূবি বললো, “আমি সেই দুপুর থেকে গাবতলি গাড়ি নিয়ে বসে আছি তুমি কোথায়?” “১০/১৫ মিনিট সময়ের মধ্যে বাস গাবতলি ঢুকবে তুমি অপেক্ষা কর আমি আসছি” এই কথা বলে ফোনটা কেটে দিল রমিজ, রূবি একটি মাইক্রোবাসে বসে আছে তবে গাবতলি বাসষ্টান্ডের একটু দুরে যেখানে সাধারণ মানুষ কম চলাফেরা করে, এমন একটি জায় গায় মাইক্রটি পার্ক করা আছে, গাড়ির পিছনের সিটে বসা দু’জন মানুষ দেখলে মনে হবে যেন বডিগার্ড,রূবি তাদের ডেকে কানে-কানে কি যেন বললো, তারা দু’জনে “ওকে ম্যাডাম তাই হবে” কথা শেষ না হতেই রমিজ ফোন করলো রূবিকে ফোন রিসিভ করতেই রমিজ বললো “আমি বাস থেকে নেমেছি তুমি কোথায়?” “আমার মাথাটা ব্যথা করছে আমি তোমাকে দেখছি আমি গাড়িতে বসে আছি দু’জন লোক যাচ্ছে

ছলনাময়ী নারী পর্ব (৩৬) 

তোমাকে রিসিভ করতে, তুমি ওদের সাথে চলে এসো” কথা শেষ না হতেই রমিজের সামনে হাজির সেই দু’জন লোক,একজন তাকে বললো “আসসালামো ওয়ালাইকুম দুলাভাই” “আমি জীবনে একবার ও বিয়ে করিনি তোমাদের দুলাভাই হলাম কেমনে? আপনাদের তো চিনতে পারলাম না” “রূবি ম্যাডামের মাথা ব্যথা করেছে তাই ম্যাডাম গাড়িতে বসে আছে, আপনাকে নিয়ে যেতে বললেন” “ও তাই? চলো” রূবি রমিজকে আসতে দেখে পিস্তলটা হাতে নিয়ে গুলিটা লোড করে নিল নিশানা করে রমিজের পাশ দিয়ে যাওয়া একজন পথ চারীকে গুলি করে দিল,সাথে-সাথে লোকটি মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লো,সাথে-সাথে লোকদু’টি রমিজকে কিল ও ঘুষি মারতে লাগলো ঠিক ঐ সময়ে রুবি গাড়ি থেকে নেমে টাকার থলিটা রমিজের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে দৌড়ে পালালো,গুলির শব্দ শুনে টহল পুলিশের দল এসে ওদের তিনজন কে ঘিরে ফেললো,সহকারী পুলিশ অফিসার বললো “কে মার্ডার করলো?” “স্যার এই লোকটা (মৃত্যু ব্যাক্তিকে দেখিয়ে) এই পথচারী কে গুলি করেছে,এ একটা ছিনতাই কারী,এর সাথে আরো লোক ছিল,তারা পালিয়ে গ্যাছে আমরা একে ধরে ফেলেছি, একে থানায় নিয়ে ভাল করে ধুলাই দিলেই আসল সত্তি কথা বেরিয়ে আসবে, পুলিশ অফিসার জিজ্ঞাসা করলো “ঘটনার সময় আপনারা কোথায় ছিলেন?” “স্যার আমার নাম বাবর আলী আর ওর নাম জব্বারালী আমরা দু’জনে গাবতলি আসছি আমাদের একজন মেহমান যশোর থেকে আসবে তাকে রিসিভ করতে, আর ঘটনাটা ঘটলো আমাদের চোখের সামনে” “ঠিক আছে আপনা দের পুরা ঠিকানা বলুন” তারা

ছলনাময়ী নারী পর্ব (৩৭)

তাদের পুরা ঠিকানা বললো, রমিজের কলার ধরে মারতে-মারতে গাড়িতে তুলে নিলো, অফিসার পুলিশকে বললো “লাশ গাড়িতে তোলার ব্যবস্থা করো”
পুলিশ লাশ ও রমিজকে নিয়ে চলে গেল, ওরা দু’জন গাড়িতে গিয়ে বসলো, রূবি দ্রুত সে স্থান ত্যাগ করলো। রূবির লোকেরা রমিজকে এতো পরিমানে পিটিয়েছে যে তার কথা বলার অবস্থায় সে ছিলনা, পুলিশ অফিসার লাশটা পোষ্টমটেম করার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পৌছে দিয়ে রমিজকে নিয়ে চললো থানার, ঐ রাতেই রমিজকে পুলিশ উল্টা করে ঝুলিয়ে বেধড়ক মারপিট করে শিকার উক্তি আদায় করার জন্য, সে জ্ঞান হারিরে ফেলে, পুলিশ তাকে হাঁসপাতালে নিয়ে যায়, এবং জ্ঞান ফিরলে থানায় নিয়ে আসে, পরদিন পুলিশ ৩০২ ধারায় কোটে চালান করে, কোর্টে সরকারী পক্ষের আইনজীবি তার যত রকম আইনগত ভাষা প্রয়োগ করার বা যুক্তি প্রদর্শন করার সে উপাস্থাপন করলো, এবং সাক্ষী প্রতক্ষদর্ষি তার সাক্ষ প্রদান করলো, কিন্তু আসামী রমিজের পক্ষে কোন আইনজীবি তার পক্ষে যুক্তি তর্ক উপাস্থপন করার জন্য কাউকে দেখা গেল না, বিজ্ঞ বিচারক আসামী রমিজ আলীকে বাংলাদেশ দন্ডবিধি ৩০২ ধারা মতে দোষি সাবস্ত করে ৩২ বছর সস্রম কারাদন্ড ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৫বছর বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ প্রদান করলেন। আসামী রমিজআলী রায়ের ঘোষনা শোনার পর কান্নায় ভেঙে পড়লো। আসামী রমিজ আলীর ভাই ও ভাবি আজও জানতে পারেনি রমিজআলী এখন কোথায় কিভাবে আছে। এই গল্পটি আসামী রমিজআলীর মত যেন আর কারও জীবনে এমন ঘটনা না ঘটে।
এটাই হোক সমাজের কাছে আমার প্রার্থনা
যবনিকা
সুধী, পাঠক ভাই বোন বন্ধু যদি ছলনাময়ী নারী গল্পটি পড়ে আপনাদের মনে সামান্য দাগকাটে, তাহলে আগামীতে ২৫ পর্বের ধারাবাহিক উপন্যাস না ফোঁটা কলির গল্প, ও ২৬৮পর্বের ধারাবাহিক উপন্যাস অর্পণ পড়ার জন্য অনুরোধ রইলো।
বিনিত কাঞ্চন চক্রবর্তী