ছলনাময়ী নারী : কাঞ্চন চক্রবর্তী

পর্ব (২৮)
ছলনাময়ী নারী
কাঞ্চন চক্রবর্তী

হাবভাব দেখে তো মনে হয়না সে গরীর ঘরের মেয়ে, সে যে বড়লোক ঘরের মেয়ে মানে তাতে কোন প্রকার সন্দহের অবকাশ নেই, তাছাড়া বাড়িটা যখন আমার নিজের নামে কেনা হবে তাহলে আমার তো কোন প্রকার লোক শানের চক্কর দেখিনা, তাছাড়া সন্দহের কোন কাজ সে এ পর্যন্ত করেনি, তাই তাকে বিশ্বাস করা যায় শতভাগ,যাহোক টাকাটা হাতে পেলেই রমিজ রূবিকে ফোন দিয়ে জানাবে,এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রতিদিন২/১ বার রূবি রমিজের খোঁজ খবর নেয়, কোথায় আছো কেমন আছো ভাল মন্দ সব রকম খোঁজ খবর রাখে, মাদকদ্রব্য হিরোইন যেমন একবার ধরলে আর ছেড়ে দেওয়া কঠিন তেমনি রূবিকে তার ভুলে যাওয়া বা মন থেকে মুছে ফেলা তার থেকে অধিক কঠিন,লেখাপড়া শিকেয় উঠে গেছে, মনের মাঝে শুধু একটাই জপ করতে থাকে রূবি রূবি আর রূবি, এমন ভাবে চললো বেশ কিছুদিন দিনটা ছিল শুক্রবার বাংলাদেশে সরকারী ছুটির দিন তাই কলেজ বন্ধ, সকাল এগারোটা বেজে গেছে, রমিজ অঘোরে ঘুমোচ্ছে এমন সময়ে রমিজের ঘরে চুপি-চুপি প্রবেশ করলো মহাজনের মেয়ে, সে রমিজকে কয়েকবার ডাকলো কিন্তু সে সাড়া দিলনা,রমিজের নাম ধরে ডাকা এবং নারীকণ্ঠ শুনে ভাবি পাশের ঘর থেকে এগিয়ে এলো “কে কে ও ঘরে?” “ও তুমি!তা কি খবর?” “রমিজভাইকে আব্বু একবার ডেকে পাঠিয়েছে তাই সংবাদটা রমিজ ভাইকে দিতে এলাম” রমিজ চোখ মেলে মহাজন কন্যাকে দেখে রীতিমত অবাক হয়ে তার পানে চেয়ে রইলো, কি ব্যাপার

ছলনাময়ী নারী (পর্ব ২৯)
তুমি আমাদের বাড়ি?” “কেন আসতে নেই নাকি?” “না আমি তা বলিনি,কোনদিন আমাদের বাড়িতে আসনি তো তাই” “কোনদিন আসেনি তো কি হয়েছে?এমন তো হতে পারে সারা জীবনের জন্য আমি এই বাড়িতে চলে এলাম” “থাক হিয়ালি ছেড়ে কি বলতে এসেছো তাই বলো” “সেটা বলার আর সময় দিলেন কোথায়? আব্বু আপনাকে দেখা করতে বলেছে” “ঠিক আছে তুমি যাও আমি আসছি” “ওকে ঠিক আছে তাই হবে জনাব” কথা শেষ করেই ঠোঁটে যেন একটা যৌনতার ছাপ এঁকে দৌঁড়ে চলে গেল। ভাবি পাশে দাড়িয়ে সব কিছু অবলোকন করে জিজ্ঞাসা করলো “কি ব্যাপার রমিজভাই, (রসিকতা করে) নাটকের দৃশ্যে মনে হয় প্রেমের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে?” “কি যে বলো ভাবি মেয়েদের দেখলেই কি মনে হয় আমি প্রেম করছি?” “না আবার হতেও তো পারে! ঠিক আছে তুমি মুখ ধুয়ে এসো আমি নাস্তা দিচ্ছি।” রমিজ হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা শেষ করে বেরিয়ে পড়লো মহাজনের বাড়ির উদ্দ্যেশে,মহাজন বৈঠক খানায় বসে অপেক্ষা করছে রমিজের জন্য, রমিজ ছালাম দিয়ে প্রবেশ করে বসলো চেয়ারে, “বাবা রমিজ তোমার টাকা রেডি আল্লাহপাক চায়তো আগামী রবিবার তুমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে পারো,তুমি যদি রাজি থাকো তো আমি সমস্ত কাগজ পত্র ঠিকঠাক করে রাখবো তুমি শুধু সাক্ষর করে টাকাটা বুঝে নিলেই হয়” “ঠিক আছে চাচা আপনার কথা মতই কাজ হবে তাহলে ঐ কথাই রইলো আজ আসি চাচা,ঠিক আছে বাবা তুমি ঠিক সময়ে এসো কিন্তু” রমিজ চলে গেল মহাজন মুচকি হেসে বাড়ির ভিতর চলে গেল।

চলবে- – – –