যশোরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি পেশ

যশোরে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপি পেশ। টাইম ভিশন ২৪

যশোর অফিস : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষী সুরক্ষা আইনকে পাশ কাটিয়ে ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী ও তাদের স্বজন এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতার নামে মামলা-হামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে এবং সাক্ষী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবিতে আজ সোমবার প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি যশোর জেলা শাখা। এর আগে সকালে একই দাবিতে যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খানের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জেলা সভাপতি হারুণ অর রশীদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদ রহমান বকুল। সংগঠনের জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন দদুল, সৈয়দ আবুল কালাম শামছুদ্দীন জ্যোতি, প্রণব দাস, খবির শিকদার, শ্যামল শর্মা প্রমুখ। আরো উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী খলিলুর রহমান @ খোকন বিশ্বাস, ইছাহাক মোল্যা, আব্দুল হক, আলাউদ্দীন বিশ্বাস, এহিয়ার রহমান, রতন বিশ্বাস, ডা. বিএম রুহুল আমিন।
লিখিত বক্তব্যে সভাপতি হারুণ অর রশীদ ২০১৭ সালে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার আমজাদ হোসেন মোল্যার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার শুরু থেকে এই মামলার সাক্ষী, তাদের স্বজন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা ও তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা মামলা ও হয়রানির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, অনতিবিলম্বে আমজাদ রাজাকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইগনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাক্ষীদের সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত করা না হলে আগামীতে সাক্ষীদের পক্ষে আর সাক্ষ্য প্রদান করা সম্ভব হবে না। যাতে করে বাঁধাগ্রস্থ হবে মামলার বিচার কাজ।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, আমজাদ রাজাকার ও তার পরিবারের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমজাদ রাজাকারের পুত্রবধূ সংসদ সদস্যের ন্যাম ফ্লাটে যেয়ে তাকে মিষ্টিমুখ করানোসহ আমজাদ রাজাকারের সভাপতিত্বে ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত বৈশাখী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি। যে কারণে আমজাদ রাজাকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন আইনগত ব্যবস্থা আজো গৃহিত হয়নি।
আর সে কারণেই আজকের সংবাদ সম্মেলন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে রাষ্ট্রের উর্ধ্বতনদের দৃস্টি আকর্ষণ করে সাক্ষীদের সুরক্ষা ও তাদের হয়রাণি থেকে রক্ষাসহ আমজাদ রাজাকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ জুন মধ্যরাতে ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী এহিয়ার রহমানের চাচাতো ভাই খালেক মোল্যার উপর হামলা করে আমজাদ রাজাকার বাহিনী। এবং ওই দিনই ভোরে সাক্ষী এহিয়ার রহমানকে অপহরণ করে আমজাদ রাজাকারের ভাগ্নে জাহিদুল বিশ্বাসের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। এ সময় স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকজন একত্রিত হয়ে এহিয়ার রহমানকে উদ্ধার করতে গেলে সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। যেখানে আহত হন সন্ত্রাসীদের পক্ষের জনৈক ছবেদ আলী। পরবর্তীতে আহত ছবেদ আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের দুই ছেলে পৃথক দুটি মামলা করে। যেখানে আসামি করা হয় বাঘারপাড়া উপজেলা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান শাওনকে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন তুলে ধরে একজন ব্যক্তির দুই ছেলে দুই রকম এজাহার বর্ণনা দিয়ে দু’টি মামলা করায় কী প্রমাণ করেনা এই মামলাটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। বর্তমানে মামলাটি সিআইডি যশোরে তদন্তাধীনে আছে। এবং সিআইডি’র কাছে এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা বা সাক্ষী ও তাদের স্বজনরা যদি দোষী হয় তাহলে তাদেরকে আইন শাস্তি দিক। কিন্তু কোনরূপ হয়রানি যেন তাদেরকে করা না হয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমজাদ রাজাকার গ্রেফতার হওয়ার ১৫ দিন আগে প্রথমে সাক্ষী এহিয়ার রহমানের দোকানে হামলা করে ভাংচুর করে এবং অপর এক সাক্ষী ইছাহাক মোল্যার নাতি ছেলে নিজাম মোল্যাকে মারপিট করে জখম করে। তারপর একের পর এক করা হয়েছে হামলা মামলা। এমনকি রাজাকার আমজাদের সন্ত্রাসী বাহিনী মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খাঁন (বিপিএম, পিপিএম(সেবা)-এর গাড়িবহরেও হামলা করে। এছাড়া সন্ত্রাসীরা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির বাঘারপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান শাওনের গ্রামের বাড়িতে হামলা করে তার ছোট ভাই সাকিব আল হাসান সুমনকে আহত করে। তারপর ওই সন্ত্রাসীরা সাক্ষী এহিয়ারের ভাইপো জহিরকে কুপিয়ে জখম করে। এছাড়াও যশোরে আদালত চত্বরে সাক্ষীর উপর হামলা করাসহ একাধিকবার বিভিন্ন সাক্ষীর ফলজ বাগান কেটে দেয়া, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাটের ঘটনার বর্ণনা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।