শালিখায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে মৃৎশিল্পীরা

নাজমুল হক, শালিখা থেকে: বাঙ্গালী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এ দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। পূজা শুরুর নিদৃষ্ট সময়ের আগেই মা দুর্গাকে পরিপূর্ণরূপে তুলতে হবে মণ্ডপে। সেজন্য মৃৎশিল্পীরা দিন রাত ব্যস্ত প্রতিমা তৈরীর কাজে। ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাঠামোর মাটির কাজ শেষ করে শুরু হয়েছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গা তার বাহক সিংহের প্রতিমাসহ তৈরি করা হয়েছে মহিষাসুরের প্রতিমা। এছাড়াও দেবী লক্ষী, সরস্বতী, দেবতা কার্তিক, গণেশ, এবং তাদের বাহক পেঁচা, হাঁস, ইঁদুর আর ময়ূর। প্রতিমা তৈরিতে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। উপজেলার দরিশলই গ্রামের মৃৎশিল্পী নির্মল কুমার পাল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত একমাস ধরে তারা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন। প্রতিবছরই তারা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজ করেন, শুধুমাত্র জীবিকার জন্য নয় দেবী দুর্গা প্রতিমার মূর্তি তৈরিতে রয়েছে তাদের শিল্প সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতি ভক্তি আর ভালোবাসা মৃৎশিল্পী নির্মাল কুমার জানান দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর সাত থেকে আটটি প্রতিমা তৈরি করেন তিনি কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর কারণে এবারে পূজামণ্ডপের সংখ্যা কম হলেও তিনি উপজেলার চুকিনগর,গড়াপাড়া,পোড়াগাছি, কালীবাড়ি সহ ৬টি প্রতিমার কাজ করছেন বলে জানান। ৬ কার্তিক দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে দেবী দুর্গার আগমনের প্রহর গোনা চলছে মণ্ডপ তৈরি সাজসজ্জার কাজ। শালিখা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী সীতান চন্দ্র বিশ্বাসের কাছ থেকে জানা যায় বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস এর কারণে সাস্থ্য বিধি মেনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আকার সীমিত হলেও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাঝে দুর্গা উৎসবকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই অন্যান্য বছরের মতো এবার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১১৫টি পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান।