ছলনাময়ী নারী : কাঞ্চন চক্রবর্তী

পর্ব (৩০)
ছলনাময়ী নারী
কাঞ্চন চক্রবর্তী

রমিজ রূবিকে বর্তমান পরিস্থিতি জানানোর জন্য পথের মাঝে ফোনটা হাতে নিয়ে ডায়াল করলো এবং রূবিকে সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিল,রূবি আনন্দে যেন দিশেহারার মত করে বললো “তুমি যদি রবিবার টাকাটা হাতে পেয়ে যাও তাহলে রাতে তুমি বাসে উঠে পড়বে সোমবার সকালে আমাদের স্বপ্নের ফ্লাট রেজিষ্টি হয়ে গেলেই পরদিন আমাদের বিয়ে হবে,আমার যে কি আনন্দ হচ্ছে আমি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা, আমি সমস্ত কাগজপত্র রেডি করে রাখবো, তুমি এলেই কাজ শেষ,হিপ্পি ফুরে” রূবি ফোনের মাধ্যমে রমিজকে কিচ্ করলো, “তাহলে ঐ কথাই রইলো ডার্লিং এখন রাখছি বাই।” রমিজ ফোনে কথা শেষ করে বাড়িতে প্রবেশ করতেই সামনে দারোয়ানের ন্যায় সামনে দাড়িয়ে আছে ভাবি, ভাবিকে হঠাৎ সামনে দেখে চমকে উঠলো রমিজ,ভাবি সামনে দাড়িয়ে “এমন করে আমার পানে চেয়ে আছে কেন?” তাহলে ভাবি কি সবকিছু জানতে পেরে গেল? কিন্তু তা কেমন করে? না-না এসব আমার মনের ভ্রমমাত্র, “কি ব্যাপার আমাকে দেখে তুমি থমকে গেল কেন?” (রশিকতা করে) আমার একমাত্র দেবরকে এই গ্রামের সব চেয়ে ধনি মানুষটির কন্যা নিজে এসে নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে আদর দিয়ে সোহাগ দিয়ে ভরিয়ে তুললো, আর আমি তা জানতেও পারলাম না?” “ভাবি কি যে বলো! তেমন কিছুনা” “তাহলে কিছুটা কি রমিজ ভাই? তোমার যেমন সিনেমার নায়কের মত রূপ তাতে গ্রামের সব মেয়ে রাই তোমাকে বিয়ে করতে চাবে,

চলবে- – – –

পর্ব (৩১)
ছলনাময়ী নারী
কাঞ্চন চক্রবর্তী

তোমার ভাইয়ের সাথে যদি আমার বিয়ে না হতো তাহলে আমি তোমাকেই বিয়ে করতাম” “ভাবি এসব কথা বলতে তোমার লজ্জা করেনা?” “লজ্জা থাকলে কি আর প্রেম করা যায়? লজ্জা সেতো নারীর ভূষণ, পুরুষের ভূষণ তো নয়” “ধ্যাৎ তোমার সাথে কথাই বলা যায়না” রমিজ চলে গেল তার নিজ ঘরে, দখিনা জানালা খোলা ঝিরি-ঝিরি বাতাস এসে লাগছে তার গায়ে আর মনটা যেন উচাটন হয়ে যাচ্ছে,কোন কিছুতেই যেন তার মন বসছেনা কেবল মাত্র মনে পড়ছে রূবির কথা, আর সেই রাত গুলির কথা,সে যেন মন থেকে সরাতেই পারছেনা, প্রেমে পড়লে কি এমন হয়? জীবনে কোন দিন সে প্রেম করেনি,কেউ তাকে প্রেমের প্রস্তাব ও দেয়নি, তার পর সে নারীদেহের স্বাদ প্রথম পেল, এই বয়সে এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক, তাছাড়া রূবির টগবোগে উঠতি যৌবন,বয়স আর কত হবে বড় জোর ২০/২২, অথবা রমিজের সম বয়সি হবে, প্রেমে বয়স কোন বাধা নয়, ভালবাসা যেমন জাত বিচার করেনা তেমনি বয়সের বিভেদ ও দেখেনা এটাই বাস্তব, রমিজ সব সময়ে কেমন জানি কোন গভীর ভাবনার মাঝে হারিয়ে যাচ্ছে ভাবি সেটা কিছুটা হলেও আগাম আভাস পেয়েছে, কিন্তু বার-বার রমিজকে ভাবি জিজ্ঞাসা করে ও কোন প্রকার প্রতিকার করতে পারেনি,কারণ সব সময় সে কথাটা তুললেই সে এই বিষয়টা এড়িয়ে যায়, শেয়ার করলে ভাই ভাবি যদি সেটা মেনে না ন্যায় সেই ভয়ে, আর বিয়ের আগে এসব কিছুর ব্যাপারে জানা জানি হোক সেটা চায়না রমিজ, তাই মূখে কুলুব এটে বসে আছে, তাইতো কবি বলেছেন,

চলবে- – – –