কবিতা : ধর্ষণ ১/২

১. ধর্ষণ

ওরা দুই অথবা চার কিংবা তারও অনেক বেশি
এক নারীকে সম্ভোগে ভাগ করে খেতেই বিশ্বাসী
ওরা স্বামীকে বেঁধে রেখেই করে অত্যাচার
পাশবিকতার চরমে উঠে চালায় ব্যাভিচার।

ওরা জাহেলী যুগের ঘন অন্ধকারে সভ্যতাকে টেনে নামায়

ওরা কামপিপাসু পৈশাচিক উল্লাসে নারীদেহ ছিঁড়ে খুঁড়ে খায়।

ওরা অমুক-তমুক বড় বড় দলের ছত্রছায়ায় থাকে

সুযোগ পেলেই আমার মা,বোন,সহপাঠীকে লোটে।

ওরা দোহাই দ্যায় পোশাকের

চালচলন আর হাসি কলরবের।

ওরা প্রাণোচ্ছ্বল প্রাণকে চেপে ধরে
ফাঁকা রাস্তায় অকস্মাৎ
মানুষরূপি জানোয়ার, ওরা ধর্ষক শ্রেণী-গোষ্ঠী বেজন্মার জাত!

ওরা মানে না আইনের শাসন,থোড়াই কেয়ার করে

মানুষের কান্না দেখে মুখ টিপেটিপে শুধু মুচকি হাসে।

ওরা জেনে গেছে অন্তর্ভেদী আইনের মূল কথা

ওরা জানে বড়দল বড় ভাইয়ের আশ্রয়ে থাকা।

ওদের কিচ্ছু হয় না, হবেও না জানি কোন কালে
দু’ই চারদিন লাফালাফি করে সবাই যাবে থেমে।

রাস্তার মোড়ে আবারও ধরবে হাত
সুযোগ পেলে ঝরাবে পুরুষাঙ্গের লালা
প্রকাশ্য রাস্তায় করবেই বাজিমাত
মিটাবে নির্লজ্জ কামুক জ্বালা।

ওরা ছলে-বলে-কলে মানুষের মুখোশে
মানুষের মাঝে থাকে
সুযোগ পেলেই শিশ্ন উঁচিয়ে পলাপালি কুক
নস্টালজিক হয়ে পড়ে।

ওরা দারুন আবেগী, দারুন বিবাগী
ওরা বহু মত বহু পথের বৈরাগী
এক নারী দেহ ছিঁড়েখুঁড়ে খায়
ওরা সম্ভোগে সমভাগে বিশ্বাসী।

ওরা মনুষ্য সমাজের কেউ নয়
শিশ্ন ধারী কুৎসিত জঙ্গী নিশ্চয়
ওদের ক্ষমা করা নির্বুদ্ধিতা সভ্যতার বিপর্যয়।

ওদের গর্বের শিশ্ন শুধুই অনিষ্ঠ তরে
ধরে যাঁতাকলে কেটে দাও কুট্টুস করে
ওদের অন্ডকোষ ইটে দাও ছেঁচে

আইন কানুনের ধার ওরা কোনকালেই ধারে না
ওদের বিচার বিলম্ব করা মোট্টেও সমুচিন না
রাস্তার মোড়ে দাড় করিয়ে মারো
ছেঁড়া জুতো গালে গালে
কুকুর দিয়ে পেছন মারাও
দেখি তো কেমন লাগে!

আর কতো কুলাঙ্গার দাপাবে বাংলায়
বাংলার মাটি করে ভ্রুকুটি
ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই,ধর্ষকের ঠাঁই নাই।

২. “না”

দু’চারটি কথা পরস্পর পাশাপাশি এক লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লো
কথাদের মাঝে শেকল তৈরি হলো
পূর্ণ প্রকাশে চিৎকার করলো, প্রতিবাদ জানালো।

ঘটনার ঘনঘটা পুণঃপুণঃ পুনরাবৃত্তি
বিচারহীন নির্মমতা দেখেশুনে
কথাগুলো অবরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল,
বোবা হয়ে গিয়েছিল।

অবশেষে,
বাকযন্ত্রের নানা প্রকোষ্ঠে মাথা কুটে
লিখিত অঙ্গিকারনামা হাতে প্রকাশ্যে
রাস্তায় এসে দাঁড়ালো।
চলমান বিভৎস্যতাকে রুখে দিতে
উদ্যত হলো, সোচ্চার হলো
প্রতিটি তেজদীপ্ত কণ্ঠস্বর ছিঁড়ে খুঁড়ে
সম্মিলিতভাবে উচ্চারিত হলো…. “না”

আর কোন নারী ধর্ষিতা হবে না
আর কোন ধর্ষক পার পাবে না
আর কোন অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না
না….না….না।

যাদু
যশোর।