ছলনাময়ী নারী : কাঞ্চন চক্রবর্তী

পর্ব (৩৩)
ছলনাময়ী নারী
কাঞ্চন চক্রবর্তী

আর সহি করো” (রমিজের হাতে টাকার থলিটা দিয়ে) রমিজ বান্ডিল
গুলি গুনে বুঝে নিল চলেন চাচা, কাজটা শেষ করে আমাকে দ্রুত যেতে হবে” “হ্যা চলো বাবা” মহাজন ও রমিজ সাবরেষ্ট্রার অফিসারের রূমে ঢুকে সহি সম্পাদন করে বেরিয়ে গেল “চাচা আমি বিদায় নিচ্ছি” “ঠিক আছে” রমিজ টাকার থলি হাতে নিয়ে বিদায় নিল,মহাজন যতদূর চোখ যায় ততদূর চেয়ে রইলো (স্বগতভাবে) এবং বললো “এই জামানায় এতো বোকা মানুষ ও আছে? এক কোটি টাকার সম্পতি মাত্র পঞ্চাশ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে, এমন বোকা মানুষ যদি জীবনে আমি আর একটা পাই তাহলে আমার কোটিপতি হতে কেউ ঠ্যাকাতে পারবেনা হা-হা-হা।” সাবরেষ্ট্রার অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা একটা রেষ্টুডেন্টে এসে নিজেকে ফ্রেস করে এক কাফকফি পান করতে-করতে ভাবতে লাগলো দিনের গাড়িতে যাবো নাকি রাতের গাড়িতে যাবো? যদি রাতের গাড়িতে যাই তাহলে এখন সময় সকাল মাত্র ১১টা, রাতের গাড়ি সেই রাত ১১টা অথবা ১২টা আর আমার কাছে এতোগুলি টাকা যদি কোন ছিনতাই কারি অথবা ডাকাত জানতে পারে তাহলে সব শেষ, যদি কেহ জানতে নাও পারে তাহলে এতোগুলি টাকা নিয়ে কোথায় বসে অপেক্ষা করবো? আর যদি দিনের গাড়িতে যাই তাহলে অনন্ত গাড়িতে তো বসে থাকতে পারবো, আর পৌছে যাব সন্ধ্যা ৬/৮ টায় মাঝে, রমিজ শেষমেষ অনেক চিন্তা ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিল সে দিনের গাড়িতেই ঢাকা যাবে,কফির টাকা পরিশোধ করে একটা রিক্সা ডেকে তাতে উঠে পড়লো এবং

ছলনাময়ী নারী পর্ব (৩৪)
বাস কাউন্টারে যাবার নির্দেশ দিল, বাস কাউন্টারে এসে জানতে পারলো আর কিছুক্ষণ পরে অর্থাৎ ১২:২০ মিনিটে গাড়ি ঢাকার উদ্দ্যেশে ছাড়বে, তাই আর দেরি না করে সে দ্রুত টিকেট সংগ্রহ করে বাসে চেপে বসলো। কিছুক্ষণ পরে ফোনটা বেজে উঠলো,রমিজ ফোনটা রিসিভ করতেই ও প্রান্ত থেকে রূবি বললো “এখন কি করছো কোথায় আছো ডার্লিং?” “আমি আসছি বাসের মধ্যে” “ও তুমি বাসে উঠে পড়েছে, আমার যে কি আনন্দ লাগছে তা আমি তোমাকে বলে বোঝাতে পারবো না, তা টাকার কি হলো? সেটা তো বললে না!” “ওটা আমার কাছেই আছে ফোনে এতো কথা বলা যায় না তাই এসেই সব কথা বললো” “আচ্ছা তুমি গাবতলি এসে আমাকে ফোন দিও আমি তোমাকে রিসিভ করতে আসবো, ওকে তাই হবে এখন রাখছি” রমিজ ফোনটা কেটে দিয়ে ভাবছে, জমিটা বিক্রি করার আগে যে বাড়িটা কিনবো সেটা একবার দেখে শুনে কাগজ পত্র ঠিকঠাক আছে কিনা তা যাচাই বাছাই করা দরকার ছিল, শুধু মাত্র একটি মেয়ের কথা বিশ্বাস করে সহায় সম্পত্তি সব বিক্রি করে দেয়া কি সঠিক হলো?যদি রূবি নবাব সিরাজের খালা ঘোষেটি বেগম এর মত বিশ্বাস ঘাতকতা করে তাহলে আমাকে পথে বসতে হতেও পারে, আবার তার প্রয়োজনে নিজের যৌবন টাকে পুজি বানিয়ে আমার সাথে ছলনাময়ী নারীর মত অভিনয় করবে নাতো? সাথে ছলনা করে যদি হত্যা করে টাকাগুলি নিয়ে চম্পট দেয় তাহলে আমার কি হবে? আমি তো বাড়িতে ভাই ভাবিকে কিছু বলে আসেনি, তাহলে আমি কি ভুল করলাম? নাকি আমি ভুলের সাগরে ডুবে যাচ্ছি তা আমি নিজেও জানিনা, মানুষ নিজে যখন
চলবে- – – –