যশোরের গ্রামীন সড়ক চলাচল উপযোগী রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এলজিইডি । টাইম ভিশন ২৪

টাইম ভিশন ডেস্ক: মুজিব বর্ষ উপলক্ষে এলজিইডি যশোরের ২ হাজার কিলোমিটার সড়ক সংস্কার শুরু করেছে। বছর জুড়ে এই সংস্কারকাজ চলবে। স্থানীয় পর্যায়ের ১ হাজার ১৩১ জন নারী জেলার বিভিন্ন এলাকার এই সংস্কার কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া মুজিব বর্ষে অক্টোবরকে এলজিইডি রক্ষণাবেক্ষণ মাস উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেয়ায় নিয়মিত এই কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদারকি করা হচ্ছে।

যশোর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, যশোর জেলায় এলজিইডির আওতায় মোট ৯ হাজার ২৪১ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৯৪৫ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক ও ৭হাজার ২৪৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। যার মধ্যে পাকা সড়ক আছে ৩ হাজার ২৬১ কিলোমিটার।

যশোরের গ্রামীন সড়ক চলাচল উপযোগী রাখতে
নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে এলজিইডি । টাইম ভিশন ২৪

সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে যশোরের ৮টি উপজেলায় ৯৩ টি ইউনিয়ন পরিষদে সড়ক সংস্কার শুরু হয়েছে। এলজিইডি’র সড়কসমূহের মধ্যে থেকে ২ হাজার কিলোমিটার যানবাহন চলাচলের উপযুক্ত রাখার জন্য সড়কের দু’পাশের মাটি (আর্থ সোল্ডার) নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (রুটিন মেইনটেনেন্স) করা হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমাণ রক্ষণাবেক্ষণ (মোবাইল মেইনটেনেন্স) টিমের মাধ্যমে সড়কের ফুটপাত, গর্তসহ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হচ্ছে। যশোর এলজিইডি’র তত্ত্বাবধায়নে ১হাজার ১৩১জন নারী নিয়মিত জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়কের মেরামতের কাজ করে চলছেন।
গত ১ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য পুলেরহাট-রাজগঞ্জ-কুমিরা সড়কের ফুটপাতের কাজ দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ মাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়ক সংস্কারের কাজ এলজিইডি যশোরের প্রকৌশলী মীর্জা মো. ইফতেখার আলীর তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে।
সোমবার এলজিইডি’র খুলনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মোখলেসুর রহমান মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ জিসি-খরদো জিসি সড়কে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা মো. ইফতেখার আলী ও মণিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম।
এলজিইডি সূত্র আরও জানায়, এলজিইডি’র সড়ক প্রধানত গ্রোথসেন্টার ও বাজার, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, খামার, আর্থিক, শিক্ষা, সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান এবং পল্লীসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে যাতায়াত সুগম করেছে। যার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষি পণ্য বাজারজাতকরণ সুবিধা, খামার পর্যায়ে কৃষি উপকরণ সহজলভ্যকরণ সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক সেবা সাধারণ প্রান্তিক পল্লী জনগোষ্ঠির দোরগোড়ায় পৌঁছাতে অসামান্য অবদান রেখেছে। যেহেতু দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশই পল্লী এলাকায় বাস করে সেহেতু দেশের অধিকাংশ জনগণের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতি বিকাশে এলজিইডি বিশেষ অবদান রাখছে।
মুজিববর্ষ ছাড়াও যশোর এলজিইডি নিয়মিত তাদের আওতায় থাকা গ্রামীণ ও পাকা সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যার আলোকে যশোরে মহাসড়কের তুলনায় গ্রামীণ সড়কগুলোর মান ভালো।
এ প্রসঙ্গে যশোর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা মো. ইফতেখার আলী বলেন, গ্রাম বাংলার মান উন্নয়ন হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরো বেগবান হবে। এলজিইডি এ লক্ষেই কাজ করে চলছে। যশোরের উপজেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রামের সড়কগুলো জনসাধারণের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে জেলার অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করতে তারা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।